ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংসদ ভেঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন না দিলে কঠোর আন্দোলন

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, জিয়া পরিবারসহ সকল রাজবন্দীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম

* ইচ্ছেমতো আইন তৈরি ও প্রয়োগ করে দেশবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সরকার ---- গাজী
* ভোট চুরি, আগের দিন সিল মারার ঘটনা ঢাকতে কালো আইন করা হয়েছে --- জাহিদ হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার : সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অনির্বাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ নেই। সরকার অনুগত নির্বাচন কমিশন দিয়েও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। অবিলম্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দেশের জনগণ ও সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে অংশ নেন ড্যাবের সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হক, ডা. মোহাম্মদ শহীদ হাসান, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ড্যাবের ডা. আব্দুল মান্নান, ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ডা. মুসতাক রহিম স্বপন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ডাঃ আব্দুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, বেগম জাহানারা সিদ্দিকী, আফজাল হোসেন সবুজ, ডা. আশফাকুর রহমান শেলী, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন ড্যাবের মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশে বর্তমানে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। শাসকের আইনে দেশ চলছে। শাসক যেটা বলছে, সেটাই আইন। এই অবস্থায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য ইচ্ছেমতো আইন তৈরি ও প্রয়োগ করছে। দেশবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে দেশবিরোধী আইন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসবের শেষ হতে হবে। একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না। একটি দেশের মানুষ এভাবে পদে পদে বিপদগ্রস্ত হতে পারে না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের ভরাডুবি হবে জেনেই তারা নিজেদের মতো নির্বাচন করতে চায়। দেশের মানুষ এবার একতরফা নির্বাচন হতে দেবে না।
তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করে এ সরকারকে বিদায় করা হবে। কারণ তিনি দেশের জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের একমাত্র নেত্রী। তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশের কোটি কোটি মানুষ। অথচ সরকার পুলিশের জোরে টিকে রয়েছে। পুলিশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের মন্ত্রী এমপিদের কথা শুনে মনে হচ্ছে তারা যুগের পর যুগ ক্ষমতায় থাকবেন। বাস্তবতা হলো ক্ষমতা কারো জন্যই দীর্ঘস্থায়ী নয়।
একেএম আজিজুল হক বলেন, এই সরকার দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। সবাই মিলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে অবৈধ কুখ্যাত সরকারের উৎখাত করতে হবে।
এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। এমন অবস্থা চলতে থাকলে রাষ্ট্র অকার্যকর হতে পারে। দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা সামাজিক বৈষম্য দূর করে নাগরিক নিরাপত্তা, ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র রক্ষায় সব শ্রেণী পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার বিকল্প নেই।
এম আব্দুল্লাহ বলেন, কিছুদিন পরে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার এই ডিজিটাল আইন তৈরি করেছে যাতে নির্বাচনে সরকারের দুর্নীতি, ভোট চুরি, আগের দিন সিল মারা কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করতে না পারে। এই আইনে দেশকে মিডিয়ামুক্ত করার ভয়ঙ্কর চক্রান্ত করা হয়েছে। সরকার বলছে, এই আইন মিডিয়ার সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে। আসলে এই আইন করা হয়েছে জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার জন্য।
তিনি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও সাংবাদিক ইব্রাহিম মন্ডলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, এ সরকার ভিন্নমতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অবৈধ সরকার একের পর এক কালো আইন করে জনমনে ভীতির সঞ্চার করছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বাকস্বাধীনতা বলে আর অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, আজ সরকারের বিরুদ্ধে সবাই রাজপথে নেমে আসছেন। অচিরেই সরকার একা হয়ে পড়বেন। জনরোষ থেকে বাঁচতে চাইলে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিন, সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন দিন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে দানবীয় শাসন কায়েম করেছে। তাদের দুঃশাসনের কারণে মানবতা আজ বিপন্ন, দেশের মানুষ অসহায়। এভাবে চলতে দেয়া যায় না।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে না। নির্বাচন কমিশন এসব ভোট ডাকাতির আয়োজনকে সমর্থন দিয়ে দলদাস নির্বাচন কমিশন হিসেবে জাতির কাছে চিহ্নিত হয়ে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ