ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শরীয়তপুরে যুবলীগ নেতার মামলায় বিএনপি’র ২৯ জন নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর 

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : শরীয়তপুরে এক যুবলীগ নেতার মামলায় জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মামুন খানসহ ২৯ জন নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে অতিরিক্তি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত। আজ সোমবার দুপুর ১টায় জামিন শুনানী শেষে আতালতের বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন ২৯জনের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

পালং মডেল থানার মামলা ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানাগেছে, বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার নাসির উদ্দিন কালুর ধানুকা বাস ভবনের সামনের চত্বরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান চলাকালে কতিপয় আওয়ামী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে হামলা করে। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু,  পৌর বিএনপির সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি আলাহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ আসলামসহ ৩ শতাধিক নেতাকর্মী ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকে। ঘটনার ২ দিন পর শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা আমির আলী সরদার ৩ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরণকে প্রধান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলামসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ৭৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ছাড়াও মামলায় আরো ২শ’ থেকে /২শ’৫০ জন অজ্ঞাত নামা আসামী উল্লেখ করা হয়। এ মামলায় ৩২ জন নেতাকর্মী আজ সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে শরীয়তপুর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন ৩ জন আসামীর বয়স বিবেচনায় জামিন দিয়ে অপর ২৯ জনকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন।  জামিনের পক্ষে শুনানী করেন এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাশেম, এ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবির, এ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান ঢালী, এ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন, এ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন এ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, পিপি এ্যাডভোকেট মির্জা হযরত আলী সাইজী, এ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও এ্যাডভোকেট পারভেজ রহমান জন। 

আসামী পক্ষের প্রধান  কৌশলী এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম কাশেম বলেন, সারাদেশে কোথাও আইনের শাসন নাই। যথাযথ আইনের শাসন প্রয়োগ থাকলে আইনগত ভাবে আসামীরা জামিন পেতেন। জামিন আবেদন করা আসামীদের মধ্যে একজন আসামী ছাড়া কোন আসামীর বিরুদ্ধে সুনির্দৃষ্ট অভিযোগ না থাকা সত্বেও জামিন না মঞ্জুর করা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আমি আশাবাদী সেখানে ন্যায় বিচার পাব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ