ঢাকা, শনিবার 19 October 2019, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

জামাল খাসোগি হত্যা: আজ সব সত্য প্রকাশ করবেন এরদোগান

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একেবারে নগ্নসত্য প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার তিনি দলীয় বৈঠকে খাসোগি হত্যা তদন্ত বিষয়ে একটি নতুন বিবৃতি প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন।গত রোববার দোহাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানায়।

নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট ও ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ানে নিয়মিত কলাম লিখতেন। গত ২ অক্টোবরে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর তিনি আর বেরিয়ে আসেননি।

খাশুগজির অন্তর্ধানের ব্যাখ্যা কী, এই নিয়ে কঠিন চাপে পড়েছিল সৌদি আরব। শুক্রবারের আগ পর্যন্ত খাসোগির খোঁজ তাদের জানা নেই এবং সে কনস্যুলেটে ভবন ছেড়ে গেছে বলে দাবি করে আসছিল দেশটি।

তবে গত শুক্রবার সৌদি আরব স্বীকার করে প্রখ্যাত সৌদি সমালোচক খাসোগি ইস্তাম্বুল কন্সুলেটের ভিতরে মুষ্টি যুদ্ধে মারা গেছেন। তারা বলেছে, কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাসোগির সঙ্গে যারা সাক্ষাৎ করেছিলেন, তাদের সঙ্গে তার মারামারি শুরু হয়। আর তা শেষ হয় খাসোগির মৃত্যুর মাধ্যমে।

তবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সৌদি স্বীকারোক্তিকে অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবী করে।এরপর গত রোববার দ্বিতীয়বারের মতো অবস্থান পরিবর্তন করে সৌদি আরব। রিয়াদ এবার বলেছে, সাক্ষাৎপ্রার্থীরা নয়, সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা শ্বাসরোধ করে খাশোগিকে হত্যা করেছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের রোববার মার্কিন টিভি চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খাশোগিকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খুন করেছেন এবং এটা ছিল ‘ভয়ঙ্কর ভুল।’

এদিকে, তুরস্ক শুরু থেকেই গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ঘটনা প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছিল।তুরস্কের কর্মকর্তারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শুরু থেকেই বলে এসেছেন, খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যে হত্যা করে তার লাশ টুকরা টুকরা করে ফেলা হয়েছে। এমনকি খাশোগি জীবিত থাকা অবস্থায়ই তার শরীর বিচ্ছিন্ন করা শুরু হয় বলে তারা জানিয়েছেন।গত রোববার ইস্তানবুলে দেয়া এক ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, আগামী মঙ্গলবার দলীয় বৈঠকে আমি আমার বক্তব্য পেশ করবো। আমরা এখানে ন্যায়বিচার চাচ্ছি। এতে সব নগ্ন সত্য বেরিয়ে আসবে। কেবল কিছু সাধারণ পদক্ষেপই নয়, বরং সব নগ্ন সত্য বেরিয়ে আসবে।

এ ঘটনায় এরদোগান বেশ নিশ্চুপই ছিলেন এতদিন। যদিও তুরস্কের সরকার সমর্থক পত্রিকাগুলো জানিয়েছে, কনস্যুলেটে খাসোগিকে মোকাবেলা করতে সৌদি আরবের ১৫ সদস্যের একটি দল ইস্তানবুলে কুনস্যুলেটে এসেছিল।

এরদোয়ানের ঘোষণার পর খাসোগির পরিণতি নিয়ে যে রহস্য, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে খাসোগি ‘হাতাহাতি’ করে নিহত হয়েছেন বলে সৌদি আরব যে দাবি করেছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, ঘটনার জেরে তারা ১৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং উচ্চপদস্থ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে।

তুরস্কের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাসোগিকে হত্যার জন্য সৌদি আরবের ১৫ সদস্যের খুনির দল তুরস্কে এসেছিল এবং কয়েক ঘণ্টা পর ব্যক্তিগত বিমানে করে ফিরে যায়।

এরদোয়ান তার ভাষণে বলেন, ‘কেন এই ১৫ জন লোক এখানে এসেছিল? কেন ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।’

সূত্র: আল জাজিরা

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ