ঢাকা, শনিবার 13 October 2018, ২৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রংপুরের শ্যামপুরে দেশের ৫০০ বছরের প্রাচীন ছোট মসজিদের সন্ধান

রংপুরের বদরগঞ্জ গোপালপুর ইউনিয়নের আকন্দপাড়ায় নান্দিনার দিঘীর পাড়দেশের ছোট্ট  মসজিদটি

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : ইতিহাস ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ভা-ারে ভরপুর এক জনপদের নাম রংপুর। এই জেলায় রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্যের অনেক ঐতিহাসিক নির্দশন। এমনই একটি কালের সাক্ষী দাঁড়িয়ে আছে মোঘল স্থাপত্য শৈলীর নির্দশন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে শ্যামপুরের ঐতিহাসিক আকন্দপাড়ার প্রাচীন মসজিদ। 

শৈল্পিক আঁচরে তৈরী ছোট ছোট ইটের গাঁথুনির বিন্যাসে নির্মিত মসজিদটির  চোখ ধাঁধাঁনো দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য নজর কারার মতো। স্বল্প পরিসর জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদের আয়তন নিয়ে রয়েছে কৌতুহলী নানা মত। এর উত্তর-দক্ষিণে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি প্রস্ত কাঠামো। এর দেয়াল ১ ফুট ১১ ইঞ্চি প্রস্ত। আয়তনে এত ছোট মসজিদ দেশের আর কোথাও নেই বলে জনমনের বিশ্বাস।

 ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটির অবস্থান রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলেমিটার দক্ষিণে গোপালপুর ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নের আকন্দপাড়ার নান্দিনার দিঘীর পাড় থেকে মাত্র ৩শ গজের ব্যবধানে প্রাচীন জরাজীর্ন এই মসজিদটি দাঁড়িয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যের জানান দিচ্ছে। গ্রামের মেঠোপথের পাশেই বাঁশ বাগানের ভিতর লতাগুল্ম আর জঙ্গলে ভরা মসজিদটি বটবৃক্ষের বেষ্টনে এখন ভুতুরে পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। কারুকার্যে খচিত মসজিদের মিনারসহ ভেঙে পড়েছে এর অবকাঠামো। মসজিদ বেয়ে উঠেছে বিরাট বটগাছের বেষ্টনি। এই বটবৃক্ষের ভারে খসে পড়েছে ইট। ভেঙে পড়েছে এর দেয়ালের বিভিন্ন অংশ। বর্তমানে মসজিদের কোল ঘেঁষে দুটি কবর রয়েছে। ছোট ছোট ইটের গাঁথুনির গুচ্ছমালায় তৈরি প্রাচীন  মোঘল স্থাপত্যের নিদর্শন এই মসজিদ। সময়ের পরিক্রমায় সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি র্দীঘদিন। অযতœ-অবহেলা আর সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় বর্তমানে প্রাচীন এই মসজিদটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মসজিদটি দেখতে প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে  কৌতুহলী দর্শনাথীদের আগমন ঘটে এখানে। এবিষয়ে কথা বলেন স্থানীয় গবেষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, মতান্তরে এই মসজিদটির বয়স অন্ততঃ চার থেকে পাঁচ’শ বছরের মত হবে। এখানকার পূর্ব পুরুষদের মতে এই অঞ্চলে এতো ছোট মসজিদ আর নেই। এর জমির পরিমাণ ও আকার-আয়তন খুবই তাৎপর্য পূর্ণ ভাবে কম। তিনি আরো জানান, মসজিদের উত্তর দক্ষিণে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি ও পূর্ব পশ্চিমে ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি। দেয়াল ১ ফুট ১১ ইঞ্চি প্রস্ত। একটি প্রবেশ পথ ও মেহরাব রয়েছে। মসজিদটি এতই ছোট যে এখানে ঈমামসহ ৩-৪জন নামাজ পড়তে পারতেন। মসজিদটির মিনার ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে মসজিদটিকে ঘিরে বিরাট বটগাছের বহর বেয়ে উঠেছে। প্রাচীন এই নিদর্শনটি সংরক্ষণ ও সংস্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় অধিবাসী বাবর আলী জানান, তাদের বাপ-দাদা পূর্ব পুরুষরা এই মসজিদের ইতিহাস ভালো জানতেন। আমরা শুনেছি এটি প্রায় ৪থেকে ৫শ বছররে প্রাচীন এই মসজিদ। মসজিদটি সংস্কার করে পর্যটন শিল্পের সাথে এই মসজিদটিকে যুক্ত করা  যেতে পারে। ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা মসজিদটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এটি সংরক্ষণে রংপুর বিভাগীয় প্রতœস¤পদ সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক জাকির আহমেদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের প্রাচীন স্থাপত্য, নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স¤পদ সংরক্ষণ এবং সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। এই মসজিদটি পরিদর্শন করে আমরা প্রতœতত্ত্ব বিভাগকে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণে দাবী জানিয়েছি।  গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজার রহমান দাবি করেছেন মসজিদটি সংরক্ষণ করা হলে প্রাচীন ঐতিহ্যের সুরক্ষা হবে। এ ব্যাপারে রংপুর জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ আবু সাঈদ ইনাম তানভিরুল ইসলাম জানান, প্রাচীন ওই মসজিদটির সংরক্ষণ ও সংস্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক ডিউজ চৌধূরী জানান, প্রকল্প গ্রহণ করে প্রাচীন মসজিদটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ