ঢাকা, বুধবার 3 October 2018, ১৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

খুলনা অফিস: রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও বকেয়া বেতন-ভাতাসহ তিনদফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগের সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর শিববাড়ির মোড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
দাবিগুলো হচ্ছে- কর্মরত কলেজে যোগদানের তারিখ থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের তারিখ থেকে পে-স্কেল অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতাদি প্রদান ও ১৯৯১ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষমতা প্রদান করা।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগের সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি লিটন দত্ত। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুকাব্বের ফকির, সিনিয়র সহ সভাপতি মো. সোহেল হোসেন, সহ সভাপতি মো. আরিফুর রহমান, প্রচার সম্পাদক-আব্দুল আউয়াল।
এ সময় বক্তারা বলেন, প্রতিটি কলেজে আমরাই সকাল ৭ টায় গিয়ে কলেজ প্রাঙ্গন, কাসরুম, অফিস, বিভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করি, আমরাই কলেজের তালা খুলি আবার আমরাই বন্ধ করি ও কলেজটিতে রাতজাগা প্রহরী হয়ে দেখাশুনা করি। আমরা কর্মচারীরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কলেজ প্রশাসনকে সাহায্য করে চলেছি। বর্তমানে প্রতিটি সরকারি কলেজের সরকারি কর্মচারীর চেয়ে বেসরকারি কর্মচারীর সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী ভিত্তিতে নামমাত্র মজুরিতে নিয়োগ দান করছে (যা স্কেল অনুযায়ী নয়)। আমরা সরকারি কলেজে চাকরি করি, সরকারি সমস্ত দায়িত্ব পালন করি অথচ আমরা বেসরকারি। আমাদেরকে সরকারের পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি, বাড়ি ভাড়া, উৎসব ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, ধোলাই ভাতা, টিফিন ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান করা হয় না। এ কারণে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। বর্তমান এ দুর্মূল্যের বাজারে বাড়ি ভাড়া, সাংসারিক ব্যয়, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার ব্যয় ভার বহন করতে পারছি না। আমাদের চলতে অনেক কষ্ট হয়। আমরা বর্তমানে অনাহারে দিনযাপন করছি। সরকারি কলেজে আমাদের বেসরকারি চাকরিকাল কারো ২০ বছর, কারো ১৫ বছর, কারো ১০ বছর অথবা এর কম বা বেশি। আমাদের অনেকেরই বয়স ৩০ এর অধিক। এ জন্য আমাদের বিষয়টি মানবিক কারণে বিবেচনা করে প্রয়োজনে স্ব স্ব সরকারি কলেজে পদ সৃষ্টি করে হোক কিংবা শূণ্য পদে হোক কিংবা ভেটোনারি পদ সৃষ্টি করে হোক আমাদের চাকরিতে যোগদানের তারিখ হতে রাজস্ব খাতভুক্ত করার জন্য, চাকরিতে যোগদানের তারিখ হতে পে-স্কেল অনুযায়ী বকেয়া ভাতাদি প্রদান করতে এবং ১৯৯১ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ