ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ কে দিয়েছে 

২৬ অক্টোবর, রয়টার্স : সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ কে দিয়েছে তা সৌদি আরবের কাছে জানতে চেয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। শুক্রবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি খাশোগির লাশেরও সন্ধান দাবি করেছেন।  ভাষণে এরদোগান জানান, তুর্কি তদন্তকারীদের কাছে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের অনেক প্রমাণ রয়েছে। যেগুলো এপর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছে তারচেয়েও বেশি তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। সময় হলে সেগুলো প্রকাশ করা হবে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, খাশোগি হত্যার স্থানীয় সহযোগিতাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে সৌদি আরবকে।

এরদোগান বলেন, ‘ কে নির্দেশ দিয়েছে? কে ১৫ জনকে তুরস্কে আসার নির্দেশ দিয়েছে?’ তিনি জানান, সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউটর তুরস্কের পাবলিক প্রসিকিউটরের সঙ্গে ইস্তানবুলে রবিবার বৈঠক করবেন।

খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সৌদি আরব স্বীকার করে এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত। এক সরকারি কৌঁসুলিকে উদ্ধৃত করে বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আখবারিয়া টিভি এ খবর জানায়।

তুর্কি বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছানির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর  সৌদি জানায়, তুরস্কের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাদের দাবি ছিল জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলবশত তার মৃত্যু হয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুরু থেকেই সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে বলে আসছিলেন, খাশোগিকে হত্যা করার পর তার দেহ সরিয়ে দেয়ার জন্য টুকরো টুকরো করা হয়েছে। তাদের কথার প্রমাণ হিসাবে তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলোতে সৌদি টিমের সদস্যদের নাম, ছবি দেয়াসহ বিমানবন্দরে তাদের উপস্থিতি এবং ইস্তানম্বুলে তাদের পদচারণারও তথ্য দিয়েছে। খাসোগি সাজা আরেকজনের সিসি ক্যামেরার ছবিও তারা এ সপ্তাহে প্রকাশ করে। আর এরপরই এরদোগানও দাবি করেছিলেন, এ সাংবাদিককে হত্যা পূর্বপরিকল্পিত এবং এটি যে রাজনৈতিক অপরাধ তার স্পষ্ট প্রমাণ তুর্কি গোয়েন্দারা পেয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ