ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডাক্তার হবার স্বপ্ন যখন

ডাক্তারি একটি সম্মানজনক ও সমাজকল্যাণমূলক পেশা। ডাক্তারি পেশাকে মানবসেবার নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জন্মের প্রয়োজনে এমনকি মৃত্যুর পূর্বে সৃষ্টিকর্তার পরে আমরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। তাই যুগ যুগ ধরে ডাক্তারি পেশা অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে একটি অতি কাঙ্খিত লক্ষ্য। বড় হয়ে ডাক্তার হব, বিজ্ঞান শাখার প্রায় সব শিক্ষার্থীদেরই আজন্ম ইচ্ছা এটা; কারণ আমাদের দেশে এ পেশাটা অনেক গৌরব ও সম্মানের। আবার সব পিতা-মাতাই সন্তানের জন্মের পর থেকেই তাকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখে থাকে এবং সে অনুযায়ী সাধ্যমত ভাল স্কুল, কলেজ এমনকি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ  মানের গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বছরের পর বছর পরিচর্যা করে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিভাবকের এই স্বপ্ন পূরণ সম্ভবপর হয় না। এর কারণ এই নয় যে, তার সন্তানকে মেডিক্যালে ভর্তি যোগ্য করে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের চেয়ে তুলনামূলক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র আসন সংকটের কারণে অভিভাবক বা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে। ২০১৮ সালের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।
সরকার নির্ধারিত যোগ্যতা সম্পন্ন ৬৩,০২৬ জন পরিক্ষার্থী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ২৪,৯৬৮ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু সরকারি মেডিক্যাল কলেজসমূহে যেহেতু আসন সংখ্যা ৪,০৬৮টি সেহেতু উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকেও বাকি ২০,৯০০ জন পরিক্ষার্থী কোন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়ন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে ডাক্তারি অধ্যয়নের জন্য চীন হতে পারে আপনার কাঙ্খিত গন্তব্য। কেননা, চায়না সরকারের একটি সময়োপযোগী সিদ্ধাান্ত বাংলাদেশের ডাক্তারি পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সামনে এক অভাবনীয় সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। চায়না সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে গ্রায় ২০০০ উচ্চ শিক্ষা গ্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে ৪৫টি টপ র‌্যাঙ্ক মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ইন্টারন্যাশনাল কোটার বিপরীতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির অনুমতি প্রদান করেছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের তুলনায় অনেক কম খরচে এখন বাংলাদেশের ভর্তি সুযোগ বঞ্চিত এমনকি যারা মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি এমন শিক্ষার্থীরাও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সেরা (ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং এ ১ হাজারের মধ্যে) মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ লাভ করেছে। বর্তমানে চায়নাতে পৃথিবীর ২১০টি দেশ থেকে আগত গ্রায় ৫ লক্ষাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী সাফল্যের সঙ্গে পড়াশুনা করে আসছে। এর মধ্যে এশিয়া অঞ্চলের ৬০ শতাংশ (এর মধ্যে ২০ শতাংশই মধ্য প্রাচ্যের), ইউরোপর ১৮ শতাংশ, আফ্রিকার ১১ শতাংশ এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ অন্য অঞ্চলগুলোর রয়েছে ১১ শতাংশ। চীনের গ্রায় সব ক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামও চালু রয়েছে। বর্তমানে চায়নাতে প্রায় ২৫০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস কোর্সে অধ্যয়নরত রয়েছে। ‘অবজার্ভ চায়না ইউনিভার্সিটি এডমিশন সেন্টার’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ও বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও ডক্টরেট প্রোগ্রামে ভর্তির সহায়তা প্রদান করছে। বর্তমানে চায়নাতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশই অবজার্ভ- এর ভর্তি সহযোগিতা নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে সেখানে অধ্যয়ন করছে। আরো তথ্য জানা যাবে অবজার্ভের ফেসবুক পেজ facebook.com/bdobserve-এ। এছাড়াও ০১৬১৬-২৭৩৭৮৩ নম্বরে কল করতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ