ঢাকা,মঙ্গলবার 13 November 2018, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তিব্বতে পাহাড়ধসে আটকে গেছে ব্রহ্মপুত্র, বন্যার আশঙ্কা ভারতে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

তিব্বতে নদী পথজুড়ে বিশাল পাহাড়ি ধসে আচমকা হড়পা বানে ভেসে যেতে পারে অরুণাচল প্রদেশের একটি বিস্তীর্ণ এলাকা। চিনের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের কাছ থেকে এই ধসের খবর পাওয়া মাত্রই সতর্কতা জারি করেছে অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন। তিব্বতের এই ইয়ারলুং সাংপোই অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং নামে প্রবাহিত। সিয়াং আরও নীচে নেমে এসে অাসামে নাম নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র।ইতোমধ্যে অাসামেও বন্যার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। 

অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন, সিয়াং নদীর কাছাকাছি না যেতে সতর্তকা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতেও অনুরোধ করা হয়েছে। ধসের কারণে সিয়াং নদীতে জলের প্রবাহ কমে গিয়েছে। এরপর লেক ভেঙে গেলেই নিম্ন অববাহিকায় প্রবল বন্যার আশঙ্কা। কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের তরফেও কেন্দ্রকে বিষয়টি নিয়ে জানানো হয়েছে।

আইনসভার কংগ্রেস সদস্য নিনং এরিং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে চিঠি লিখে বিষয়টি নিয়ে চিনের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেছেন।

চিনের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ইয়ারলাং সাংপো নদীতে কৃত্রিম লেক তৈরির জেরে প্রায় ছ-হাজার লোককে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অাসাম সরকারের তরফ থেকে আপার অাসামের ডিব্রুগড়, ধেমাজি, লাখিমপুর, তিনসুকিয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রের তরফে কলকাতা ও ভুবনেশ্বর থেকে এনডিআরএফ টিমকে পাঠানো হয়েছে এলাকায়।

অরুণাচল প্রদেশ সরকার সূত্রে খবর, বেজিং-এর তরফ থেকে নতুন দিল্লিকে ইয়ারলাং সাংপো নদীতে কৃত্রিম লেক তৈরির কথা জানানো হয়েছে। ওই নদীর জলস্তর হঠাৎই যে বেড়ে গিয়েছে, তাও জানানো হয়েছে। শনিবার বিকেলের দিক থেকে ভারত-চিন সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত সিয়াং নদীতে জলপ্রবাহ বাড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় পানি কমিশন অাসাম সরকারকে জানিয়েছে, চিন ভারত সরকারকে জানিয়েছে, সেখানে প্রতি ঘন্টায় ৮ মিলিয়ন কিউবিক মিটার অথবা প্রতি সেকেন্ডে ৮০ হাজার কিউবিক মিটার পানি জমা হচ্ছে।

চিনের সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রবল বৃষ্টি-সহ প্রাকৃতিক কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে।

তিব্বত থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তৈরি হওয়া কৃত্রিম হ্রদের দৈঘ্য ৩.৫ কিমি এবং প্রস্থে ২.৫ কিমি। তিব্বতের নেক্সিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ১৭ কিমি নিচে এই কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে।

সিয়াং নদীতে প্রবল বৃষ্টির কারণে এর আগেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গত অাগস্টে অাসামের ধেমাজি জেলার বহু মানুষকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছিল।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ