ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 October 2018, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনকে সামনে রেখে সাজা দেয়া হয়েছে ॥ আপিলে সবাই খালাস পাবে

স্টাফ রিপোর্টার : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামীকে আপিল আবেদনের মাধ্যমে খালাস করানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, এই সরকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের সাজা দিয়েছে। অথচ মামলায় সাজা দেওয়ার মতো কোনও কিছুই ছিল না। একদিকে তারা আদালতকে ব্যবহার করেছেন, অন্যদিকে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সারা দেশে একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। আমরা আশা করি তারেক রহমান এবং যাদের এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের সবাইকে খালাস করাতে সক্ষম হবো।
গতকাল বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে জয়নুল আবেদীন এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুফতি হান্নান ও তারেক রহমানের নাম প্রাথমিকভাবে (সাক্ষ্যে) বলেননি। ৪১০ দিন তাকে (মুফতি হান্নান) রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের আইনে আছে, একটি মামলায় ১৫ দিনের বেশি কাউকে রিমান্ডে নেওয়া যাবে না। কিন্তু মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম বলানো হয়েছে। যদিও তারেক রহমানের কোনও সম্পৃক্ততা এখানে ছিল না।
জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, এই মামলায় সাক্ষী ছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা)। মুফতি হান্নান ও প্রধানমন্ত্রী তাদের সাক্ষ্যে তারেকের নাম বললে বুঝতাম তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কিন্তু একদিকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তারেক রহমানের নাম বলেননি (সাক্ষ্যে), অন্যদিকে তিনি সাক্ষ্য দিতেও আদালতে যাননি। তাই এই মামলায় তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ার কিছু নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের যে জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে বিএনপির অনেককে সাজা দেওয়া হয়েছে। লুৎফুজ্জামান বাবর ও পিন্টুকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সেই ১৬৪ ধারার জবানবন্দী আদালতে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সাজা হতে পারে না। তাই এই সাজা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের সাজা দিয়েছে। অথচ মামলায় সাজা দেওয়ার মতো কোনও কিছুই ছিল না। একদিকে তারা আদালতকে ব্যবহার করেছেন, অন্যদিকে তারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সারা দেশে একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।
আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়নুল বলেন, আমরা আশা করি তারেক রহমান এবং যাদের মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে এই মামলায়, আপিল করে তারেক রহমানসহ সব আসামীকে খালাস করাতে সক্ষম হবো।
প্রসঙ্গত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জীবিত ৪৯ আসামীর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছেন বিচারক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেওয়া হয়। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন গতকাল বুধবার (১০ অক্টোবর) এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মামলার পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ