ঢাকা, সোমবার 15 October 2018, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় শত বছর ধরে মালিকানায় থাকা পৈত্রিক সম্পত্তিতে ‘লাল নিশানা’ ও ‘সীমানা পিলার’

খুলনার ক্ষুদে খাল সংলগ্ন রেকর্ডীয় জমিতে ভবনসহ এভাবেই স্থাপন করা হয়েছে ‘সীমানা পিলার’... খুলনার ক্ষুদে খাল সংলগ্ন রেকর্ডীয় জমিতে ভবনসহ এভাবেই স্থাপন করা হয়েছে ‘লাল নীশান’...

খুলনা অফিস : নদসিকস্তি ও এডি লাইনের (নদের পভঙে যাওয়া অংশ) নামে খুলনা মহানগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ময়ূর নদ ও খুদে খাল খননের জন্য দ্বিতীয় দফায় সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিন্তু পকসিসির সম্পত্তি শাখা এবং পজলা প্রশাসনের সার্ভেয়াররা ব্যক্তিগত রেকর্ডীয় জমিও খালের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করছেন। শুধু তাই নয়, মসজিদ-মাদরাসাও বাদ পদয়া হচ্ছে না। শত বছর ধরে মালিকানায় থাকা পৈত্রিক সম্পত্তিতেও ‘লাল নিশানা’ ও ‘সীমানা পিলার’ বসানো হচ্ছে। এভাবে একতলা, পদাতলা বাড়িও খালের সীমানায় জুড়ে উচ্ছেদের তালিকায় রাখা হয়েছে। অথচ দুই বছর আগে পকসিসি, পজলা প্রশাসন, ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন পবার্ড ও জমি মালিকদের আমিন দিয়ে পঞ্চম পক্ষীয় পরিমাপেও ব্যক্তিগত পরকর্ডীয় জমি খালের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু এখন পকসিসির ও পজলা প্রশাসনের এ ধরনের খামখেয়ালিপনায় জমি মালিকরা চমরভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে একদিকে হতাশা এবং অন্যদিকে পক্ষাভ সৃষ্টি হয়েছে। এখন জমি পটকাতে বাধ্য হয়ে তারা ‘ময়ূর নদ খুদে খাল ভূমি রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে আন্দোলনও শুরু করেছেন। এরই মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন করে তারা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পমনে ১৯৬০ সালের এসএ ম্যাপ অনুযায়ী নদ  খননের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়ার পঘাষণা দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা পগছে, স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ ইমাম পহাসেন বাচ্চু, পশখ রাসেল কবির, এমএ কাশেম, মনোজ ব্যানার্জী, পমা. শফিকুল ইসলাম, আবদুল গফ্ফার, পমা. পতাফাজ্জেল পহাসেন তুহিন, সৈয়দ আরিফ, মুন্সী ওছিকুল ইসলাম, পশখ ইকবাল পহাসেন, পমা. মহসিন কবির, মল্লিক পমা. মামুন, আবদুল জলিল ব্যাপারী, রঞ্জিতা পবগম, সালাউদ্দিন, ইকবাল, আবদুল মান্নান, আবু দাউদ পশখ, ওবাইদুল্লাহ, আরিফ পহাসেন, মু. ওহিদুজ্জামান, পসলিম সরদার, বাচ্চু সরদার, সাইফুর রহমান, আবদুস সাত্তার পমাল্লা, মনোয়ারা পবগম, হায়দার আলী, পরাকেয়া পবগম ও পমা. পিয়াসসহ শতাধিক ব্যক্তির পরকর্ডীয় জমি নদী শিকস্তি ও এডি লাইনের মধ্যে নিয়ে ‘লাল নিশানা’ ও ‘সীমানা পিলার’ বসানো হয়েছে। এর মধ্যে হরিণটানার আহসানখালীর বাচ্চু নগরে ‘সৈয়দ ইমাম হাসান বাচ্চু জামে মসজিদ ও মাদরাসা, প্রস্তাবিত সৈয়দ ইফ্ফাত হাসান এতিমখানা এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদুল আকসা ও মাদরাসা কমপ্লেক্সের একাংশ অজুখানাসহ সীমানা পিলার বসানো হয়েছে। ফলে মুসল্লিদের মধ্যেও চরম পক্ষাভ বিরাজ করছে। তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।  নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় শাকপাতা বিক্রি করেন পশখ ইকবাল পহাসেন। তিন বছর আগে ৯ লাখ টাকা পলান নিয়ে শহরতলির ময়ূর নদের খুদে খাল সংলগ্ন এলাকায় তিন শতক জমি ক্রয় করেন।  পসখানেই পকানো রকমে মাথা পগাঁজার ঠাঁই করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। পলখাপড়া করাচ্ছেন তিন পময়েকেও। কিন্তু সম্প্রতি খুলনা সিটি করপোরেশন ও পজলা প্রশাসন ময়ূর নদ ও খুদে খাল খননের জন্য তার বাড়িসহ সীমানা নির্ধারণ করেছে। পয পকানো সময় উচ্ছেদ করা হতে পারে তাকে। এ কারণে মাথায় আকাশ পভঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে তার। এভাবে শুধু ইকবাল পহাসেন একা নয়, তার  মতো শতাধিক ব্যক্তি এখন মাথা পগাঁজার ঠাঁই হারানোর আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
অসহায় ইকবাল পহাসেন দীর্ঘশ্বাস পছড়ে বলেন, দলিল ও পরকর্ডসহ সব কাগজপত্র পদখেই তিনি জমি কিনেছেন। ট্যাক্স-খাজনাও পরিশোধ করছেন। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, ব্যক্তিগত পরকর্ডীয় জমিও নাকি নদ সিকস্তি ও এডি লাইনের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, জমি পকনার পলান এখনও পরিশোধ করতে পারেননি, জমিটুকু চলে পগলে পবঁচে থাকা আর না থাকা সমান হবে। কারণ তার পক্ষে শহরে ঘরভাড়া করে থাকা সম্ভব হবে না।
আবদুল মান্নান বলেন, তিনি বাবুর্চির কাজ করে তিল তিল করে জমানো অর্থ দিয়ে মাত্র ২ শতক জমি কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। অর্থের অভাবে মাটি ভরাট করতে না পপরে বাঁশ দিয়ে উঁচু করে ঘর পবঁেধছেন। এখন উচ্ছেদ করে দিলে পথে বসা ছাড়া পকানো উপায় থাকবে না।
ময়ূর নদ খুদে খাল ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি এসএ কাশেম বলেন, খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ময়ূর নদ ও খুদে খাল খননে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু পজলা প্রশাসনের সার্ভে টিম সরকারি খাস জমি ও খাল সঠিকভাবে নির্ধারণ না করে এবং জমি মালিকদের প্রকৃত কাগজপত্র না পদখে লাল পতাকা স্থাপন করছে। ফলে ওই দুই নদ ও খাল পাড়ের শত শত বসতবাড়ি ও ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, একদিকে জমির দলিল করা হচ্ছে, মিউটেশন করা হচ্ছে, খাজনা পনয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃত খালের নকশা বাদ দিয়ে নতুন নকশা তৈরি করা হচ্ছে-এটা দ্বিমুখী নীতি। তিনি পরকর্ডীয় জমি মালিকদের জায়গায় লাল নিশানা ও সীমানা পিলার স্থাপন বন্ধ রাখার দাবি জানান। অন্যথায় তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন বলেও উল্লেখ করেন।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক পমা. পতাফাজ্জেল পহাসেন তুহিন, আবদুল গফ্ফার, আবুল কালাম আজাদ, পমা. আসাদুর রহমান, আরজাহান বানু ও নূর পমাহাম্মদ পশখসহ অধিকাংশ জমির মালিক বলেন, তারা  পকউ পৈত্রিক সূত্রে আবার পকউ নিয়ম পমনে জমি কিনে ঘরবাড়ি করে বছরের পর বছর বসবাস করছেন। গাছপালা পরাপণ করেছেন। এর মধ্যে পকানো সংস্থা, প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ পকউ তাদের বাধা পদয়নি, নিষেধও করেনি। এমনকি তাদের কাছ পথকে ট্যাক্স-খাজনাও পনয়া হচ্ছে। তাহলে হঠাৎ করে তাদের পরকর্ডীও জমি পকন খাস হলো-এ প্রশ্ন পরখে তারা বলেন, যদি জমি প্রয়োজন হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী সরকার অধিগ্রহণ (এ্যাকোয়ার) করতে পারে। পস পক্ষত্রে জমি ও স্থাপনাসহ সব সম্পদের উপযুক্ত মূল্য দিলে তারা সহযোগিতা করবেন।
জমি মালিক ইমাম হাসান বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির মধ্যে লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ১৯২৬, ১৯৬০ ও বর্তমান নকশা অনুযায়ী ওই জমির মালিক তার বাবা। কিন্তু পকান নকশা অনুযায়ী ওই পতাকা বসানো হয়েছে তা তারা বুঝতে পারছেন না। সার্ভেয়ারদের কাছে জানতে চাইলেও তারা বলছেন না।
অপর জমির মালিক, পকসিসির ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পুলিশিং কমিটির সভাপতি পশখ আবু দাউদ অভিযোগ করেন, পকানো পক্ষের কাছ পথকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে সরকারকে পবকায়দায় পফলতে এ ধরনের পবআইনি কাজ করা হচ্ছে। এটি বন্ধ না হলে প্রয়োজনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পদখা করে বিষয়টি অবহিত করবেন, এমনকি আইনি পদক্ষেপও পনবেন।
কেসিসির সম্পত্তি শাখার প্রধান (স্টেট অফিসার) পমা. নুরুজ্জামান তালুদকার বলেন, পজলা প্রশাসনের পক্ষ পথকে তাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পস কারণে তারা শুধু সহযোগিতা করছেন। তাদের সার্ভেয়ার পরিমাপ করে পযখানে সীমানা চিহ্নিত করছে তারা পসখানেই পিলার স্থাপন করছেন। নদী শিকস্তি এবং এডি লাইনের বিষয়টি সম্পূর্ণ পজলা প্রশাসনের এখতিয়ার। এখানে পকসিসির পকানো বিষয় পনই।
এ ব্যাপারে খুলনার অতিরিক্ত পজলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সায়েদ মনজুর আলম বলেন, খুলনা নগরীর ২২টি খালের সীমানা নির্ধারণের জন্য পকসিসির পক্ষ পথকে দু’জন সার্ভেয়ার পচয়ে পত্র পদয়া হয়। পস পমাতাবেক সার্ভেয়ার পদয়া হয়েছে। পকসিসির সম্পত্তি শাখার পলাকজন সার্ভেয়ার নিয়ে পরিমাপ করছে। কিন্তু পসটি নদের সীমানা নির্ধারণ, কারও পরকর্ডীও জমিতে সীমানা পিলার বা লাল নিশান স্থাপনের কথা নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ