ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 October 2018, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গ্রেনেড হামলার রায়কে ‘ফরমায়েসি’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির প্রত্যাখ্যান

গতকাল বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে ‘ফরমায়েসি’ রায় বলে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে এই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নগ্ন প্রকাশ। আমরা এই ফরমায়েসি রায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। মির্জা ফখরুল বলেন, জাতির দুর্ভাগ্য এই, সরকার তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার জন্যেই আদালতকে ব্যবহার করে আরেকটি মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।  যেমনটি করেছে মিথ্যা মামলায়  দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দিয়ে।
মির্জা ফখরুল বলন, আমরা সরকারের এহেন প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকর করার নোংরা কৌশল সজাগ হয়ে অনির্বাচিত এ্ সরকারকে হটিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। বিএনপি মহাসচিব জানান, বিএনপি এই রায়ের প্রতিবাদে রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে এবং আইন লড়াই করবে।
বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলা তারেক রহমানের আর কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও আজকে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো যে, এদেশে কোনো নাগরিকেরই আর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেয়া ও পদত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কথাই সঠিক প্রমাণিত হলো যে, যে দেশে প্রধান বিচারপতি সুবিচার পায় না, সেদেশে কোনো নাগরিকেরই সুবিচার পাওয়ার সুযোগ নেই।
২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনার পর বিএনপি সরকারের নেয়া পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি সরকারই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করেছে। এসব তদন্তে এবং আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল ১/১১ এর সরকারের আমলের তদন্তে প্রতিবেদনের কোথাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এমনকি ওই সময়ে ১৬১ ধারা অনুযায়ী তখন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে কারারুদ্ধ শেখ হাসিনাও তারেক রহমান কিংবা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। ৬২ জনের সাক্ষীর কেউ তারেক রহমান কিংবা বিএনপির নামও উচ্চারণ করেননি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলাটিকে রাজনৈতিক মামলায় রূপান্তরীত করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে হেয় ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত করার লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে চাকরিতে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে এটিকে একটি রাজনৈতিক মামলায় রুপান্তরিত করে। এই নতুন তদন্ত কর্মকর্তাই মামলার অন্যতম আসামী মুফতি হান্নানকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে নিয়ে, সীমাহীন ও অকথ্য অত্যাচার করে তারেক রহমানকে জড়িয়ে বানানো এক জবানবন্দীতে মুফতি হান্নান এর স্বাক্ষর নিয়ে তারেক রহমানকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তিতে মুফতি হান্নান আদালতে লিখিতভাবে তার সেই কথিত জবানবন্দী এই মর্মে প্রত্যাহার করেন যে, তিনি তারেক রহমানকে চেনেন না, তার সাথে কোনো কথা হয়নি এবং অত্যাচার করে তাকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, এই মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণ, উপাত্ত-তথ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয় নাই। তা সত্ত্বেও তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে রাজণৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করার জন্য।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ