ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মামলা সিআইডিতে যাওয়ার পর তিন খুনের রহস্য আরো ঘনীভূত

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা: মুন্সীগঞ্জ শহরের ভিটি শিলমন্দি এলাকায় বারেক লেংটার মাজারে দুই নারী হত্যা এবং পাঁচঘড়িয়াকান্দি এলাকার নির্জন স্থানে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের এক বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। দুই নারী হত্যার পর খাদেমসহ চারজন গ্রেফতারের পর মাজারের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জোড়া হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে জেলা পুলিশ দাবি করে।
কার্যত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনই করতে পারেনি থানা পুলিশ।  এর পরিপ্রেক্ষিতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি ছয় মাসের মাথায় মামলাটি সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডিও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত করলেও সাড়ে পাঁচ মাসেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। এটা যেন রহস্যে ভিতরের রহস্যে চলে যাচ্ছে। 
অন্যদিকে, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর শহরের পাঁচঘড়িয়াকান্দি এলাকার বালুর মাঠের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমান নামের এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ হত্যার রহস্যও উদ্ঘাটন হয়নি। যার পোস্ট মার্টেম রেপোর্ট হার্ট এটাকে হয়েছে বলে জানা যায়। কিভাবে হার্ট এটাক হয়ে মৃত্যুবরণ করলো এবং লাশ জমির মাঝে গাছের সাথে কাক তাড়ুয়া হয়ে ঝুলে থাকলো?
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের ভিটি শিলমন্দি এলাকায় বারেক লেংটার মাজারে আমেনা বেগম ও তাইজুন খাতুন নামের দুই নারীকে ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মাজারের খাদেম মাসুদ, বাবু সরকার ও রাজন নামের তিনজন ও পরে আরিফ নামের অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলা পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকা-ের তিন কারণ শনাক্ত করা হয়েছে।  মাজারের সম্পত্তি ও অসামাজিক কাজ- এ দুটি কারণ ছাড়া আরও একটি ‘কারণ’ রয়েছে বলে আসামিরা বলেছে, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হচ্ছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকা-ের পর মাজারের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে হত্যাকা- সংঘটিত হয়।  জেলা পুলিশের এ দাবি ছিল অনুমাননির্ভর।  আর থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হওয়ায় হত্যা মামলাটির চলতি বছরের ২৯ মার্চ সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় মাদকের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।  এ ছাড়া স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেও হত্যাকা-ে কে বা কারা জড়িত, তার কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। এ কারণে মামলাটির অগ্রগতি হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ