ঢাকা, বৃহস্পতিবার 25 October 2018, ১০ কার্তিক ১৪২৫, ১৪ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আবার ক্ষমতায় আসলে তারেককে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে

সংসদ রিপোর্টার: আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য তিনি দেশবাসীকে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী তার প্রশ্নে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। আল্লাহ যদি চান, আগামী নির্বাচনে আমরা আবার যদি ফিরে আসতে পারি, এর মাঝে অবশ্যই আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। শাস্তি দিতে পারবো। এই বিশ্বাস আমার আছে। এজন্যই দেশবাসীর কাছে দোয়াও চাই, ভোটও চাই যাতে আবার ফিরে এসে যেন এই অন্যায়-অবিচারের বিচার করতে পারি। খুনের সাজা কার্যকর করতে পারি।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে আসার পর আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা বা শেষ করার চেষ্টা হয়েছে। শারীরিকভাবে শেষ করার চেষ্টা হয়েছে। নানা রকম বদনাম দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনও কিছুতে সফল হয়নি। ২১ আগস্ট বিএনপি-জামাতের সৃষ্টি করা আঘাত সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে এনেছিল। যার (তারেক জিয়া) কথা বলা হয়েছে তার পিতা জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে ও তার মা এই ২১ আগস্টের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে সত্য যে কোনোদিন চাপা থাকে না, তা আজকে মামলা চলতে চলতে সত্য বেরিয়ে এসেছে। সেই হত্যার যে বিচার করতে পেরেছি এটাই সব থেকে বড় কথা। আজকে বিচারে সাজা হয়েছে।
তিনি বলেন, শাস্তি যখন পেয়েছে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন আল্লাহর ওপর আমার বিশ্বাস আছে, বংলাদেশের জনগণের ওপর বিশ্বাস আছে, নিশ্চয়ই একটা দিন আসবে যে যারা এত বড় জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে রণক্ষেত্রের ব্যবহৃত গ্রেনেড রাজপথে ব্যবহার করে এভাবে হত্যা করেছে, আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাদের বিচার যখন হয়েছে, রায় যখন হয়েছে, একদিন সাজা পেতেই হবে। সাজা তাকে ভোগ করতে হবে।
ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের দুয়ার খুলে দিয়ে, আহার ভাগাভাগি করে আমার সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন এবং আমাকে সার্বক্ষণিক সাহস জুগিয়েছেন।

নতুন জোট গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করে
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, রাজনীতি করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দল জোট করে নির্বাচনে আসবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এতে গণতন্ত্রের ভিত্তিটা আরও মজবুত হবে।
জোটের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, যারা এখানে যুক্ত হয়েছে এরা কেউ কেউ তো মানুষকে সম্মান রেখেও কথা বলতে পারছে না। তাদের যে কথাবার্তা যা কিছু মানুষ জানতে পারছে। নারীবিদ্বেষী মনোভাব, মেয়েদের প্রতি অশালীন কথা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই আমরা যারা জোট করছে তাদের থেকে শুনতে পারছি। জনগণের জন্য কাজ করতে গেলে যে সহনশীলতা দরকার, ত্যাগ দরকার, তা তাদের মাঝে নেই। তবে আশা করি, তারা আরও সংযত হবে। এ দেশে সত্যিই রাজনৈতিক একটা জোট করে এগিয়ে যেতে চাইলে তাদের সেইভাবে চলতে হবে। তবে কেউ জঙ্গি-সন্ত্রাস বা অশালীন উক্তি করে মানুষ যদি বিচার চায় তার বিচার করাটা রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্র তা করবে এবং করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে পিছপা হই না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করি।
আবার ক্ষমতায় গেলে কী করবেন? জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সরকার ২০২১, ২০৪১ ও ২১০০ সালের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলেন। তিনি বলেন, জানি না কতদিন বাচঁবো। ২০২১ সাল পর্যন্ত বাচঁবো কিনা, তা জানি না। এখন তো বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছি। তবে উন্নয়নের গতিটা অব্যাহত থাকবে। আবার যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে চলমান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো। এর পাশাপাশি আমাদের মূল কাজ করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মাটিতে এদের স্থান হবে না। দুর্নীতি দূর করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা করে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ে তোলা হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।
রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পদক্ষেপ প্রশ্নে জাতীয় পার্টির নূর-ই- হাসনা লিলি চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের আইডি কার্ড প্রদানসহ সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়ে তাদের সুরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি যে এরা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে। এ ধরনের তথ্য আমরা পাই না। এরা যাতে কোনোভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে তার জন্য আমরা সব সময় সতর্ক আছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ