ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সোনারগাঁয়ে ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে সংশয় পরিবারের

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার প্রধান ফটকের সামনে মারিখালী নদের থানা ঘাটে তোতা মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার হওয়ার চার বছরেও চার্জশীট না দেওয়ায় এ হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্ত্রী লিলি বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সোনারগাঁ প্রেসক্লাবে এসে তিনি এ শঙ্কা জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্তাকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইাসলাম জানিয়েছেন সঠিক স্বাক্ষীর অভাবে মামলার অগ্রগতি করা যাচ্ছে না। আশা করি দ্রুতই আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।
লিলি বেগম জানান, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মিরেরবাগ গ্রামে তার বাড়ি। তার স্বামী তোতা মিয়া ছিলেন জমি ব্যবাসায়ী। স্থানীয় ভাবে জমি কেনা বেচার কাজ করতেন। স্থানীয় মিরেরবাগ গ্রামের তার প্রতিবেশী মৃত সোনা মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া ও খোকনের সাথে তাদের বাড়ির জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ বিরোধে খোকন ও বাচ্চু মিয়া তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ থানা গেটে ফেলে যায়।
তিনি আরো জানান, সোনারগাঁ থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হোমায়েত হোসেন মিরেরবাগ এলাকায় তার স্বামী তোতা মিয়ার মাধ্যমে একটি জমি বায়না করেছিলেন। জমিতে কিছু জটিলতা থাকার কারণে ২০১৪ সালের ১০মে সন্ধ্যায় হেমায়েত হোসেন জমির বিষয়ে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে আসেন। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে তোতা মিয়ার লাশ থানা গেইটের সামনে ঘাটে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ সদস্যরা। পরে থানায় এসে তার লাশ সনাক্ত করেন লিলি বেগম। এ ঘটনায় লিলি বেগম বাদী হয়ে দুজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। 
মামলার এজাহার থেকে জানান যায়, নিহত জমি ব্যবসায়ী তোতা মিয়ার লাশের মুখ মন্ডলের ডান পার্শে¦ ও কপালে চোখে ও গন্ড দেশে লাল ও কালচে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
লিলি বেগমের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও এ মামালার কোন অগ্রগতি নেই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয় কিন্তু মামলার কোন অগ্রগতি হয় না। আসামীরা এলাকায় প্রভাবশালী ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার কারণে এ মামলা টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনারগাঁ থানা পুলিশের মারিখালি নদের ঘাটটি পুলিশ সদস্য ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করেন না। পুলিশ সদস্যরা ওই ঘাটলায় বসে বিশ্রাম নেন। তাছাড়া এ স্থানটি সব সময়ই পুলিশ পাহাড়ায় থাকে। পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টিত স্থানে কিভাবে জমি ব্যবসায়ী তোতা মিয়া লাশ হলেন এ নিয়ে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিহতের বড় ভাই নুরু মিয়ার অভিযোগ, তার ভাই তোতা মিয়ার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাচ্চু ও খোকন হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছেন। থানা আসবে এমন খবর ছিলো তাদের কাছে। পুলিশের এএসআই হেমায়েতের সঙ্গে কথা বলার জন্য আসার পথে রাতের কোন এক সময় হত্যা করে লাশ থানার ঘাটে ফেলে যায়। এ হত্যাকান্ড যাতে ভিন্ন দিকে মোড় নেয় তাই লাশ থানা ঘাটে ফেলে গিয়েছিল হত্যকারীরা।
সোনারগাঁ থানার তৎকালীন এএসআই হেমায়েত হোসেন বলেন, তিনি বর্তমানে ডিএমপিতে কর্মরত আছেন। পদন্নতিও পেয়েছেন। হত্যাকান্ডের আগের দিন তিনি সোনারগাঁ থানায় তোতা মিয়াকে আসতে বলেছিলেন। ওই দিন তোতা মিয়া তার কাছে আসেনি। পরদিন সকালে তোতা মিয়ার লাশ থানা ঘাটে পাওয়া যায়। এ হত্যাকান্ডের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তিনি বিচার দাবী করেন। তিনি জড়িত থাকলে তাকেও যেন আইনের আওতায় এনে বিচার করা হয়। 
ব্যবসায়ী তোতা মিয়া হত্যাকান্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় পর মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর হয়েছে। এ মামলায় স্বাক্ষী না থাকার কারণে চাজর্শিট দিতে দেরি হচ্ছে। তবে আশা করছি খুবই দ্রুত মামলার চার্জশিট দিতে পারবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ