ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 October 2018, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা প্রশ্নে সু চি-কে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তদন্তের আহ্বান অ্যাবে’র

 শিনজো অ্যাবে                                                                          অং সান সু চি

১০, অক্টোবর, এপি : রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোর ঘটনায় একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত পরিচালনা করতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। গত মঙ্গলবার টোকিওতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আবে আশ্বাস দেন, বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা দেবে জাপান। মার্কিন বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

ছয় দেশীয় মেকং আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে টোকিও সফরে রয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। মঙ্গলবার আবে ও সু চি একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। আবে সু চিকে সেসময় রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে আবে বলেন, ‘এ সমস্যাটি জটিল ও গুরুতর। জাপান মিয়ানমারের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করবে এবং সমস্যার সমাধানে দেশটির প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দেবে। একটি স্বাধীন প্যানেলের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া জরুরি।’

 ‘নিখুঁত ও যথাযথ’ তদন্ত নিশ্চিতের গুরুত্ব থাকার কথা স্বীকার করেছেন সু চি। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে সরকারি তত্ত্বাবধানে গঠিত প্যানেলের পক্ষে সাফাই গান সু চি। এ প্যানেলকে অবাধ ও কার্যকরী বলে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনা তদন্তের জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি তোলার পর চাপের মুখে ওই তদন্ত প্যানেলটি গঠন করে মিয়ানমার। তবে ওই প্যানেলের তদন্ত প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ওই তদন্ত প্যানেলের চার সদস্যের মধ্যে একজন জাপানের, একজন ফিলিপাইনের ও দুইজন মিয়ানমারের নাগরিক। সু চি’র দাবি, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তারা সবাই দক্ষ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টায় জাপানের সমর্থনকেও স্বাগত জানিয়েছেন সু চি। এর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীসহ দেশটির কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা করেছে এবং অভিযোগ থেকে সেনাবাহিনীকে নিষ্কৃতি দিয়েছে।

গত আগস্টে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকায় মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। বলা হয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক কর্তৃপক্ষও এই নিধনযজ্ঞে ইন্ধন জুগিয়েছে। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাখাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের মাত্রায় জাতিসংঘ অবাক হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ