ঢাকা, সোমবার 8 October 2018, ২৩ আশ্বিন ১৪২৫, ২৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারি উদ্যোগ ব্যর্থ হলে পুঁজিবাজার ফের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেগুলো অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাবেন। আর এতে ব্যর্থ হলে পুঁজিবাজার ফের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তিনি বলেন, ঝুঁকি না বুঝে বিনিয়োগ করা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের দায় সরকার নেবে না।
গতকাল রোববার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আয়োজিত ‘বিনিয়োগ শিক্ষার গুরুত্ব ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন প্রমুখ।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে সিংহভাগ হচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। এদের অনেকেরই বিচার-বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের ক্ষমতা নেই। ফলে তারা অনেক সময় ক্ষতির সম্মুখীন হন। কোনো বিনিয়োগকারী কোথায়, কখন, কীভাবে, কী পরিমাণে বিনিয়োগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তার নিজের। বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি না বুঝে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে ব্যর্থতার কারণে কোনো বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিনিয়োগের শিক্ষাই তাদের সুরক্ষা দিতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারী যদি তার আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হন, তবে তার বিনিয়োগ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই আইনকানুন প্রণয়নের পাশাপাশি যথাযথ নজরদারির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা উচিত।
মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের ফলেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়। তাই দেশ ও দেশের মানুষের সমৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। শেখ হাসিনার সরকার আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধি লাভ করবে। বর্তমান সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় ব্যক্তিগত ও সরকারি বিনিয়োগ বেড়ে ঠেলেঠুলে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মুহিত বলেন, আমাদের বিনিয়োগ আসলেই খুবই কম। আমরা এখন হয় তো ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করছি। তার মধ্যে ২২ শতাংশ বেসরকারি খাতের, বাকিটা সরকারের। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিনিয়োগের হার অনেক বেশি। ভারতে বিনিয়োগের হার সব সময় বেশি ছিল। এটা নতুন কিছু নয়, ত্রিশের দশকেও ভারতের বিনিয়োগের হার ৩০ শতাংশের বেশি ছিল।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এসডিজি) যেগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে করতে হবে, সেগুলো আমরা মোটামুটিভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই করতে পারব। সেটা করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী যে স্বপ্ন আমাদের দেখাচ্ছেন- ২০৪১ সালে আমরা একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে পরিণত হব, সেই স্বপ্নটি সত্যিকার ভাবেই সার্থক হবে। সরকারি বিনিয়োগে যেসব সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়, তার ওপর নির্ভর করে অন্যান্য বিনিয়োগ হয়। রাস্তা-ঘাট সরকার যদি না বানিয়ে দেয়, তাহলে লোকজন পণ্য উৎপাদন করবে কেন? কারণ তার তো মার্কেট তখন থাকবে না। এখান থেকে অন্যখানে পণ্য যেতে হবে। সুতরাং রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন প্রয়োজন।
বাংলাদেশে এখনও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে ওঠেনি মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএসইসির বয়স ২৫ বছর হয়ে গেছে। তবে শক্তিশালী পুঁজিবাজারের ভিত্তি স্থাপন হয়েছে। বর্তমান কমিশন ৮ বছর দায়িত্ব পালন করছে। তারা ৮ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। আমি অত্যন্ত খুশি এ কমিশন অনেক পরিশ্রম করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ২০১৮ সালে একটি স্থানে নিয়ে গেছে। যাতে মনে হচ্ছে অচিরেই একটি পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে।
ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, শেয়ারবাজারের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত বা বন্ধ করা হবে। বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের স্বার্থে কাট-অফ প্রাইসের তুলনায় ১০ শতাংশ কমে শেয়ার দেয়া হয়।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনও কাজ না করার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য মিথ্যা হিসাব (ফলস অ্যাকাউন্ট) নিয়ে আসলে বিএসইসির কিছু করার থাকে না। এ ক্ষেত্রে নিরীক্ষক ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা পায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ