ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাদুল্যাপুুুরে ভাংছে নদী মানুষ ছাড়ছে ঘরবাড়ী!

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পুরান লক্ষীপুর এলকায় অব্যহত ঘাঘট নদীর ভাঙ্গনে ঘরবাড়ী সরিয়ে নিচ্ছে মানুষ। ইতিমধ্যে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সাথে সম্প্রতি প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ী হুমকির মখে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে বিলীন হতে পারে ওইসব পরিবারের ঘরবাড়ি। 
সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরস্ত ঘাঘট ব্রিজ থেকে কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরান লক্ষীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলীর বাড়ী হতে শহিদুল মেম্বরের বাড়ি পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে আতঙ্কিত হয়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষ।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই গ্রামের আব্দুর রশিদ ও রঞ্জু মিয়ার ৪ টি ঘর নদীর পেটে চলে গেছে। তাদের অবশিষ্ট ইটের ঘরগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে মিস্ত্রী দ্বারা ভাংগা শুরু করেছেন।
আব্দুর রশিদ মিয়ার মা রহিমা বেগম জানান, এর আগেও নদীর কবলে পড়ে তিনবার বাড়ী সরানো হয়েছে। আবারও ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাড়ীঘর অন্যত্র সরানোর চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়াও ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলীর বসতবাড়িটি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে বাড়িটি নদীর পেটে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোপুর্বেও ঘাঘটের ভাঙ্গনে আনছার আলীর বাড়িটি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কামারপাড়া ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, পুরান লক্ষীপুর এলাকাস্থ ঘাঘট নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে দীর্ঘদিন আগে লুপ কাটিংয়ের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।
ইউপি সদস্যা চায়না বেগম জানান, সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের সাথে একমাত্র যোগাযোগ রক্ষাকারী ঘাঘট তীরে এ রাস্তাটি। নিত্যদিন আমাদের এলাকার শতাধিক ছাত্রী/ছাত্রী সাদুল্যাপুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। ইতোমধ্যে ঘাঘট নদীর ভাঙ্গনে রাস্তাটি বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচলে নানা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
কামারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছামছুল হক মাষ্টার নদী ভাঙ্গনের কথা শিকার করে বলেন, এ বিষয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা জানান ওই এলাকায় ভাঙ্গন রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রহিমা খাতুন বলেন এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের অবগত করানো হয়েছে এবং জেলার সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ