ঢাকা, সোমবার 8 October 2018, ২৩ আশ্বিন ১৪২৫, ২৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাসকে ঘিরে কত রহস্য!

সন্ত্রাস ও উগ্রতার বিরুদ্ধে অনেকেই কথা বলেন। আমরা জানি জনমত উগ্রতার বিরুদ্ধে। তাই এ বিষয়ে কথা বলা বেশ সহজ ও নিরাপদ। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, সন্ত্রাস-উগ্রতার বিরুদ্ধে সঠিক কথা ক’জনা বলেন? উৎপত্তির কারণ ও যথাযথ বিশ্লেষণ কতটা হয়? অনেকের কথা শুনেতো মনে হয়, সন্ত্রাস ও উগ্রতার একটি নতুন বিষয় এবং তা একান্তভাবে ইিসলাম ও মুসলমানদের সাথে জড়িত। এমন প্রপাগান্ডায় উপলব্ধি করা যায়, বিষয়টির সাথে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং রাজনীতি জড়িয়ে গেছে। ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ এবং তথ্য-উপাত্ত এখানে অনুপস্থিত। যে কোনো বিষয়ে যথাযথ বিশ্লেষণ ও সত্যানুসন্ধানে সততা ও ন্যায়ের চেতনার সাথে সাথে যে মানবিক মনন থাকা প্রয়োজন, বর্তমান সভ্যতায় তা কতটা আছে? এখনতো শক্তিমানরা পরিকল্পনা করে অবৈধ রাজনৈতিক ও অস্ত্র ব্যবসার স্বার্থে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চাতুর্যের সাথে শান্তির মুখোশ পরে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত-সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছেন! তবে এ সবের রহস্য ও মুখোশ খসে পড়তে শুরু করেছে।
তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র গত ২ অক্টোবর ইউরোপের উগ্র ডানপন্থী দলগুলোকে সন্ত্রাসী গ্রুপ ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা দায়েসের সাথে তুলনা করেছেন। দেশটির জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র ওমর সেলিক বলেন, ইউরোপের আইএস হচ্ছে সেখানকার উগ্র ডানপন্থী গ্রুপগুলো। তিনি বিশ্লেষণ করে আরো বলেন, ইউরোপের উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম আইএসকে বিস্তারের সুযোগ দেয়। একই সময় আইএস সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম ওই দলগুলোকে আনুকূল্য দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আইএস যেমন, ইউরোপীয়দের জন্য উগ্র ডানপন্থী দলগুলো সেরকমই।
সন্ত্রাস ও উগ্রতা প্রসঙ্গে ওই বক্তব্য অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে। আসলে বাস্তবতা এমনই। সন্ত্রাস কোনো ধর্ম, দেশ বা জাতিগোষ্ঠীর বিষয় হতে পারে না। যে কোনো দেশের বা ধর্মের ভ্রান্ত বা বিকৃত চিন্তার মানুষদের বিষয় হতে পারে সন্ত্রাস কিংবা উগ্রতা। কিন্তু এই বিষয়টি উপলব্ধির জন্য যে মানবিক সততা, ন্যায়বোধ ও জ্ঞান প্রয়োজন তা বর্তমান সভ্যতায় কতটা বিরাজ করছে।’ সবারই আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ