ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালের আশা বাচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-২৪৯/৭

আফগানিস্তান-২৪৬/৭

বাংলাদেশ ৩ রানে জয়ী 

রফিকুল ইসলাম মিঞা : আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ। গতকাল আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে করেছিল ২৪৯ রান। জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে টার্গেট ছিল ২৫০ রান। জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে আফগানিন্তান ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান করলে বাংলাদেশ জয় পায় ৩ রানে। অবশ্য জয়ের খুব কাছে গিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি দলটির। চরম প্রতিদ্বন্ধীতাপূর্ণ ম্যাচে শেষ হাসি হাসে টাইগাররাই। এই জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার আশা ভালো ভাবেই বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই ফাইনালে উঠে যাবে। আর বাংলাদেশের কাছে হেরে ফাইনালের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেল আফগানদের। 

জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে টার্গেট ছিল ২৫০ রান। টার্গেটটা খুব বড় না হলেও চ্যালেঞ্জিং ছিল। আর ব্যাট করতে নেমে আফগান্তিান দলীয় ২০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দলীয় ২৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। ৮ রান করে মোস্তাফিজের বলে শান্তকে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার ইনসানুল্লাহ। আর মাত্র ১ রান করে রান আউট হয়ে ফিরেন ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামা রহমত শাহ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ভালোই ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে নিয়ে ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ দলকে ভালোই এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাংগার আগেই আফগানিস্তান পৌছে যায় ৮৯ রানে। ওপেনার শাহজাদের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। তবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বলে বোল্ড হওয়ার আগে শাহজাদ ৮১ বলে আট চারে করেন ৫৩ রান। শাহজাদ আউট হলেও অধিনায়ক আসগর আফগানকে নিয়ে জুটি করে দলকে এগিয়ে নেন। এই জুটি দলকে নিয়ে যায় ১৬৭ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ৭৮ রান। অধিনায়ক আসগরের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। মাশরাফির বলে আউট হওয়ার আগে ৪৭ বলে ৩৯ রান করেন আসগর। দলীয় ১৯২ রানে বিপদজনক হয়ে উঠা হাসমতউল্লাহকে ফিরান মাশরাফি। তবে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৭১ রান। ৯৯ বলে ৫ চারে সাজানো ছিল তার ৭১ রানে ইনিংস। তবে মোহাম্মদ নবী আর সানাউল্লাহ শেওয়ারী মিলে দলকে জয়ের খুব কাছেই নিয়ে গিয়েছিল। তবে নবীকে ৩৮ রানে বিদায় করে সাকিব সে পথে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাট করতে নেমে রশিদ খান মোস্তাফিজের বলে আউট হলে দলটির জয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সানাউল্লাহ ২৩ রানের অপরাজিত থাকলেও দলকে জয়ী করতে পারেননি। কারণ ২৪৬ রানে থেকে যায় দলটি স্কোর। আর বাংলাদেশ জয় পায় ৩ রানে। বাংলাদেশে পক্ষে মাশরাফি আর মোস্তাফিজ নেন ২টি করে উইকেট। 

গতকাল টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না করলেও শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ২৪৯ রান। দলীয় ৮৭ রানে প্রথম ৫ উইকেট হারানোর পরও এটা সম্ভব হয়েছে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ-ইমরুল কায়েস জুটির ১২৮ রানের উপর নির্ভর করে। রিয়াদ ৭৪ রানে আউট হলেও ইমরুল কায়েস ৭২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ২৪৯ রানে নিয়ে যান। অবশ্য ব্যাট করতে নেমে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সাবধানেই শুরু করেন লিটন কুমার দাশ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্ত। মাত্র ৬ রান করে আফতাব আলমের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন রহমত শাহ'র হাতে। ফলে দলীয় ১৬ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট। ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও। মাত্র এক রান করে মুজিব উর রহমানের বলে এলবি আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ফলে দলীয় ১৮ রানে প্রথম দুই উইকেট হারিয়ে প্রথমে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে চাপে পড়া দলকে এগিয়ে নিতে লিটনের সাথে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকুর রহিম তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে ভালোই এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাংগার আগে বাংলাদেশ পৌছে যায় ৮১ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ৬৩ রান। ওপেনার লিটনের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। রশিদ খানের বলে আউট হওয়ার আগে লিটন ৪৩ বলে তিন চারে করেন ৪১ রান। আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থ লিটন এই ম্যাচে কিছুটা ভালো রান পায়। তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে স্বস্তি এনেছিলেন লিটন কুমার দাশ ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু পরের তিন ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। লিটনের বিদায়ে দলের হাল ধরতে মাঠে নেমেছিলেন অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান। কিন্তু সাকিব সবাইকে হতাশ করেন। মুশফিকের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয় সাকিবের। ফলে সরাসরি থ্রোতে সাকিবকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান সামিউল¬াহ শেনওয়ারি। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেন সাকিব। ফলে দলীয় ৮১ রানে আরো একটি উইকেট হারায় টাইগাররা। এখানেই শেষ নয়, দলীয় ৮৭ রানে বাংলাদেশ হারায় গুরুত্বপূর্ন মুশফিকের উইকেট। এবার ভুল বোঝাবুঝির স্বীকার হন মুশফিকুর রহিম নিজেই। ইমরুল কায়েসের ডাকে উইকেটের প্রায় মাঝপথে চলে যান মুশফিক। কিন্তু ইমরুল তাকে ফিরিয়ে দিলে মুশফিক আর ফিরতে পারেননি নিজের ক্রিজে। ফলে রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে মুশফিক করেন ৩৩ রান। ৫২ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল মুশফিকের ইনিংসটি। তবে এই ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডে ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রান পূরন করেন মুশফিকুর রহিম। এর আগে বাংলাদেশের পক্ষে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান নিজেদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। দলীয় শতরানের আগে (৮৭ রানে) বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারালেও ৬ষ্ট উইকেটে ইমরুল কায়েস-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ জুটিতে আবার ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা ইমরুল কায়েস ও সবসময়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান খ্যাত মাহমুদউল্ল¬াহ রিয়াদ জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌছে যায় ২১৫ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ১২৮ রান। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। আফতাব আলম এর বলে রশিদ খানের হাতে ক্যাচ হওয়ার আগে ৮১ বলে তিন চার আর দুই ছক্কায় রিয়াদ করেন ৭৪ রান। এর আগে রিয়াদ ৫৯ বলে তিন চারে ফিফটি রান পূর্ণ করেন। রিয়াদ আউট হলেও ইমরুল কায়েস শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে মিরাজকে নিয়ে দলকে পৌছে দেন ২৪৯ রানে। ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মাশরাফি আউট হন ১০ রানে। ইমরুল কায়েস ৭৭ বলে তিন চারে ফিফটি করার পর ৮৯ বলে ছয় চারে ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে। আফগানিস্তানের পক্ষে আফতাব আলম ৩টি, রশিদ খান ১টি ও মুজিব উর রহমান ১টি করে উইকেট নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ