ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন নিয়ে জনমনের কোনো প্রশ্নের সমাধান হয়নি

মিয়া হোসেন: আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে তাদের প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে? বর্তমান সরকারের অধীনেই কী নির্বাচন হবে? নাকি অন্য কোন ধরনের সরকার গঠিত হবে? নির্বাচনের সময় কী সংসদ বহাল থাকবে নাকি ভেঙ্গে দেয়া হবে? বর্তমান এমপিগণ কী এমপি থেকেই নির্বাচন করবেন? নাকি এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? নির্বাচনে সকল প্রার্থীরা কী সমান সুযোগ (লেবেল প্লেইং ফিল্ড) পাবেন? নাকি ক্ষমতাসীনরাই বেশি সুবিধা পাবেন? সকল রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহণে উৎসবমুখর সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না? এসব প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। আবার কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কাও প্রকাশ করছেন। এদিকে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেছেন- যথা সময়ে নির্বাচন হবে। কেউ আটকাতে পারবে না। তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আহ্বান জানান।
ইসি সূত্রমতে, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের কাজ চলছে। নির্বাচনের বিষয়ে আগামী ১ নবেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন নির্বাচন কমিশনাররা। এরপরে তারা বৈঠক করে তফসিল ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতের পর ৪ নবেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত ৪৫দিন সময় পাবেন প্রার্থীরা। এ হিসেবে আগামী ২০ অথবা ২৭ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এখনো দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সংসদ বহাল থাকবে এবং সংসদ সদস্যরাও স্বপদে বহাল থাকবেন। আর বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ অবস্থায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কি না? এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোন ঘোষণা আসেনি।
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিশন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করতে চায়। ১ নবেম্বর বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে কমিশন। তারপর নির্বাচনের তফসিল ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরো বলেন, রেওয়াজ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে থাকেন। ৪ নবেম্বর কমিশন সভা বসবে কিনা-সেটা এখনও ঠিক হয়নি। ১ নবেম্বর আমরা জানতে পারব কবে বৈঠক হবে। বৈঠকের পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সম্প্রতি দলের একটি সভায় বলেছেন, দেশে নির্বাচন হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। বর্তমানে যে অবস্থা আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব এমন নীতি চলছে। মানুষ নিজের ইচ্ছামত সিল মারতে পারছে না। জনগণের ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ এক হাজার বছর ক্ষমতায় থাকুক, কিন্তু ভোট ছাড়া একদিনও ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না।
এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রক্তপাতের আশংকা করছেন। এ রক্তপাত এড়াতে সংলাপের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন ঘিরে আগামীতে ‘খুবই কঠিন’ দিন আসছে। যতই দিন যাবে বিশৃঙ্খলা হবে, যতই দিন যাবে রক্তপাত বৃদ্ধি পাবে। আগামী ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চললেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এখনও দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরে বিরোধ রয়েছে।
গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-এর শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকা-ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দলসমূহকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমি এবং অপরাপর সহকর্মীরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি, যা প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার অনুকূল।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যবশত সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আমরা উদ্বিগ্ন। সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ বিনষ্ট হবার আশঙ্কা করছি। এ সময় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি ও গ্রেফতার অনাকাক্সিক্ষত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, নিবাচন হবে কি হবে না আমরা জানি না। একটি দল পাঁচ দফা দিয়েছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, তা মানা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আগামী দিনগুলো নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় এবং শঙ্কা দুটোই রয়েছে। এই নির্বাচন প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দল আপস কিংবা জনমতের চাপে নতিস্বীকার না করলে আর বিরোধী পক্ষ চাপ সৃষ্টি করে সাজানো ব্যবস্থা বদল করতে না পারলে এবং সরকারি দলের আয়োজনে নিবেদিত হতে না চাইলে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সমাধানে না এলে দেশ আবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বড় দুই দল এক টেবিলে বসলে একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে আশা রাখি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ