ঢাকা, সোমবার 15 October 2018, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫, ৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় প্রাইমারী স্কুল ছাত্রী শিমুকে ধর্ষণের পর পানিতে ফেলে হত্যা

খুলনা অফিস : কুয়েট ক্যাম্পাসস্থ উন্মেষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া আক্তার শিমু (৮)’র মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় গেস্খফতারকৃত দুই আসামি মো. হাবিবুর রহমান (২০) ও তার বোন শারমিন (২৮) কে আদালতে সোপর্দ করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। এদের মধ্যে হাবিবুর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তেমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। মহানগর হাকিম মো. আতিকুস সামাদ এ জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন। শিমু খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল ৭ নং ওয়ার্ডের জব্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ট্রাক ড্রাইভার হালিম হাওলাদারের মেয়ে।
গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায়, যোগীপোল ৭ নং ওয়ার্ডের জব্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ট্রাক ড্রাইভার হালিম হাওলাদারের শিশু কন্যা সাদিয়া আক্তার শিমু (৮) কে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর শিমুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় এবং ঘটনা জানাজানির ভয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাবিবুর ও তার বোন শারমিন। ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করতে শিশু শিমুকে পানিতে  ফেলে দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সাদ্দামের শ্যালক মো. হাবিবুর রহমান (২০) কে কোটালীপাড়া থেকে এবং তার বোন সাদ্দামের স্ত্রী শারমিন (২৮) কে শনিবার মহেশ^রপাশা থেকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে এমন তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত সানজিদা আক্তার শিমুর নানা তোতা মিয়া বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন (নং ১০)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাদিয়া আত্তার শিমু এবং শিমুর মামা শিশু মাহফুজ (৬) কে শিমুর মামার বন্ধু সাদ্দাম ও তার স্ত্রী শারমিন মহেশ^রপাশা সাহেবপাড়াস্থ তাদের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। ঐদিন রাত ১০টায় শিমুর মা আখি তাকে আনতে গেলে তারা শিমুকে না দিয়ে পরের দিন দুপুরের পর দিয়ে আসবো বলে জোর পূর্বক তাকে রেখে দেয়। পরের দিন সকালে সাদ্দাম এবং তার স্ত্রী শারমিন কাজে বাইরে চলে গেলে বাসা ফাঁকা পেয়ে সাদ্দামের শ্যালক হাবিবুর কৌশলে শিশু শিমুকে ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে শিমুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং ঘটনা বাড়িতে বলে দেয়ার কথা বলায় শিমুকে সাদ্দামের শ্যালক হাবিবুর এবং তার স্ত্রী হাবিবুরের বোন শারমিন পানিতে ডুবিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। বিষয়টি ভিন্নদিকে নিতে তারা পানিতে ডুবে শিমুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে।
মামলা দায়েরের পরই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, গত শনিবার আসামি মো. হাবিবুরকে টুঙ্গিপাড়ার কোটালীপাড়া থেকে এবং ২ নং আসামীকে মহেশ^রপাশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ