ঢাকা, বুধবার 3 October 2018, ১৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রূপসা খেয়াঘাটে ট্রলার মাঝিদের দৌরাত্ম্যে যাত্রী ভোগান্তি চরমে

খুলনা অফিস: খুলনার রূপসা সেতু নির্মাণের আগে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল খুলনার রূপসা ফেরিঘাট। ঘাটটিতে এখনও ব্যস্ততার কমতি নেই। পার্থক্য কেবল আগে মানুষসহ যানবাহন পারাপার হতো ব্যাপকভাবে, এখন শুধু মানুষ পার হয়। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে পারাপারের জন্য এ ঘাটটির ওপর নির্ভর করতে হয়। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতেই ব্যস্ত রয়েছেন জনবহুল এ রূপসা ঘাটের ট্রলার মাঝিরা। তাদের খামখেয়ালিপনায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
এ ঘাটে দৃষ্টিনন্দন পন্টুন স্থাপন করার পরও মাঝিরা ঘাট ছেড়ে অন্য স্থানে যাত্রী ওঠা-নামা করে থাকেন। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এছাড়া হালকা ওজনের মালামাল যাত্রীরা সঙ্গে নিলে তা নিয়েও বাকবিতন্ডার শেষ নেই। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে থাকে।
এ নিয়ে ট্রলার মাঝি সমিতির কোনও মাথাব্যথা নেই। ট্রলারে যাত্রী তোলার ক্ষেত্রেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয় না। ট্রলারে তোলা হচ্ছে ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী। রাতে অধিকাংশ ট্রলার বাতি ছাড়াই চলাচল করছে।
জনবহুল ও ব্যস্ততম রূপসা ফেরিঘাট এখন খেয়াঘাটে পরিণত হয়েছে। প্রায় লাখো মানুষ এ ঘাট দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে। একসময় এ ঘাটে বড় বড় ফেরি চলাচল করত।
রূপসা সেতু নির্মাণের পর এ ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়। এরপর মানুষের পারাপারের প্রয়োজনে এ ঘাটটি এখন খেয়াঘাট। বর্তমানে এ ঘাটে পারাপার হতে যাত্রী প্রতি ৩ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।কিন্তু পারাপারে সেবার মান উন্নত হয়নি।
আগে ঘাটটির দায়িত্বে ছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশন ও রূপসা উপজেলা প্রশাসন এ ঘাট দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে। তারা এ ঘাট থেকে বছরে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে। কিন্তু ঘাট বা পন্টুন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ঝুঁকি এড়াতে দুই বছর আগে খুলনা সিটি করপোরেশন যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে পূর্ব ও পশ্চিম রূপসা ঘাটে প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে। এলাকাটি এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
রূপসা স্ট্যান্ড রোডস্থ এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর শেখ বলেন, ‘রূপসা ঘাটে ট্র্রলার মাঝিদের অনিয়মের শেষ নেই। একদিকে যাত্রী পারানি দিতে হয় তিন টাকা, অন্যদিকে ট্রলারে যাত্রীও নেয়া হয় বেশি। অধিকাংশ সময় ৩০ জনের জায়গায় ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী ওঠানো হয়।’
এ ব্যাপারে রূপসা ঘাটের ইঞ্জিনচালিত মাঝি সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. হারেজ হাওলাদার বলেন,‘এ ঘাটের অনিয়ম বর্তমানে কিছুটা কমেছে। আর ৩০ জনের স্থলে ৩৫-৪০ জন যাত্রী তোলার অভিযোগ সত্যি নয়। ব্যস্ততার কারণে যাত্রীরাই ছেড়ে দেয়া ট্রলারে লাফিয়ে উঠে থাকে। নামাতে গেলে ঘটে নানা বিপত্তি। ট্রলারে যাতায়াতে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে আমরা চেষ্টা করছি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ