ঢাকা,মঙ্গলবার 13 November 2018, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনার সরকারি গুদামের ৯৭ কোটি টাকার গম পোকায় খাচ্ছে!

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

খুলনার সরকারি খাদ্য গুদামের গম পোকায় খাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে মানব খাদ্যের অনুপযোগী হচ্ছে গুদামের এসব গম। খবর ইউএনবির।

জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলার ১০টি সরকারি খাদ্য গুদামে রক্ষিত ৩৪ হাজার মেট্রিক টন গমে পোকার আক্রমণ হয়েছে। গুদামে মজুদকৃত এসব গমের বাজার মূল্য ৯৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি গমের খুচরা মূল্য ২৮ টাকা।

এদিকে, পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিমাসে কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আগামী দু’তিন মাসের মধ্যে মজুদকৃত গম খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। গম বিতরণের কোনো খাত খুঁজে পাচ্ছে না খাদ্য অধিদপ্তর।

সূত্র জানায়, গত ছয় মাস ধরে প্রতিমাসেই জেলা খাদ্য অফিস এমন তথ্য খাদ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করছে। কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম ও উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকেও প্রতিমাসে এমন তথ্য জানানো হচ্ছে জেলা খাদ্য অফিসকে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না।

মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক শেখ আনোয়ারুল করিম জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশ না থাকায় মজুদকৃত গম বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মজুদকৃত গম গত বছর রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। এসব গমে পোকার আক্রমণের বিষয়টি জেলা খাদ্য অফিসকে প্রতিমাসে জানানো হচ্ছে।

খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন জানান, সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় এবং কোনো খাত খুঁজে না পাওয়ায় মজুদকৃত গম বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ওএমএস’র মাধ্যমে প্রতিমাসে এক হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ৬৭৫ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ৭৮ জন ডিলার প্রতিদিন এক মেট্রিক টন আটা বিক্রি করতে পারে না। দীর্ঘদিন মজুদ থাকায় গমে পোকার আক্রমণ হয়েছে। জেলার দশ গুদামে ৩৪ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন আমদানিকৃত গম মজুদ রয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরে পাঠানো জেলা খাদ্য অফিসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে মংলা বন্দরের মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম খুলনার দশ গুদামে মজুদ করা হয়। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার ব্রিগেড, জেলখানায় ছয় হাজার মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। দশ গুদামে গত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৫৫৯ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে। সব চেয়ে বেশি মজুদ বয়রাস্থ খুলনা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামে। এখানে ১৬ হাজার মেট্রিক টন এবং মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামে ১২ হাজার মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে। বাকি গম উপজেলা পর্যায়ের আট গুদামে মজুদ রয়েছে।

খুলনা জেলা খাদ্য অফিসের সূত্র জানান, রাশিয়া থেকে আমদানি করা লাল রঙের গমকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রিমিথাইল ও এগ্রিফস নামের কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ