ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই

স্টাফ রিপোর্টার : গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের (২১ থেকে ২৫ অক্টোবর) মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। এমন দরপতনের কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। বড় অঙ্কের বাজার মূলধন হারানোর পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে সবকটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিকে আগের সপ্তাহে ডিএসই বাজার মূলধন হারায় ২ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। এদিকে এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯৬ কোটি টাকা যা তারও আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। ওই সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছিল ২ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৯৯ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৫৩ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৮ শতাংশ। অপর দুটি সূচকের মধ্যে গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ২০ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ১৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২২ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ৬৩টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। অপরদিকে দাম কমেছে ২৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। এদিকে সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪০৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৫১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৪৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৫০৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৫ দশমিক ১২ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এছাড়া বাকি ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ‘বি’ক্যাটাগরিভুক্ত, ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ ‘এন’ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের এবং ২ দশমিক ৫২ শতাংশ ‘জেড’ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার। কোম্পানিটির ১১৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। ৬৮ কোটি ৭৯ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স। লেনদেনে এরপর রয়েছে- ড্রাগন সোয়েটার, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি, বিবিএস কেবলস, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল।
এদিকে গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ৫৩ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ১৬ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ। অপর দুটি সূচকের মধ্যে গত সপ্তাহে ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমে ২৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ২৭ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ২২ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি বাড়ে ১৫ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২০ শতাংশ।
ওই সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ৯৭টির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে দাম কমে ২২৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দাম। ওই সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয় ৫১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তারও আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৭৭৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমে ২৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর এর আগের সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ওই সপ্তাহে লেনদেন হয় ৩ হাজার ৮৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ১ হাজার ৩৪৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৮৫ দশমিক ২৯ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এ ছাড়া বাকি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের এবং ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ