ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজনীতিতে চোর বনাম চোর বিতর্ক

আমাদের উপমহাদেশের রাজনীতিতে গেম আছে, আছে ব্লেমগেমও। শিষ্টাচারের কথা বলা হলেও রাজনীতিতে তার চর্চা তেমন হয় না। দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দেশটিতে এখন ‘চোর বিতর্ক’ বেশ বড় হয়ে উঠেছে। রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনাবেচা চুক্তি নিয়ে বর্তমানে সরগরম হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। তবে মূল বিষয়ের বদলে দেশটির রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে ‘চোর’ বনাম ‘চোর’ বিতর্কে। ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেস এখন একে অপরকে অপবাদ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ভারতের রাজনীতিতে এই দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে রাফায়েল বিষয়ে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির পর। ওলাঁদ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়েই ভারত রাফায়েল চুক্তিতে সই করে। এক সাক্ষাৎকারে ওলাঁদ বলেছেন, ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের চাপে ভারতীয় ধনকুবের অনিল আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্সের সঙ্গে রাফায়েল চুক্তিটি হয়েছিল। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘চোর’ আখ্যা দেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। সংবাদ সম্মেলন  করে তিনি বলেন, ‘এখন আর কোন সংশয় থাকলো না যে দেশের চৌকিদারই চোর’। এ বক্তব্যের পর বিজেপির মন্ত্রীরা রাহুল গান্ধীর পুরো বংশকে সমস্বরে ‘চোর’ অপবাদ দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তারা বলছেন, ‘রাহুলকা পুরা খানদান চোর হ্যায়’। বিজেপি সরকারের মন্ত্রীদের টুইটারে মূল বিষয় এখনÑ নেহেরু থেকে রাজীব কিভাবে দেশের সম্পদ চুরি করেছেন এবং মোদি ও তার সরকার কতটা সৎ ও স্বচ্ছ। তবে রাফায়েল নিয়ে যে মূল প্রশ্নগুলো কংগ্রেস তুলেছে, এখনও তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি বিজেপি।
কংগ্রেসের অভিযোগ প্রধানত দুটি। প্রথমত, কংগ্রেস যে পরিমাণ অর্থে যুদ্ধাভিযান কেনাবেচা প্রায় চূড়ান্ত করেছিল, বিজেপি সরকার তার চেয়ে বেশি অর্থে কম যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে সই করেছে। দ্বিতীয়ত, এই চুক্তিতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হ্যাল’ এর যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, নতুন চুক্তিতে তা বাতিল করে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্সকে। আর তা করা হয়েছে ভারতের তাগিদ ও চাহিদা অনুযায়ী। কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এ উদ্যোগের হোতা। অনিল আম্বানির সংস্থাকে ৩০ হাজার কোটি রুপির বরাত পাইয়ে দিয়ে মোদি ওই শিল্পপতির ৪৫ হাজার কোটি রুপির সরকারি ঋণ মেটানোর পথ প্রশস্ত করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, সোমবার কংগ্রেস নেতারা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের কাছে যাওয়ার কথা। তারা দাবি জানাবেন, দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে যেন তদন্ত করা হয়। তবে ভারতের রাজনীতিতে রাফায়েল বিষয়কে কেন্দ্র করে যে ‘চোর বিতর্ক’ শুরু হয়েছে তা সহজে থেমে যাবে বলে মনে হয় না। সামনে নির্বাচনের সময় বিতর্ক আরও উগ্র রূপ ধারণ করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ