ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় -শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনের নামে সংবিধান রচয়িতা ও তাদের জোট কাদের স্বার্থে অসাংবিধানিক দাবি জানাচ্ছে? তারা আসলে নির্বাচন চায় কিনা তা নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চোখ থাকিতে যারা অন্ধ, তারাই উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না।
গতকাল শুক্রবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় দলের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যরা উপস্থিত আছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে দলের উপদেষ্টা কমিটি, কার্যনির্বাহী সংসদ আর সংসদীয় দল নিয়ে যৌথসভায় বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বৈঠক থেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, প্রার্থিতা চূড়ান্তসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চায় বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশটা যে সুন্দরভাবে চলছে, দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে, তাদের ভালো লাগছে না। তারা চায় একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিত। দেশটাকে অস্থিতিশীল করতে।’
প্রধানমন্ত্রী সদ্যগঠিত এই জোটের নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচন চায় কি চায় না? সেটাই বড় কথা।’ আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয় হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।
ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ অধীনে নির্বাচনের দাবির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যেহেতু একটা রায় হয়েছে উচ্চ আদালতে যেকোনো অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেই রায় থাকা সত্ত্বেও আমাদের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী থেকে শুরু করে যারা বড় বড় আইনজীবী তারা কীভাবে দাবি করে যে, এখানে আরেকটা সরকার গঠন করে নির্বাচন দিতে হবে। এই দাবিটা কেন? কীভাবে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেই রায়ের পর আমাদের সংবিধান সংশোধন করেছি। ১৯৭২ এর সংবিধানে ঠিক যে রকম ছিল, যেভাবে নির্বাচনের জন্য যা যা লেখা ছিল আমরা সেইভাবেই নিয়ে এসেছি।’
ড. কামালের নাম উল্লেখ না করে তার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাহলে একদিকে দাবি করবে সংবিধান রচয়িতা, অপরদিকে আবার সেই সংবিধানকে লঙ্ঘন করার জন্য নির্বাচনের অন্য ফর্মুলা দিবে। অনির্বাচিত একটা সরকার গঠন করতে বলবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে বলবে। এই আব্দারটা কেন? কার স্বার্থে? কিসের স্বার্থে? সেটাই আমরা বুঝতে চাই। কী কারণে তারা এটা চাচ্ছে। তাদের যদি এত শক্তি থাকে জনগণের সঙ্গে আসবে, ভোট হবে।’
ইভিএম নিয়ে সরকারবিরোধীদের আপত্তিরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইভিএম দিতে চাই, দ্রুত মানুষ ভোট দিতে পারে। তাতেও আবার আপত্তি কিসের? সেটাও আমরা বুঝতে পারি না। ইভিএম আজকে ইন্টারন্যাশনালি ব্যবহার করে। এতে কেউ কারো ভোট চুরি করতে পারবে না। তাহলে সেখানে কি করে তারা আপত্তি জানায় আরও। তারা নির্বাচন চায় কি চায় না সেটাই বড় কথা।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলে থাকতে কথা বলা তো দূরের কথা একটা মিটিংও করতে দেয়নি। আমরা কিন্তু সকলের জন্য সভা-সমাবেশ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কাউকে বাধা দেইনি। এখন একটা ঐক্যজোট হয়েছে। তারা মুখে বড় বড় কথা বলে আর দুর্নীতিবাজ সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এবং সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান তাদের সঙ্গে জোট করেছে। সেই দলসহ বিএনপি জামায়াত জোটসহ ঐক্য হয়েছে। তারা বলল, আমরা নাকি তাদের মিটিং করতে দিচ্ছি না। সিলেটে তারা মিটিং করল। আগেই তারা বলে, আমাদের দিচ্ছে না। আমার যেটা মনে হয় যে, তারা চায় আমরা তাদেরকে বাধা দেই। ’
আগামী নির্বাচনেও জয়ের আশাবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জয় আমাদের হবেই। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণের শক্তি নিয়েই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ভোটেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমার জনগণের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা বিশ্বাস আছে। যে উন্নয়নের ছোঁয়া আজকে সকলের জীবনে লেগেছে, নিশ্চয় তারা সেটা ধরে রাখবে এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেবে। আওয়ামী লীগের জয় হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও আমরা উদযাপন করতে পারব। আমরা না থাকলে আর কেউ ভালোভাবে করতে পারবে না। কারণ তাদের মনে পাকিস্তান। এখনো অনেকে বলে পাকিস্তান নাকি আমাদের চেয়ে বেশি উন্নত। যারা এটা বলে তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া উচিত। বলা উচিত পাকিস্তানে যেয়ে দেখে আসেন। পাকিস্তানের ঋণ শোধের জন্য সৌদি আরব তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। আমাদের কারো কাছে কোনো ঋণ নেই।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা করে রেখেছি, যাতে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকে। আর সেই গতি অব্যাহত থাকবে যদি আওয়ামী লীগ আবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে মানুষ সুন্দর জীবন পাবে। প্রত্যেকটা গ্রাম শহরে রূপান্তর হবে। নাগরিক সকল সুবিধাগ্রামে বসেই পাবে।
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবেই প্রমাণিত বিএনপি একটি দুর্নীতিবাজ দল। দেশটাকে তারা লুটে খেয়েছিল। দেশের অনেকেই উন্নয়ন চোখে দেখে না বলেও মন্তব্য করেন টানা দুই মেয়াদের সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন তারা চোখে দেখে না, দেখবে না। চোখ থাকতে তারা অন্ধ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ