ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলাওয়াশ জিম্বাবুয়ে

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : বাংলাদেশের কাছে আরেকবার হোয়াইটওয়াশ হল জিম্বাবুয়ে। সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচেও জিতেছে বাংলাদেশ। ৪২.১ ওভারে ৩ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌছে যায় বাংলাদেশ। সৌম্য ও ইমরুলের সেঞ্চুরিতে ৭উইকেটে জয় পেয়েছেন স্বাগতিকরা। তাদের জুটিতে রান হয় ২২০। দু’জনের সেঞ্চুরিতে ওয়ানডেতে এর চেয়ে বড় জুটি আছে বাংলাদেশের আর একটি। গত বছর জুনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লার ২২৪।  ২৮৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামেন বাংলাদেশের দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। কাইল জার্ভিস ইনিংসের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন দাস। ১ উইকেটে রান ০। ২৯.৬ ওভারে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বলে ডোনাল্ড টিরিপানো ক্যাচে গ্যালারিতে ফিরেন সৌম্য সরকার। তিনি ১১৭ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসটি ৯২ বলে ৯টি চার ও ৬টি ছক্কা দিয়ে সাজানো। ২ উইকেটে রান ২২০। মুশফিকুর রহিম ২৮ ও মোহাম্মদ মিঠুন ৭রানে অপরাজিত ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে হ্যামিল্টন ওয়েলিংটন, মাসাকাদজা ও কাইল জার্ভিস ১টি করে উইকেট পেয়েছেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন সৌম্য সরকার আর সিরিজ সেরা হয়েছেন ইমরুল কায়েস।
এর আগে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে শুরু করেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সিফাস জুওয়াও। ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল সফরকারীরা। দলকে এই বিপর্যয় থেকে টেনে আনেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর ও শন উইলিয়ামস। টেইলারের ৭৫ ও উইলিয়ামস এর ১২৯ রানে বড় সংগ্রহ করেছেন জিম্বাবুয়ে। সফরকারিদের হোয়াইট ওয়াশ করতে স্বাগতিকদের দরকার ২৮৭। ১.৩ ওভারে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে শুন্য রানে বোল্ডআউট হন ওপেনিং ব্যাটসম্যান সিফাস জুওয়াও। ১ উইকেটে রান ৬। ২.৪ ওভারে আবু হায়দারের বলে বোল্ডআউট হন আরেক ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তিনি করেন ২ রান। ২ উইকেটে রান ৬। ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া দলকে এই বিপর্যয় থেকে টেনে আনেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর। সঙ্গে ছিলেন শন উইলিয়ামস। ১৩২ রানের জুটি গড়েন তুলেন তারা। ২৬.৪ ওভারে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ হয়ে মাঠ থেকে ফিরেন বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ব্রেন্ডন টেইলর। এরআগে ব্রেন্ডন টেইলর ৭২ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কার বিনিময়ে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন। স্কোর ৩ উইকেটে ১৩৮ রান। ৪২.১ ওভারে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে সৌম্য সরকারে তালুবন্দি হন সিকান্দার রাজা। ৫১ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা মেরে ৪০ রান সংগ্রহ করে তিনি। ৪ উইকেটে রান ২২২। ৪৯.২ ওভারে রান আউট হন পিটার মুর। ২১ বলে ২টি ছক্কার সাহায্যে ২৮ রান সংগ্রহ করেন তিনি। ৫ উইকেটে ২৮৬ রান। শন উইলিয়ামস ১২৯ ও এল্টন চিগুম্বুরা ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৪৩ বলে ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ইনিংসটি গড়েন উইলিয়ামস। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা ১০২ ছাড়িয়ে উইলিয়ামস অপরাজিত থাকেন ১২৯ রানে। তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে তৃতীয় ওয়ানডেতে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছেন সফরকারীরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে জিম্বাবুয়ের করেছেন ২৮৬ রান। সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের চাই ২৮৭ রান। বাংলাদেশের পক্ষে নাজমুল ইসলাম অপ ২টি, মোহাম্মদ সাইফু উদ্দিন ও আবু হায়দার ১টি করে উইকেট পেয়েছেন। সিরিজ সেরা ইমরুল কায়েস ও ম্যাচ সেরা সৌম্য সরকার।
২০০৬ সালে মবারের মতো জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশড করে বাংলাদেশ। সেবার দেশের মাটিতে তারা জেতে ৫-০ ব্যবধানে।  ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর এই ভেন্যুতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি ৬ উইকেটে জিতে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। ২০১০ সালের ১০ ও ১২ ডিসেম্বর স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী জিম্বাবুয়ে দলের দুটি ওয়ানডে ম্যাচের আয়োজন করা হয় এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এর মধ্যে বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটের জয় পান তামিম-সাকিবরা। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে আবার একই ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে আবার জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশড করে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এবার জেতে ৩-০ ব্যবধানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৪২.১ ওভারে ২৮৮/৩ (লিটন ০, ইমরুল ১১৫, সৌম্য ১১৭, মুশফিক ২৮*, মিঠুন ৭*; জার্ভিস ১/৪৭, এনগারাভা ০/৪৪, টিরিপানো ০/৩৩, রাজা ০/৪৭, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ১/৭১, উইলিয়ামস ০/৪৩, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ১/৩)
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৮৬/৫ (মাসাকাদজা ২, জুয়াও ০, টেইলর ৭৫, উইলিয়ামস ১২৯*, রাজা ৪০, মুর ২৮, চিগুম্বুরা ১*; আবু হায়দার ১/৩৯, সাইফ ১/৫১, আরিফুল ০/১৭, মাশরাফি ০/৫৬, সৌম্য ০/১৬, নাজমুল ২/৫৮, মাহমুদউল্লাহ ০/৪০)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ