ঢাকা, সোমবার 15 October 2018, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আত্মহত্যা রোধে মন্ত্রী নিয়োগ!

জীবনে জীবন থাকে, একসময় মৃত্যুও এসে যায়। আপনজনদের মৃত্যুতে আমরা দুঃখ পাই, আহত হই, ক্রন্দনও করি। এত কিছুর পরও আমরা মৃত্যুকে স্বাভাবিক বিষয় বলেই মনে করে থাকি। এ কারণেই বলা হয়, ‘জন্মিলে মরিতে হয় জানিবে নিশ্চয়।’ কিন্তু আত্মহত্যা? আত্মহত্যাও তো এক ধরনের মৃত্যুই, এখানেও জীবন থাকে না। তবে আত্মহত্যাকে আমরা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করি না। কিন্তু কেন? মানুষতো আশাবাদী হবে, দুঃখ-যন্ত্রণা ও বাধা-বিপত্তিতে সংগ্রামী হবে, হবে ধৈর্যশীল। অথচ আত্মহত্যায় আশাবাদ থাকে না, থাকে হতাশা। হতাশাতো মানবিক বিষয় হতে পারে না, হতাশায় থাকে ভুল জীবনদৃষ্টি, ভ্রান্ত জীবনদর্শন।
বর্তমান সভ্যতায় ভ্রান্ত জীবন দর্শনের প্রতাপ যেন বেড়েই চলেছে। এই প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের চিত্র উল্লেখ করা যেতে পারে। যুক্তরাজ্যে বছরে গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার লোক আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার এমন প্রবণতা যে কোনো দেশের জন্যই উদ্বেগজনক। এই প্রবণতা কমিয়ে আনতে দেশটিতে আত্মহত্যা রোধে একজন মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। উল্লেখ্য যে, মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিতে গত ১০ অক্টোবর লন্ডনে জড়ো হয়েছিলেন ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী ওই ঘোষণা দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন, জ্যাকি ডোয়েল-প্রাইস আত্মহত্যা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। থেরেসা মে আরো বলেছেন, দাতব্য সংস্থা সামারিটানস যাতে বিনামূল্যে কাউন্সিলিং দেওয়া অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য সরকার ২৪ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল সরবরাহ করবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্যে মানসিক বিষাদ ও চাপে থাকা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বিনামূল্যে হটলাইনে এবং সরাসরি কাউন্সিলিং দিয়ে থাকে সামারিটানস। আমরা জানি, যুক্তরাজ্য একটি উন্নত দেশ। শিক্ষায় এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা বেশ এগিয়ে। দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও সদস্য। এক কথায় বলা চলে, বর্তমান সভ্যতায় তারা বেশ অগ্রণী এবং সভ্যতার শাসকও বটে। তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর অনেক সমস্যা থেকেতো তারা মুক্ত। তাই প্রশ্ন জাগে, এমন একটি দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা এত প্রবল কেন ? হতাশা ও মানসিক সংকটের কারণগুলো কী? আমরা তো এখন পৃথিবীকে এবং মানষের সমাজকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করছি। তবে আমরা রাষ্ট্রগুলোকে উন্নত, অনুন্নত বা দরিদ্রÑ যে অভিধায়ই অভিহিত করি না কেন, সেখানে মানুষই বসবাস করে থাকেন, ফলে সমাজটা মানুষেরই। আর মানুষ মানে শরীর-মন-আত্মার অবস্থান। যে রাষ্ট্রে বা সমাজে ওই তিন বিষয়ের সুষম বিকাশের ব্যবস্থা থাকবে, সে সমাজই হবে প্রকৃত অর্থে মানুষের সমাজ। এমন সমাজে মানুষ হতাশ হবে না, আত্মহত্যাও করবে না। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বর্তমান সভ্যতায়। ফলে মানুষের মনে-মননে, চেতনায় যে অপূর্ণতা বা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা উপলব্ধি করতে হবে সমাজচিন্তক ও রাষ্ট্রনেতাদের। শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকৌশল ও চাতুর্য দিয়ে নাগরিকদের হতাশা দূর করা যাবে না, আত্মহত্যার প্রবণতাও ঠেকানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে মানবসত্ত্বার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ দার্শনিক ভাবনার প্রয়োজন খুবই যৌক্তিক। সময়ের এই প্রয়োজনকে বিশ্বনেতারা কতটা উপলব্ধি করেন, সেটাই দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ