ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এবার অন্ধ কল্যাণের নামে ধরিয়ে দেয়া হলো স্কুল প্রতি ৩শ’ টাকা চাঁদার টিকিট!

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায় অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দিবসের পাশাপাশি এবার চাঁদার তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘অন্ধ কল্যাণ সীল’। কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই এ সীলের টিকিট ধরিয়ে দেয়া হয়েছে নগরীর ১২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ওপর।
স্কুল প্রতি ৩শ’ টাকা হারে এ চাঁদা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সদর থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সোমবারের মধ্যেই এ চাঁদা পরিশোধ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে, এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত চাঁদার টিকিট পেয়ে প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে, কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়ার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর নগরীর আঞ্জুমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নগরীর সদর থানার আওতাধীন ১২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে স্কুল প্রতি ৬০টি করে ‘অন্ধ কল্যাণ সীল’ নামে চাঁদার টিকিট প্রদান করা হয়। ওই টিকিট ধরিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে আদায় করতে প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এ সময় প্রধান শিক্ষকরা অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের মতামত ও সম্মতি ছাড়াই স্কুল প্রতি ৩শ’ টাকা হারে চাঁদা নির্ধারণ করে একক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) আলমগীর হোসেন, কামরুন্নাহার, নূর এ লায়লা ও মওসুমি আক্তারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ ধরনের নয়া চাঁদাবাজিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘শিশুরাতো এসব টিকিট কিনবেনা, তাহলে স্কুল এই টাকা কোনো খাত থেকে দিবে? স্কুলে কি আয়ের কোনো খাত আছে? কার সাথে মিটিং করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো? সেই মিটিংয়ের রেজুলেশন কপি কেন প্রতি স্কুলকে দেয়া হয়নি? সহকারী শিক্ষকরাতো এ মৌখিক সিদ্ধান্ত বিশ্বাস করেনা’ ইত্যাদি। তাদের অভিমত, যদি এ ধরনের চাঁদা দেয়ার কোনো অফিসিয়ালি বাধ্যবাধকতা থাকে, তাহলে অফিস থেকে নির্দেশনা জারী করে পত্র ইস্যু করা হোক। তাতে স্বচ্ছতা থাকবে। অন্যথায় আদায়কৃত চাঁদা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাবে।
বিষয়টি স্বীকার করে সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) আলমগীর হোসেন বলেন, জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সংস্থার সঙ্গে হয়তো প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের কোনো চুক্তি আছে। এ কারণে তাদের মাধ্যমে এ চাঁদার টিকিট দেয়া হয়েছে। তবে, অফিস সময়ে না হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে আপত্তি জানান। অফিসে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ