ঢাকা, বুধবার 3 October 2018, ১৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাপাহারে অনাবৃষ্টির কবলে রোপা আমন ফলন ॥ বিপর্যয়ের অশংকা

সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁ জেলার বরেন্দ্রভূমি সাপাহার উপজেলায়  অনাবৃষ্টির কারণে মাঠের রোপা আমন ধান চাষাবাদে চরম ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায পানির অভাবে মাঠের রোপা আমন ধান গাছ গুলি শুকিয়ে বিবর্ণ আকার ধারণ করতে শুরু করেছ্।ে আমন চাষিরা এবার চরম  ফলন হ্রাসের আশংকায় হতাশা গ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
এবারে উপজেলার সর্বত্রই আমন চাষাবাদে কৃষকগণের মাঠের ধানের অবস্থা ভাল থাকায় কৃষকগণ আমন চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেধেছিল মাঝে মধ্যে ক্ষেতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকগণের তৎপরতায় সহজেই তা দমন করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মাঠের ধান গাছের অবস্থা পেট ভর্তি ধান নিয়ে থোড় বাধতে শুরু করে ছিল ঠিক সে মুহূর্তে প্রকৃতি(বর্ষা) নির্ভর ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র এলাকায় ধান ক্ষেতের ধান বৃষ্টির পানির অভাবে শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। বর্তমানে উপজেলার ২হাজার ৫শ’হেক্টর জমিতে কোন সেচ সুবিধা না থাকায় এলাকার কৃষকগন পুকুর, ডোবা, খাল বিভিন্ন উৎস থেকে কিছু কিছু জমিতে সেচ দিয়ে ধানগাছগুলি কোন রকমে বাঁচিয়ে রেখেছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ধান পানির অভাবে শুকিয়ে বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি ও উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা আতাউর রহমান সেলিম জানান যে, এবারে সাপাহার উপজেলায় রোপা আমন চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ১৬হাজার৫শ’হেক্টর নির্ধারণ থাকলেও অনেক কৃষক তাদের জমিতে নতুন আমবাগান তৈরী করায় বর্তমানে সর্বমোট ১৬হাজার ১শ’ ৫০হেঃ জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩হাজার ৬শ’ ৫০হেক্টর জমিতে গভীর নলকুপের মাধ্যমে সেচ সুবিধা থাকায় উপজেলার ৩২০টি গভীর নলকুপ চালু রেখে আমান চাষাবাদে সেচ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে এর জন্য কৃষকগণকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। চাষাবাদের শুরু থেকেই এখানকার কৃষকগণ অধিক ফলনের আশায় কৃষি দপ্তরের পরামর্শে মাঠের ধান ফসল কীটপতঙ্গের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করে তাদের ধান ক্ষেত বিভিন্ন পোকা মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  শেষ মুহূর্তে এসে বৃষ্টির পানির অভাবে মাঠের ধান ক্ষেতের অবস্থা শুকনো হওয়ায় কৃষকগণ বাম্পার ফলনের বিপরীতে ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ