ঢাকা, সোমবার 15 October 2018, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক আগেই অা’লীগের নিবন্ধন বাতিল হওয়া উচিত ছিল -ড. মোশাররফ

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল আয়োজিত দোয়া ও প্রতিবাদী নাগরিক সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা রায়ের পর বিএনপির আর নিবন্ধন থাকতে পারে না- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,তাহলে তো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক আগেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল হওয়া উচিত ছিল। ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনি বেশি কথা বলেন। গ্রামের চায়ের দোকানেও আপনার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা কোনো হত্যাকা-কেই সমর্থন করি না। অতীতে রমনার বটমূলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৃশংস হত্যাকা- ঘটেনি ? পিলখানায় নৃশংস হত্যাকা- ঘটেনি ? এসব ঘটনার জন্য তাহলে অনেক আগেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল হওয়া উচিত ছিল।
২১ আগস্ট হামলা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে কেউ ন্যায় বিচার আশা করে না। যে দেশে প্রধান বিচারপতি নিজে বিচার পাননি, সে দেশে অন্য নাগরিকরা সুবিচার পাবেন- এটা আশা করা অত্যন্ত কষ্টকর। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তাঁর বইয়ে লিখেছেন, যে দেশে আমি প্রধান বিচারপতি হয়ে বিচার পাইনি, সে দেশে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে সেটা আমি আশা করি না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিষয়েও তাই হয়েছে।
শুধু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে হাজার হাজার মামলা দেওয়ার একটাই উদ্দেশ্য বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মাইনাস করা এবং বর্তমানে যারা বিনা ভোটে গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা। মূলত সরকারের অলিখিত বাকশালকে প্রতিষ্ঠা করতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ভূতুড়ে মামালা দেওয়া হচ্ছে’ বলেন খন্দকার মোশাররফ।
খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না জানিয়ে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, জনগণের মধ্যে আওয়াজ উঠেছে এই স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের মানুষ নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে যে, খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না এবং জাতীয় ঐক্য ছাড়া জনগণকে এই স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
মোশারফ হোসেন বলেন, জনগণের মধ্যে আওয়াজ উঠেছে এই স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে যে বেগম জিয়াকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। জাতীয় ঐক্য ছাড়া জনগণকে এই স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। অতি শিগগিরই জাতীয় ঐক্যের রূপরেখা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। যার মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে লাখ লাখ মামলা দেয়ার একটাই উদ্দেশ্য সেটা হলো আবারও বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এসব মামলা দেয়া হচ্ছে। সরকারের অলিখিত বাকশালকে প্রতিষ্ঠা করতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে ভূতুড়ে মামলা দেয়া হচ্ছে।
সভায় সাবেক চিফ হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেয়া পরিকল্পিত মামলার রায় প্রত্যাহার করতে হবে। বেগম জিয়ার মুক্তি দিতে হবে, সকল ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, ইভিএম বাতিল করতে হবে। প্রতিহিংসা রাজনীতি বিএনপি কখনো করেনি, করবেও না এমন দাবি করে ফারুক বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিলই ঘোষণা হয়নি, অথচ তাতেই বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত বাড়িতে ঘুমাতে পারে না। যদি আমাদের নেতাকর্মী ও ভোটারদের একটি বার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ হয় তাহলে আওয়ামী লীগ একটা সিট ও পাবে না।
ফারুক বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ছাড়া যদি কোন নির্বাচন হয়, তাহলে সে নির্বাচন হবে ২০০৮ সালের মঈনের নির্বাচনের মত। আমরা ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টার ভয়ে কাদের সাহেবের পা থরথর করে কাঁপছে বলে তিনি মিডিয়ার সামনেই পাগলের প্রলাপ বকছেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি কৃষিবিদ এস এম শফি শাওনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গরি, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি ইব্রাহিম খলিল, কৃষক দল নেতা শাহজাহান সম্রাট প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ