ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুসলিম বিশ্ব বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের মুখে

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান                  -ফাইল ছবি

২৪ সেপ্টেম্বর, আনাদলু এজেন্সি : সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে মুসলিম বিশ্বের বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ নিয়ে হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। গত রবিবার সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উপলক্ষে পাঠানো এক বার্তায় এরদোয়ান এই হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, এই অবস্থায় মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

এরদোগান বলেন, ইসলামি বিশ্ব এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে এখন শান্তি ও স্থিতিশীলতা বেশি প্রয়োজন।

বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাধারণ লক্ষ্যে সংহতি জানানো প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আরব অঞ্চলে একাধিক সংঘাত চলমান রয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ জড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব জোট ইরান সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে বেসামরিক হত্যায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনা মুখে পড়েছে সৌদি আরব। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে তুরস্ক। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিচ্ছে তারা।

যুদ্ধ থামিয়ে প্রশংসিত তুর্কি প্রেসিডেন্ট

সিরিয়ার ইদলিবকে রক্তপাত থেকে মুক্ত করায় বিশ্ব নেতাদের প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। বাশার আল-আসাদ সরকার, রুশ ও তেহরানের সামরিক বাহিনীকে ইদলিবে অভিযান চালানো থেকে বিরত রাখতে পারায় এরদোগান এ প্রশংসা পাচ্ছেন।

সিরিয়ায় আসাদবিরোধীরা বর্তমানে ইদলিবে অবস্থান করছে, সেখানে প্রায় ৩০ লাখ সাধারণ মানুষের বসবাস। সম্প্রতি আসাদ সরকার ও মিত্র রাশিয়া এবং ইরান সেখানে শক্তিশালী হামলা চালানোর জন্য অভিযানে অগ্রসর হয়।

ইদলিবে রয়েছে বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি। তবে এরদোগান সেই অভিযানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং ইদলিবের কাছাকাছি সেনা সমাবেশ ঘটান। এ নিয়ে রাশিয়া ও ইরানের সাথে তুর্কি সরকার দফায় দফায় আলোচনায় বসে। শেষ পর্যন্ত সেখানে অভিযান পরিচালিত হয়নি। সিরিয়ার ইদলিবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে পারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের প্রশংসা করেছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব এন্টনিও গুতেরেস। ইদলিবে অভিযান চালালে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ৩০ লাখ মানুষের মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হবে এবং তুরস্ক ও ইউরো শরণার্থীর ঢল নামবে। সে কারণে তুরস্ক এই অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সম্প্রতি সোচিতে এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সমঝোতা হয়। ইদলিবে হামলা না চালিয়ে সেখানে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ার জন্য দুই নেতা সম্মত হয়। এরদোগানের এ প্রচেষ্টার ফলে ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে ইদলিব, এমনটাই বক্তব্য জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা এফএসএ হচ্ছে সিরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী একটি সংগঠন; যাদের প্রায় ৫০ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা রয়েছে। সরাসরি তুরস্কের সমর্থনে এই সংগঠন পরিচালিত হয় বলে অভিযোগে রয়েছে। এদিকে ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে আশু যুদ্ধ বন্ধ করতে পারায় এরদোগানের প্রশংসা করেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্থোনিও গুতেরেজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ