ঢাকা, মঙ্গলবার 23 October 2018, ৮ কার্তিক ১৪২৫, ১২ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাগরে ৪৯দিন ভেসে থেকেও যেভাবে বেঁচে গেলেন ইন্দোনেশিয় তরুণ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ইন্দোনেশিয়ার এক তরুণ গভীর সাগরে ভেসে ছিলেন টানা ৪৯দিন। এরপর তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

তিনি বেঁচে ছিলেন সমুদ্রের নোনাপানি এবং লাফিয়ে ওঠা মাছ খেয়ে।আলদি নোভেল আদিলাং নামের এই তরুণের বয়স ১৮ বছর।মাছ ধরার জন্য কাঠ দিয়ে তৈরি ভেলায় থাকা অবস্থায় এই তরুণ ঝড়ে পড়ে ভেসে গিয়েছিলেন সাগরে।

ইন্দোনেশিয়ায় গভীর সমুদ্র এবং উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার স্থানীয় একটি পদ্ধতি হল 'রমপং'।এই পদ্ধতিতে কাঠ দিয়ে একটি ভেলা তৈরি করার পর তার উপর কুঁড়ে ঘরের মতো একটি ছোট কক্ষ বানানো হয়।সেই কক্ষে একজন বা দু'জন মানুষ থাকতে পারেন।এই ভেলায় আলো জ্বালানো হয়। সাগরে ঢেউয়ের তালে তালে ভেসে থাকা ভেলার সাথে আলো দুলতে থাকে।এই রমপং পদ্ধতি হচ্ছে মাছ ধরতে আলোর ফাঁদ।

১৮ বছরের তরুণ আলদিকে সাগরে ভাসতে থাকা ভেলা থেকে উদ্ধারের পর জাহাজে তাঁকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হয়।ছবি-ইপা

পানিতে ঢেউয়ের তালে যখন ভেলার সাথে আলো দুলতে থাকে, তখন সেই ভেলার ওপর মাছ লাফিয়ে ওঠে।

জাকার্তা পোস্ট পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, সুলাবেসি দ্বীপের বাসিন্দা আলদি নোভেল আদিলাং এর কাজ ছিল রমপং বা ভেলায় আলো জ্বালানো। ভেলাটি ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে সাগরের ১২৫ কিলোমিটার গভীরে বাঁধা ছিল।এ ধরণের ভেলায় কোন ইঞ্জিন বা বা বৈঠা ব্যবহার করা হয় না।অন্য নৌযান দিয়ে ভেলাটিকে গভীর সমুদ্রে নেয়া হয়।

আলদিকে উদ্ধারের পর তাঁকে প্রথমে জাপানে নেয়ার অনুমতিপত্র দেয়া হয়েছিল।ছবি- এএফপি

হঠাৎ ঝড়ে দড়ি ছিঁড়ে ভেলাটি সমুদ্রের কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ অঞ্চল গুয়ামের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল।সেখান থেকে পানামার একটি জাহাজ ঐ তরুণ আলদি নোভেল আদিলাংকে দেখতে পায় এবং তাঁকে উদ্ধার করে।

সাগরে ভেসে গিয়ে অসহায় অবস্থায় এই তরুণ চিৎকার করে কাঁদত।গত ১৪ ই জুলাই সমুদ্রে প্রচণ্ড ঝড় হয়। সেই ঝড়ে ভেলাটির দড়ি ছিঁড়ে ভেসে যায়।সাগরে ৪৯ দিন তাঁর কেটেছে শঙ্কায়।

আলদি নোভেল আদিলাং যে ভেলায় থাকতেন, তাঁকে নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে খাবার পৌঁছে দেয়া হতো।ফলে তাঁর সাথে থাকা খাবার এবং পানি ফুরিয়ে গিয়েছিল।সেই পরিস্থিতিতে সাগরের নোনা পানিই তাঁকে পান করতে হয়েছে।আর ভেলায় মাছ লাফিয়ে উঠলে, সেটি ধরে তিনি খেতেন।

জাপানে ইন্দোনেশিয়ার একজন কূটনীতিক ফাজার ফেরদৌস জাকার্তা পোস্টকে বলেছেন, আলদি নোভেল আদিলাং মৃত্যুভয়ে ভীত থাকতেন এবং বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করতেন।

"আলদি দেখতে পেতেন যে, বড় জাহাজ সমুদ্রে যাচ্ছে। তিনি জাহাজ দেখলেই চিৎকার করে সাহায্য চাইতেন।১০ট্রিও বেশি জাহাজ তাঁর ভেলার পাশ দিয়ে গেছে। কিন্তু জাহাজগুলো থামেনি বা তাঁকে দেখত হয়তো পায়নি।"

সাগরে কয়েক হাজার কিলোমিটার ভাসার পর আলদিকে গুয়াম এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

আলদির মা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তাঁর ছেলে নিখোঁজ হয়েছে বলে তাঁর কর্মস্থল থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছিল।ফলে তারা তখন শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতেন। তাঁরা সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন।

শেষপর্যন্ত কয়েক হাজার মাইল ভেসে আলদি পৌঁছায় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে গুয়ামের কাছে।

সেখান থেকে ৩১শে অগাস্ট জাপানগামী পানামার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আরপিগিও তাঁকে উদ্ধার করে তারা গুয়াম কোস্টগার্ডের সাথে যোগাযোগ করে।

গুয়াম কোস্টগার্ডের তাঁকে জাপানে নিয়ে যেতে বললে জাহাজের কর্মকর্তা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন।ঐ জাহাজে আলদি গত ৬ই সেপ্টেম্বর জাপানে পৌঁছান।দু'দিন পর ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস আলদিকে জাপান থেকে বিমানে করে নিজ দেশে পাঠায়।

আলদি এখন ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর পরিবারের সাথে আছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ