ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 October 2018, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নিকি হ্যালির আকস্মিক পদত্যাগের রহস্য কী?

১০, অক্টোবর, সিএনএন : জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ট্রাম্প এ কথা জানালেও হ্যালি নাকি প্রায় এক সপ্তাহ আগেই পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। হ্যালির পদত্যাগের ঘোষণার সময় ট্রাম্প ও হ্যালি একে অপরের বেশ প্রশংসাও করেন। কিন্তু তারা কেউ পদত্যাগের উল্লেখযোগ্য কারণ বলেননি। প্রশ্ন হলো, হ্যালির আকস্মিক এ পদত্যাগের রহস্যটা কী?

হ্যালি বলেছেন, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পর এখন ব্যক্তিগত খাতে ফিরে যেতে চান। ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া ব্যবসায়ী হিসেবে আপনি নিশ্চয় একমত যে ব্যক্তিগত খাতে ফিরে যাওয়া আসলে একধরনের পদোন্নতি।

তবে অনেকই বলেছেন, হ্যালি হয়তো ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। আর সেজন্যই হয়তো আগে ভাগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। অবশ্য ইতোমধ্যে সেই জল্পনাকল্পনায় নিজেই অবসান ঘটিয়ে হ্যালি বলেছেন, ২০২০ সালে তিনি ট্রাম্পের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।

কিন্তু এটাতেও তার পদত্যাগের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ফলে ওয়াশিংটনের পণ্ডিত মহলের মনে করছেন, আসলে পদত্যাগ ঘোষণার পর ট্রাম্প ও হ্যালি একেঅপরের প্রশংসা করলেও তাদের মধ্যে কিন্তু অনেক বিষয়েই মতভেদ রয়েছে। গত মাসে নিউইয়র্ক টাইমস ট্রাম্প প্রশাসনের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার সমালোচনামূলক যে চিঠি প্রকাশ করে সেটি হ্যালির লেখা বলেই অনেকে মনে করেন। তবে সেটার অবশ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া সম্ভাব্য কারণটির ব্যাপারে সাধারণ মতৈক্য রয়েছে, তা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পম্পেও ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে বল্টনের নিয়োগের পর হ্যালির গুরুত্ব অনেক কমে এসেছে। কারণ তারা দুজনেই পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে ট্রাম্পের মতোই উগ্রপন্থী।

সমালোচকদের চোখে অবশ্য জাতিসংঘে হ্যালির সময়কাল অনেক বেশি বিতর্কিত। জাতিসংঘকে দুর্বল ও অকার্যকর করতে ট্রাম্প প্রশাসন এই সময়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রতিটিতেই হ্যালির সমর্থন ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জলবায়ুসংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি প্রত্যাখ্যান, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা। প্রতিটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে, যার অন্যতম সদস্য যুক্তরাষ্ট্র। নিকি হ্যালি এই পরিষদ থেকে এমন কথাও বলেছেন যে যারা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করবে না, তারা কোনো সাহায্য পাবে না। তিনি হুমকি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেসব রাষ্ট্রের তালিকা তৈরি করছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ধারণা, হ্যালির পদত্যাগের পেছনে আর্থিক বিবেচনাও কাজ করে থাকতে পারে। হ্যালি ও তার স্বামী মাইকেল হ্যালি কেউই মোটেই ধনী নন। নিকি হ্যালি ছয় বছর সাউথ ক্যারোলাইনার গবর্নর ছিলেন বটে, কিন্তু তার বার্ষিক আয় দুই লাখ ডলারেরও কম। এখন তিনি যদি ব্যক্তিগত খাতে চাকরি গ্রহণ করেন, এর চেয়ে বহু গুণ অর্থ উপার্জন তার জন্য কঠিন হবে না। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের সন্তান হ্যালি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ছিলেন। 

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যখন যৌন নিপীড়নের একের পর এক অভিযোগ উঠছিল তখন তিনি বলেছিলেন, ওই সব নারীদের ‘বক্তব্য শোনা উচিত’। এছাড়াও ট্রাম্পের মন্তব্য বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন হ্যালি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে জাতিসংঘে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ