ঢাকা, শুক্রবার 14 December 2018, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারতে #মিটু নিয়ে একজোট মহিলা পরিচালকরা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

#মিটু তালিকা ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। #মিটু নিয়ে বলিউড পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল আগেই। রবিবার ভারসোভা থানার অফিসার জানিয়েছেন, শনিবার রাতে সুভাষের বিরুদ্ধে হেনস্থার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক অভিনেত্রী-মডেল। ডিসিপি পরমজিৎ সিংহ দাহিয়া বলেছেন, ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে।’’ 

সেই অভিযোগে রয়েছে, ‘‘গত ৬ অগস্ট উনি (ঘাই) আমায় বাড়িতে ডেকেছিলেন। সেখানে পাঁচ-ছ’জন লোক ছিল। উনি আমায় ওঁর পিঠ এবং মাথায় ম্যাসাজ করে দিতে বলেন। শুনে চমকে যাই। তবু ৭৩ বছরের এক জনকে শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য তিন-পাঁচ মিনিট ওঁর মাথায় ম্যাসাজ করে দিয়েছিলাম। তার পরে ওয়াশরুমে যাচ্ছিলাম হাত ধুতে।’’ ওই মহিলার দাবি, সুভাষ তাঁর পিছু পিছু এসে তাঁকে অন্য ঘরে নিয়ে যান। বলেন, কিছু কথা আছে। মহিলার কথায়, ‘‘এর পরে উনি আমার আরও কাছে চলে আসেন। জোর করে আমায় চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন।’’ এর পরে ওই মহিলা সুভাষকে বলেছিলেন, তিনি চলে যেতে চান। ঘাই তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলেন, চলে গেলে আর তাঁকে ছবিতে কাজ দেওয়া হবে না। মহিলার মন্তব্য, ‘‘উনি বলেছিলেন, যা কে দিখা! কোথাও যাবে না তুমি, আমার সঙ্গে সারা রাত থাকবে। না হলে তোমায় সুযোগ দেব না। স্টার হওয়া হবে না তোমার।’’ 

অভিযোগকারিণীর দাবি, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে ঘাইয়ের সঙ্গে আলাপ। অভিযোগে রয়েছে, ‘‘বিভিন্ন পার্টিতে উনি আমায় ওঁর বাড়িতে ডাকতেন। তখনই ছবিতে সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সব সময়েই ফ্লার্ট করার চেষ্টা করতেন।’’ 

সুভাষের বিরুদ্ধে এর আগেই ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক মহিলা। এক সময়ে তিনি সুভাষের ইউনিটে কাজ করেছেন। বিশদে তিনি লিখেছেন, সুভাষ কী ভাবে তাঁকে জোর করে চুমু খেয়ে পরের দিন মিটমাটের চেষ্টা করেন। পরে পার্টি থেকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নামে হোটেলে ধর্ষণ করেন। তাঁর লেখাটি টুইটারে শেয়ার করেন মহিমা কুকরেজা। সুভাষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পরিচিত কাউকে অসম্মান করা ফ্যাশনে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। অতীতের অসত্য কিছু অভিযোগ তুলে আনা হচ্ছে। এই সব মিথ্যে অভিযোগে পাত্তা দিতে চাই না।’’

এ দিন কঙ্কনা সেনশর্মা, নন্দিতা দাস, মেঘনা গুলজার, গৌরী শিন্দে, কিরণ রাও, রীমা কাগতি, জোয়া আখতারের মতো মহিলা পরিচালকরা একজোট হয়ে #মিটু আন্দোলনে তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘‘মহিলা এবং পরিচালক হিসেবে আমরা #মিটু আন্দোলনের পাশে আছি। যে সব মহিলা হেনস্থা-নিগ্রহের সত্য বিবরণ নিয়ে এগিয়ে আসছেন, তাঁদের সঙ্গে আছি। ওঁদের সাহসের জেরে একটা বহুকাঙ্ক্ষিত বিপ্লব শুরু হয়েছে। তাই আমাদের সম্মান এবং প্রশংসা ওঁদের প্রাপ্য। কর্মস্থলে বৈষম্যহীন সুরক্ষার পরিবেশ তৈরির জন্য সচেতনতা গড়ে তুলতে চাই আমরা। তাই প্রমাণিত অপরাধীদের সঙ্গে আমরা কোনও কাজ করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির বাকিদেরও সেই একই অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

এ দিনই আবার প্রবীণ সাংবাদিক বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে ফেসবুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন পরিচালক নিষ্ঠা জৈন। নিজের ফেসবুক পোস্টে ১৯৮৯ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন নিষ্ঠা।

#মিটু সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য দিল্লি মহিলা কমিশন আলাদা একটি ই-মেল আইডি তৈরি করেছে, metoodcw@gmail.com। এই সংক্রান্ত সাহায্যের জন্য ১৮১ নম্বরে ফোন করার কথাও বলেছে মহিলা কমিশন। 

সূত্র:আনন্দবাজার পত্রিকা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ