ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মোহনীয় রূপে সীতাকুণ্ডের দুটি পাহাড়ি ঝর্ণা

সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে পাশাপাশি সুপ্তধারা ও সহস্রধারা ঝর্ণা

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চঞ্চলা ঝর্ণা তার মোহিনী রূপে যুগে যুগে মানব হৃদয়ে পাগলহারা ঢেউয়ের দোলা তুলে বয়ে গেছে অবিরত। আর এই ঝর্ণার টানে মানুষ ছুটে গেছে দুর্গম থেকে দুর্গমতর এলাকায়।
কিন্তু পাশাপশি দুটি ঝর্ণা কোন দুর্গম এলাকায় না হয়ে হাতের নাগালে , সিঁড়ি পথ বেয়ে নেমে খানিকটা নিরিহ ঝিরিপথ ধরে এগিয়ে গেলেই দেখা মেলে এমনই দুটি ঝর্ণা সুপ্তধারা এবং সহস্রধারা। সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতরে এই দুটি ঝর্ণা বর্ষাকালে তার রূপের পেখমমেলে ডাক দিয়ে যায় প্রকৃতি প্রেমীদের অবিরত। বর্ষা মৌসুমে মোহনীয় রূপ নেয় সীতকুণ্ডের সহস্র ধারা ও সুপ্ত ধারা নামের দুটি পাহাড়ি ঝর্ণা। বর্ষা মৌসুমে অবিরত ধারায় পানি গড়িয়ে পড়ছে। দুর্গম পথের কারণে সাধারণ দর্শনার্থীরা তেমন আগ্রহ না দেখালেও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় তরুণ-তরুণিদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঝর্ণা দুটি। তবে বর্ষাকাল ছাড়া বছরের বাকি সময় এই দুটি ঝর্ণায় পানি থাকে না। তাই শুষ্ক মৌসুমে দূর থেকে দেখলে মনে হবে ঝর্ণায় কোন পানি নেই। তবে ঝর্ণার কাছে গেলে সামান্য কিছু পানি পরতে দেখবেন।
দর্শনার্থীদের কাছে সীতাকুণ্ডের সহগ্র ধারা কিংবা সুপ্ত ধারা তেমন পরিচিত নয়। সীতাকুণ্ডে এ ধরণের দু’টি ঝর্ণা রয়েছে, তা হয়তো অনেকেই জানে। কিন্তু দুর্গমতার কারণে সাধারণ দর্শনার্থীদের ঝর্ণা দু’টি টানেনা। আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি পথ বেয়ে উপরে ওঠা।
আবার জঙ্গলাকীর্ণ লম্বা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা। কোথাও কোথাও আবার সিঁড়ি না থাকায় পাহাড়ি ঝর্ণা ধরে হেঁটে যাওয়া। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের কাছে ঝর্ণা দু’টি এক অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি করে।
তরুণ ও তরুণীরা বলেন, এক কথায় অসাধারণ এবং অসাধারণ। প্রথম কোন ঝর্ণার এত কাছাকাছি যাওয়া। পানি যখন শরীরে পরে তখন শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। বোঝানো যাবে না এত মজা লাগছে।
বছরের অধিকাংশ সময় পানি’র ধারা থাকে না বলে এটির নামকরণ করা হয়েছিলো সুপ্তধারা।  কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এসে সুপ্ত ধারা প্রাণ ফিরে পায়। তিনটি পয়েন্ট দিয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসে পানির ধারা। সহগ্রর ধারায় যাওয়ার পথ কিছুটা সহজ হলেও সুপ্ত ধারার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম। এখানকার সিঁড়িগুলো ভাঙা হওয়ার কারণে দর্শনার্থীদের পাহাড়ি পথ বেয়েই নিচে নামতে হয়। আর অনেকটা পথ এগিয়ে যেতে হয় ঝর্ণা থেকে নেমে আসা পানির পথ দিয়েই।
তরুণরা বলেন, 'চট্টগ্রামে এত সুন্দর জায়গা আছে। তা আমরা আগে খুঁজে পায়নি। এখানে আসতে অনেক পরিশ্রম হয়েছে। কিন্তু এখানে আসার পর আমরা সার্থক। অনেক ঝর্ণায় গিয়েছি কিন্তু কাছে যেতে পারিনি। কিন্তু এবারের ঝর্ণায় যেয়ে ছুঁয়ে দেখেছি।'
ঝর্ণা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন স্থানীয় ইজারাদার সো. সাহাবউদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি। তাদের সব ধরনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন ৮শ থেকে ১ হাজার দর্শনার্থী সীতাকুণ্ডের ইকোপার্কে বেড়াতে আসলেও তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশী সহস্র ধারা কিংবা সুপ্ত ধারা দেখতে পাহাড়ের নিচে নামে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ