ঢাকা, সোমবার 17 December 2018, ৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: সিন্ডিকেটের পরিবর্তে বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

মাত্র ১০টি কোম্পানির সিন্ডিকেটের পরিবর্তে বাংলাদেশের বৈধ সব রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া সফররত বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের দুই দফা বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল (মঙ্গলবার) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হয়। কর্মী-সংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী কুলা সেগারান নেতৃত্ব দেন।

বৈঠক শেষে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম জানান, জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে ১০টি এজেন্সির বদলে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। যারা অবৈধ আছে, তাদের বৈধ করার ব্যাপারে এবং ১০ বছরের বেশি ভিসা দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ১০ লাখের বেশি কর্মী কাজ করছেন। গেল দেড় বছরে দেশটিতে এসেছেন দুই লাখের মতো কর্মী। জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে এই কর্মী এলেও ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যায় এর অনলাইন সিস্টেম এসপিপিএ।

জানা গেছে, নতুন অনলাইন সিস্টেম চালুর আগ পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সব কাজ চলবে। যোগ্য সব এজেন্সি এ সুযোগ পাবে।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মুহা. শহিদুল ইসলাম, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব ড. মনিরুল সালেহিন (কর্মসংস্থান), উপসচিব মোহাম্মদ সাহিন (কর্মসংস্থান), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি ও একজন উপসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি, আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব, দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মো. সায়েদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ১ হাজার ১৭৯টি। ২০১২ সালে দুই দেশ শুধু সরকারি মাধ্যমে জি টু জি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে চুক্তি সই করে। ২০১৬ সালের তা পরিমার্জন করে ১০টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে জি টু জি প্লাসের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালের শেষের দিক থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ শ্রমিক মালয়েশিয়া গেছেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালে জুলাই মাস পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬২ জন শ্রমিক পাঠায় বাংলাদেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ