ঢাকা, বুধবার 17 October 2018, ২ কার্তিক ১৪২৫,৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রেখেছি-এরদোগান

 

১৬ অক্টোবর, ইয়েনিসাফাক ডট কম : গত সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, তুরস্কই একমাত্র দেশ যেটি মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখে। এরদোগান প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনে তুরস্কের ধর্মীয় কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠককালে বলেন, ‘সাংস্কৃতিক সম্পদ, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং ভৌগোলিক অবস্থানগত দিকের কারণে তুরস্ক শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি তুরস্কই একমাত্র দেশ যেটি মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখে।’

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তুরস্কের যুদ্ধ সম্পর্কে বলতে গিয়ে এরদোগান বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রেখেছি। আমরা অন্তত ৭,৫০০ দায়েশ এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) যোদ্ধাকে নিরস্ত্র করতে সক্ষম হয়েছি।’

পিকেকে নামক সংগঠনটিকে তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। পিকেকে নামক সন্ত্রাসী সংগঠনটি ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। পিকেকের সাথে গত তিন দশক ধরে চলমান সংঘাতে ৪০,০০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নিরীহ নাগরিক।

এরদোগান বলেন, তুরস্কের বর্তমান নেতৃত্বের জন্য ফেতুল্লাহ পন্থী সন্ত্রাসী সংগঠনের (FETO) সন্ত্রাসীদের দমন করা একটি কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৬ সালে তুরস্কের সরকার পতনের লক্ষ্যে FETO গোষ্ঠী তৎপরতা চালিয়েছে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ‘FETO গোষ্ঠীকে সমূলে উৎখাত করতে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি আপনাদের বলতে চাই, আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। দুর্ভাগ্যবশত আমাদেরকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে।’

২০১৩ সালে তুর্কি সরকারের কিছু মন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চালানো কার্যক্রমের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে এরদোগান বলেন, যদি আমরা সেই ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিতাম তবে ২০১৬ সালে FETO গোষ্ঠী হয়তো তাদের উদ্দেশ্য সফল করে ফেলত।

প্রসঙ্গত, FETO এবং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফেতুল্লাহ গুলেনের সমর্থকরা ২০১৬ সালের জুলাই মাসে তুরস্কে একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় অন্তত ২৫১ জন নিহত এবং ২,২০০ জন গুরুতর আহত হয়েছিল।

আঙ্কারা তুর্কি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিচার বিভাগে লুকিয়ে থাকা ঋঊঞঙ পন্থী বিভিন্ন কর্মকর্তাদেরকে অভিযুক্ত করে বিচারের আওতায় এনেছে।

২০১৩ সালে FETO পন্থী তুর্কি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চালানো কার্যক্রমের ফলে সেসময় দেশটির FETO পন্থী অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জের ধরে ২০১৬ সালে তুরস্কের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ