ঢাকা, মঙ্গলবার 9 October 2018, ২৪ আশ্বিন ১৪২৫, ২৮ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ওরা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার

বর্তমান সভ্যতায় ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং রাষ্ট্রীয় উগ্রতা ও সন্ত্রাসের বড় শিকার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানরা। জুলুম-নির্যাতন, হত্যা-ধর্ষণের বীভৎস দৃশ্য সভ্যতার শাসকরা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন। এখন মাঝে মাঝে কেউ কেউ উহ-আহ করছেন, কূটনীতির চাতুর্যময় ভাষায় কথা বলছেন ক্ষমতাবানরা। মজলুম রোহিঙ্গাদের পাশে কার্যকরভাবে কেউ দাঁড়াচ্ছেন না। আত্মসমালোচনা ও ন্যায়বোধের দুর্ভিক্ষ চলছে এখন পৃথিবীতে। তবে বর্তমান নিষ্ঠুর ও অমানবিক বিশ্বপরিবেশে বাংলাদেশের ভূমিকা ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ আন্তরিকভাবেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়েছে। নির্যাতিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।
মিয়ানমারের প্রতিবেশী বড় দেশ ভারত। কিন্তু সেখানে মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা সেভাবে আশ্রয় পাচ্ছেন না। সম্প্রতি ভারত থেকে সাত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওদের বেঁচে থাকার ব্যাপারে শংকা প্রকাশ করে দিল্লীর এক শরণার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ শান্তি না আসা পর্যন্ত দয়া করে আমাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবেন না। আমরা অসহায়, আমাদের এখানে থাকতে দিন। ওরা আমাদের মেরে ফেলবে।’ হারুন নামে এক রোহিঙ্গা শরনার্থী বলেন, ‘আমরা ২০০৫ সাল থেকে ভারতে বাস করছি। কিন্তু সরকার ২০১৭ সাল থেকে ভিসা নবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। মিয়ানমারে আজও আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে।’ উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি আসামের শিলচরের কাছাড় কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা সাত রোহিঙ্গা যুবককে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারত। বেআইনিভাবে ভারতের ঢোকার দায়ে ২০১২ সালে তারা গ্রেফতার হয়েছিল। এখন তাদের হত্যা করা হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী ভারতে ১৪ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছেন। কিন্তু ভারত সরকারের তথ্য মতে ওই সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নথিভুক্ত করতে সম্প্রতি রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের কেন্দ্রীয়  সরকার  দেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহিষ্কার করার পক্ষপাতি। শরণার্থীদের বোঝা কেইবা বহন করতে চাইবে। তবে বিশ্বের বড় বড় দেশ তো মানবাধিকারের কথা বলে, ন্যায়ের কথা বলে। আন্তর্জাতিক আদালতসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলো তো মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার। মিয়ানমার তো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের হত্যা করেছে, দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা তো ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু রোহিঙ্গারা কাক্সিক্ষত ন্যায় ও মানবিক আচরণ পাচ্ছে না। আর মিয়ানমারের উগ্র বৌদ্ধদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছু বলছে না, এর কারণ কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ