ঢাকা, সোমবার 15 October 2018, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দাকোপে মিনি পুকুর মডেলে সবজি চাষ

খুলনা অফিস : লবণাক্ত জমি। বছরে পকানো মতে ৩ পথকে ৪ হাজার টাকার ধান চাষ হতো। এখন পসই জমিতে বছরে আয় পদড় লাখ টাকা। আয়ের পাশাপাশি পরিবারের সবজি ও মাছের চাহিদাও মিটছে কৃষকদের।
দাকোপে মিনি পুকুর মডেলে সবজি চাষে এ সাফল্য অর্জন করেছেন দাকোপ উপজেলার সাহেবের আবাদ গ্রামের নিরাপদ রায়। বসতবাড়ির পাশে নানা সবজির বাগান। পসই বাগানের মধ্যখানে পছাট একটা পুকুর। পস পুকুরে হচ্ছে মাছ চাষ। পুকুরের চারপাশ দিয়ে ওপরে কুঞ্চি দিয়ে জাল টাঙানো। তার ওপরে ও বাগানের চারপাশের পবড়া পবয়ে উঠেছে নানা সবজির গাছ। পবগুন, করলা, বরবটি, টমেটো পযন পাল্লা দিয়ে বড় হচ্ছে পসখানে। অন্যদিকে পুকুরে বড় হচ্ছে মাছ। কৃষক নিরপাদ রায় জানান, বছর তিনেক এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন তিনি। এ পদ্ধতিতে সারা বছর সবজি ও মাছের চাষ করা যায়। পরিবারে সবজি ও মাছের চাহিদাও পমটে। বছরে এ ২০ শতক জায়গায় প্রায় পদড় লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে।
দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে একই জমিতে বছরজুড়ে চাষাবাদ করে সফলতা পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয় কৃষি বিভাগের উদ্ভাবিত বৃষ্টির পানি পুকুরে ধরে পরখে চাষাবাদ করা হয় বলে এর নাম পদওয়া হয়েছে মিনি পুকুর দাকোপ মডেল। এ মডেলে সফলতা পপয়ে সনাতন পদ্ধতি পছড়ে অনেকেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন। দিন দিন এ পদ্ধতির প্রচলনও বাড়ছে। স্থানীয় কৃষক অর্পা রানী রায় জানান, এ পদ্ধতিতে প্রথম বছরে খরচ হয়। পরের বছর পথকে বীজ, সার আর কীটনাশকের খরচ রয়েছে মাত্র। কিন্তু আয় হয় পদড় লক্ষাধিক টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই’র মিনি পন্ড ইরিগেশন প্রকল্পের অর্থায়নে এবং দাকোপ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বর্তমানে এ পদ্ধতির চাষাবাদ শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালের দিকে দাকোপ উপজেলার কৃষি বিভাগ এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। এ পদ্ধতি একটি জমির পাঁচ ভাগের এক ভাগ জায়গায় পুকুর পকটে পসই মাটি দিয়ে জমির বাকি অংশ উঁচু করা হয়। বৃষ্টির পানি পুকুরে সংরক্ষণ করে পসখানে মাছ চাষ এবং উঁচু জমিতে বছরভরে বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করা হয়। পবগুন, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, বরবটি, করলা, শশা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঝিঙেসহ অনেক ধরনের সবজি এখন এ জায়গায় পমলে। উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা পগছে, উপজেলার চাষযোগ্য জমি ১৯ হাজার ৮শ ৩০ পহক্টর। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানিতে প্রচুর লবণ এবং পলৗহ থাকায় পস পানি দিয়ে চাষাবাদ করা যায় না। ফলে এলাকার অনেক জমিই শুধুমাত্র বর্ষা মওসুমে পরাপা আমনের চাষাবাদ করা হয়। বাকি সময় মিঠা পানির অভাবে রবি ও খরিফ-১ মওসুমে ফসল ফলানো প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি পতিত পথকে যায়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রথমে ১৪টি মিনি পুকুর পকটে পদয়া হয়। বর্তমানে এ উপজেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে ৮৭৫টি পুকুর পকটে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পমা. পমাছাদ্দেক পহাসেন জানান, এ পদ্ধতিতে কৃষকেরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। পাঁচ বছর আগেও এ উপজেলার সবজির চাহিদা পমটাতে হতো বাইরে পথকে এনে। আর এখন এ এলাকার করলা, মিষ্টিকুমড়া, গ্রীষ্মকালীন টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি অন্য অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে প্রথম বছর কিছুটা খরচ হওয়ায় অনেক কৃষক তা করতে পারে না। তবে সরকারি সহায়তা পপলে লবণাক্ত এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। এ ব্যাপারে খুলনা পজলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পমা. আব্দুল লতিফ জানান, লবণাক্ত এলাকায় বৃষ্টির পানি ধরে পরখে চাষাবাদ করা হয়। এর ফলে একজন কৃষক মিঠা পানিও পায় আবার জমিটাও উঁচু করতে পারে। এটি দিনদিন উপকূলীয় মানুষের কাছে ব্যপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ