ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে -মির্জা ফখরুল

গতকাল শুক্রবার যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে মিডিয়ার সাথে কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতে সরকার একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ আমরা এখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়েছি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অগণিত নেতাকর্মীর মুক্তির জন্য আজ সবাই ঐক্যবদ্ধ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময়  জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত হয়।
যুবদলের ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। এ সময়ে পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে যুবদলের নেতাকর্মীরা। লও লও লও সালাম, শহীদ জিয়া লও সালাম, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম,  খালেদা জিয়ার মিথ্যা সাজা বাতিল করো করতে হবে। মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।  তারেক রহমানের ভয় নাই রাজপথ ছাড়ি নাই, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সাজা বাতিল কর করতে হবে। প্রতিহিংসামূলক রায় মানি না মানবো না। তারেক রহমান বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (সরকার) নির্বাচনটা করতে চায় একতরফাভাবে। বিরোধী দলগুলো যেন নির্বাচনে না আসে এবং তারা একা একাই ২০১৪ সালের মতো একটা নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। উদ্দেশ্যটা একটাই, বিনা নির্বাচনে সমস্ত বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে ক্ষমতায় যাওয়া। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ কখনোই এটা মেনে নেবে না এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য, জনগণের অধিকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য নিশ্চয়ই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তারা বিজয় অর্জন করবে।
তিনি বলেন, আজকে শুধু বিএনপি নেতৃবৃন্দ নয়, যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছেন তাদেরও কারারুদ্ধ করেছে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রবক্তা বাংলদেশে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তাকে কারারুদ্ধ করেছে। দেশের সকল গণতান্ত্রিক কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে এবং কারাগারে বন্দী করেছে। দেশে একটা পুরোপুরিভাবে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে। এদের লক্ষ্যই হচ্ছে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। যেটার লক্ষ্যেই তারা চলেছে। এটা কোন সংবিধান? অনিবার্চিত সরকার তাদের ইচ্ছা মতো কাটাছেঁড়া করে সংবিধান সংশোধন করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংবিধান পরিবর্তন করা যায়।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। সরকার যা চাইবে তা করবে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না – এটা আমরা বার বার বলেছি, এখনো বলছি। এটা বাস্তবতা এ কমিশনের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
১/১১ পর ‘সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত নিষ্ক্রিয়দের সক্রিয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সেই সঙ্গে যারা বাইরে ছিলো, নিষ্ক্রিয় ছিলো তারা সক্রিয় হওয়ার আকাংখা পালন করার জন্যই তাদের সকলকে সক্রিয় করা হয়েছে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
এ সময়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ. যুবদল দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ