ঢাকা, বৃহস্পতিবার 4 October 2018, ১৯ আশ্বিন ১৪২৫, ২৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রসঙ্গ পররাষ্ট্রনীতি

বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন পর্যায়ে সচেতন সকল মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজ্যসভার প্রবীণ সদস্য সুব্রামনিয়াম স্বামীর বাংলাদেশ দখল করার -মকি এসেছে সর্বশেষ কারণ হিসেবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সংলগ্ন রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ তুলে বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের নাকি জোর করে ধর্মান্তর করিয়ে মুসলিম বানানো হচ্ছে! একই সঙ্গে বাংলাদেশে নাকি হিন্দুদের ওপর প্রচ- দমন-নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি অসংখ্য মন্দিরও দখল করা হচ্ছে!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন থাকলেও অবিলম্বে হিন্দু বিরোধী এসব কর্মকা- বন্ধ না করা হলে বাংলাদেশ দখল করার জন্য তিনি সরকারকে পরামর্শ দেবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মিস্টার সুব্রামনিয়াম স্বামী। বলেছেন, বাংলাদেশকেই দখল করে নেবে ভারত। উল্লেখ্য, একই বিজেপি নেতা ২০১৪ সালে খুলনা থেকে সিলেট পর্যন্ত সমান্তরাল রেখা টেনে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড ভারতের দখলে নেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
সুব্রামনিয়াম স্বামীর আগে-পরে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবসহ অন্য শীর্ষ নেতারাও কথিত অবৈধ বাংলাদেশি ধরনের নানা প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন। এখনো তাদের অবস্থান ও তৎপরতায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কিন্তু রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বিরোধী এসব হুমকি ও বক্তব্যের কঠোর জবাব দেয়ার পরিবর্তে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্নসাপেক্ষ নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও জনগণকে নিরাশই করেছে।
ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভারতীয়দের প্রতিটি বক্তব্য ও উসকানির বিষয়ে দলটি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে। সুব্রামনিয়াম স্বামীর বাংলাদেশ দখল করার -মকির পরিপ্রেক্ষিতেও জামায়াত সোচ্চার হয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ২ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব -মকির মুখে পড়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল তার বিবৃতিতে অন্য কিছু প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি মন্ত্রি পরিষদের সভায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়ার চুক্তির খসড়া অনুমোদন এবং ভারতের আসামসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠানোর -মকি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব বিষয়ে সরকার রহস্যময় নীরবতা অবলম্বন করছে এবং কোনো কোনো বিষয়ে লুকোচুরি করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, সবকিছুর মূলে রয়েছে সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি। উদ্বেগের প্রতিটি বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্য ও ব্যাখ্যার দাবি জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, অন্যথায় জনগণ ধরে নেবে যে, সরকারও এই ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে। বিবৃতিতে তিনি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতিও আন্তরিক আহবান জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের সাথে আমরা মনে করি সবাই একমত হবে। কারণ, তিনি আসলে দেশপ্রেমিক জনগণের মনের কথাই বলেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ভারতীয়দের উসকানি ও হুমকির জবাবে জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই এখন পর্যন্ত কিছু বলেনি। অথচ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বড় কথা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সোচ্চার হলে নির্বাচনসহ অন্য কোনো ইস্যুতেই কোনো দল বা জোটের পিছিয়ে পড়ার কারণ থাকার কথা নয়। আমরা তাই বিশেষ করে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী বিভিন্ন প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার এবং সুব্রামনিয়াম স্বামীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাই।
প্রসঙ্গক্রমে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়েও বলা দরকার। বলার অপেক্ষা রাখে না, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সঠিকভাবেই পরারাষ্ট্রনীতির দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়েও সরকার জনগণকে জানতে দেয়নি। জাতীয় সংসদে চুক্তিটি নিয়ে কোনো আলোচনা পর্যন্ত করা হয়নি।
আমরা মনে করি এবং এ ধরনের বিষয়ে অতীতেও আমরা বলে এসেছি যে, দেশের স্বার্থকে অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশকে দখল করার যে -মকি দেয়া হয়েছে সে -মকিসহ ভারতীয়দের বাংলাদেশ বিরোধী সকল বক্তব্য ও তৎপরতার বিরুদ্ধেও সরকারকে দেশপ্রেমিক ভ’মিকা পালন করতে হবে। এসব বিষয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহবান জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ