ঢাকা, সোমবার 15 October 2018, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দেশে ফিরে কিছুটা স্বস্তির খবর দিলেন সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার : অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আঙুলের চিকিৎসা শেষে সাকিব গতকাল বেলা ১১.৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। গত ৫ অক্টোবর উন্নতি চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। সেখানে মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে আঙুলের চিকিৎসা করান তিনি। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা জানিয়েছেন এখনই সাকিবের আঙুলে সার্জারি করানো যাবে না। তার হাতের ইনফেকশন সারতে হবে আগে। সপ্তাহ খানেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অধীনে থাকার পর শুক্রবার হাসপাতাল  থেকে ছাড়া পান সাকিব। এদিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়েই ফিরেছেন সাকিব। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ইনফেকশন সারলেই মাঠে নামতে পারবেন তিনি। এরপর যদি আঙুলে কোন ব্যথা অনুভব না হয় তবে সার্জারিও করাতে হবে না। তবে ব্যথা অনুভব করলে বা নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিলে সার্জারি করাতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গ্রেগ হয়কে দেখিয়ে নয় দিন পর দেশে ফিরে সাকিব দিয়েছেন খুশির খবরই। আঙুলের ইনফেকশন নিয়ে ছিল শঙ্কা। তবে সাকিব সুখবর দিয়ে বলেন,‘ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। কিন্তু  সেটি প্রতি সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে হবে ইনফেকশনটা বেড়েছে কি না।’ অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক যা বলেছেন তাতে অস্ত্রোপচার নাও লাগতে পারে সাকিবের।

 তবে আসলে লাগবে কি লাগবে না এটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানালেন সাকিব। থাকতে হবে নিয়মিত পর্যবেক্ষনে। সাকিব বলেন, ‘ইনফেকশনটা যদি হাড়ের ভেতর থাকে, তাহলে সেটি সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই। হাড়ের  ভেতর যেহেতু রক্ত নেই আর সেখানে যেহেতু অ্যান্টিবায়োটিক পৌঁছায় না, তাই অপেক্ষা করতেই হবে। এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই আসলে ৬ থেকে ১২ মাস কোনো অস্ত্রোপচার করানো যাবে না।’ প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল অন্তত তিন মাস মাঠে ফিরতে সময় লাগবে সাকিবের। বিশ্বের অন্যতম  সেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘এটা এমন একটা সমস্যা, যেটা ভালো হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা কেউ দিতে পারছেন না। এমন হতে পারে, আমি হয়তো পরের মাসেই খেলতে পারব। যেহেতু এই মুহূর্তে আমার হাতে কোনো ব্যথা  নেই। এখন ভাবনা হচ্ছে আমার হাতের শক্তি কখন ফেরে।’ আর শক্তি ফেরার ব্যাপারটায় আশাবাদি সাকিব বলেন,‘ সেটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ফিরেও আসতে পারে। সেটি হলে সামনের মাসেই খেলতে পারি। আবার খেলার পরে যদি কোনো ব্যথা হয়, তাহলে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। পুরো বিষয়টিই অনিশ্চিত। তবে যেহেতু ব্যথা নেই, তাই মনে হচ্ছে অস্ত্রোপচার ছাড়াই খেলতে পারব। হাতের থেরাপিটা যত বেশি করা যাবে, ততই ভালো। আমি আসলে অস্ট্রেলিয়াতে থাকতেই তা শুরু করে দিয়েছি। হাতের আগের শক্তিটা আনারই এখন মূল উদ্দেশ্য।’ বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও যে শঙ্কা জেগেছে সেক্ষেত্রেও ইতিবাচকই শোনাল সাকিবের কথা,‘যেহেতু এই চোট  থেকে সেরে ওঠার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা কেউ দিতে পারছে না, তাই এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। এমনও হতে পারে, আমি পরের মাসেই খেলতে পারি। আবার মাঠে নামতে নামতে ছয় মাসও লেগে যেতে পারে।’ জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নিয়েও কথা বলছেন সাকিব আল হাসান।  ভাবতেই হচ্ছে। সাকিব বলেন,‘আমি না থাকার পরেও তো এশিয়া কাপের ফাইনালে খেললাম। কেবল ক্রিকেট নয়,  যেকোনো খেলাতেই খেলোয়াড়েরা চোটে পড়তে পারে। দুই-এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে পারে। তখন কি সেই দলগুলো খেলবে না? তবে এর সুবিধা হচ্ছে, নতুন দুই-একজন খেলোয়াড়ের সুযোগ তৈরি হয় এতে। আমাকে আর তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ যদি এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলতে পারে, তাহলে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমরা জিতব না কেন?’ সাকিব না থাকায় যেমন এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে ডাক পেয়েছেন ফজলে রাব্বি। তামিম ইকবাল না থাকায় তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত বা অন্য কারো খেলার সুযোগ হবে হয়তো। সাকিবের প্রত্যাশা তারা সেই সুযোগটা কাজে লাগাবে, ‘আশা করি তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে। সত্যি কথা বলতে কি, কারও জন্য কিছু অপেক্ষা করে না। আমি আশা করি, আমাদের ছাড়াই দল ভালো করবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ