ঢাকা, শনিবার 13 October 2018, ২৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জ্বালানির ভালো উৎস কচুরিপানা

কচুরিপানাকে জলজ আগাছা মনে করেন অনেকেই। কিন্তু তেমনটা মনে করবার অবকাশ নেই। বরং এটি হতে পারে গ্রামীণজ্বালানির ভালো উৎস। গত ৯ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকের ভেতরের পাতায় কচুরিপানার একটি সুন্দর ছবি ছাপা হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জ্বালানি হিসেবে কচুরিপানার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বর্ষাকালে নদ-নদী, খালবিলসহ সর্বত্র কচুরিপানায় ভরপুর থাকে। এ জলজ আগাছা বড় হলে তীরে তুলে শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন এলাকার সাধারণ মানুষ। শুধু নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারেই নয় সারাদেশের বিলপুকুরেই কচুরিপানা জন্মে। এ পানা মাছের একপ্রকার যেমন প্রাকৃতিক খাদ্য, তেমনই এতে পোকামাকড় বসলে তাও মাছে খায়। কারণ বিলপুকুর বা নদী-নালার মাছকে কেউ খাবার দেয় না। এ পানার কচি শেকড় ও শ্যাওলার ওপর এসে বসা পোকামাকড় খেয়েই মাছ বাঁচে। আবার অনেক মাছ কচুরিপানায় আশ্রয় নেয় এবং ডিমও পাড়ে। তাই বিলপুকুর থেকে কচুরিপানা টেনে তুললে প্রচুর মাছও পাওয়া যায়।
কচুরিপানা গরু-মোষের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কৃষকরা কচুরিপানা পচিয়ে জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার শুকনো কচুরিপানা পুড়িয়ে আগের দিনে গ্রামীণমহিলারা এর ছাই পানিতে ছেঁকে নিয়ে তা দিয়ে কাঁথাকাপড় পরিষ্কার করতেন। তবে সাবান-সোডার ব্যাপক প্রচলন হওয়াতে কচুরিপানা পুড়িয়ে এখন আর খার ব্যবহার করা হয় না। পাটচাষীরা পানিতে পাট জাগ দিতে বা পচাতেও কচুরিপানার ব্যবহার করেন। অর্থাৎ জলজ আগাছা কচুরিপানা আমাদের নানাভাবে উপকারে লাগে। বিশেষত কচুরিপানা জ্বালানি হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত হলে আমাদের প্রচুর জ্বালানির সাশ্রয় হতে পারে। গ্রামাঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস দেয়া সম্ভব হয়নি বলে অনেকে ফলদ বৃক্ষ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন। জঙ্গল থেকেও গাছগাছড়া কেটে এনে রান্নাবান্নার কাজ সারেন মহিলারা। অথবা অধিক মূল্যের বিদ্যুতের অপচয় ঘটান। অথচ কচুরিপানা বিলপুকুর থেকে তুলে শুকিয়ে নিলেই চমৎকার জ্বালানি পাওয়া যায়। এছাড়া কচুরিপানা পচিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্টেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস দেয়া সম্ভব হয়নি বলে শুধু রান্নার কাজে কাঠের ব্যাপক ব্যবহার হয়। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন ভারসাম্যহীন হচ্ছে, তেমনই বন্য জীবজন্তু আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে। জ্বালানি হিসেবে গাছগাছড়ার ব্যবহারে বনভূমি যাচ্ছে কমে। এতে বিপন্ন হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। অথচ রান্নাবাড়ার জ্বালানি হিসেবে কচুরিপানার ব্যবহার বাড়ালে জ্বালানিসংকট যেমন হ্রাস পেতে পারে, তেমনই প্রকৃতির সবুজতা রক্ষা পাবার সঙ্গে সঙ্গে এর ভারসাম্যও ঠিক থাকে। তাই জ্বালানি হিসেবে কচুরিপানার ব্যবহার সম্পর্কে গ্রামীণপর্যায়ে উদ্যোগী হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ