ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিজ্ঞান প্রকৌশল ও গণিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হোক

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের প্রান্তিক, মধ্যম  ও উচ্চ পর্যায়ে  নারীদের অনুপ্রেরণা, নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি ঢাকায় শেষ হলো দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইইইই-এর ‘উইম্যান ইন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বাংলাদেশ শাখা এই সম্মেলনের আয়োজন করে। রাজধানীর বিএসএমএমইউ কনভেনশন সেন্টারে এই সম্মেলনে বিভিন্ন আলোচনায় বাংলাদেশের তিনজন মন্ত্রী, বিদেশি ২৩ জন বক্তাসহ মোট ৫৬ জন তাদের নীতি-পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সম্মেলনে স্বপ্ন, বিশ্বাস, অর্জন ও ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে ১৬টি মূল নিবন্ধ ও ২০টিরও বেশি উপস্থাপনা উপস্থাপিত হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাদের বেশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যোগ দেয়া উচিত। এছাড়া, কোনো একটি দেশের পুরুষরাই দেশের যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে  বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার জন্য রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের প্রতি তারা আহ্বান জানান।
আইইইই উইমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপ সামিট (আইএলএস) ২০১৮ এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে গত শুক্রবার সকাল ৯ টায় উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল স্বপ্ন, বিশ্বাস, অর্জন, ক্ষমতায়ন। এই গ্লোবাল সামিটটির এর আয়োজক আইইইই উইমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাফিনিটি গ্রুপ অফ বাংলাদেশ। সংগঠনটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের ইতিহাসের প্রথমবারের মত আয়োজন করেছে এই সামিট।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএমইউ-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কনক কান্তি বড়ুয়া। অনুষ্ঠানটির সেশন শুরু হয় সামিরা ইমারসন, অ্যানালিটিকস অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স ডিরেক্টর ‘দ্য সেন্টার অব আনবাইড ডাটা সায়েন্স’, মালয়েশিয়া-এর কি-নোট এর মধ্যদিয়ে। এরপর মাহতাব উদ্দিন, সিইও এবং এমডি, রবি অ্যাক্সিয়াটা লিমিটেড এবং মাইকেল প্যাট্রিক ফলেই, সিইও, গ্রামীন ফোন লিমিটেড।
কি-নোট সেশনের পর একটি প্যানেল আলোচনা হয় যার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সাথে নিয়ে সব বাধা অতিক্রম’।
এছাড়া উদ্যোক্তা ও নেতৃত ভূমিকায় নারীরা যে সব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলো সে সম্পর্কে আলোচনা হয়। আলোচনায় উদ্যোক্তা, নারী সম্পর্কিত মেডিক্যাল গবেষণা, জাতীয় উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে নারীদের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করা হয়। ডব্লিউআইই. ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান টেকনোলজি প্রজেক্ট কম্পিটিশন আয়োজন করা হয়েছে মানবকল্যাণ বিষয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আরো নারী এবং ছাত্রীদের উৎসাহ প্রদান করার জন্য।
অনুষ্ঠানটিতে ২৩জন বিদেশি বক্তাসহ ৫৬ জন বক্তা মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। দুইদিনব্যাপী সামিটটি এর পরের দিন (শনিবার) ও চলতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেয়শিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা এই ৭ প্রতিবেশীর পাশাপাশি ২ শতাধিক প্রতিবেশী ও স্বেচ্ছাসেবী এই সামিটে অংশগ্রহণ করেন।
পরে কি-নোট প্রদান করেন প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম, বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশন এবং আইইইই রিজিয়ন ১০ এর শিক্ষামূলক কর্মকা-ের সমন্বয়ক জুহাইনা জাকারিয়া।
অনুষ্ঠানের প্রথমদিন শেষ হয় আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের ২৫ বছর পূর্তি এবং আইইইএমজিএ আউটস্ট্যান্ডিং লার্জ সেকশন পুরস্কারপ্রাপ্তি উত্থাপন করার মাধ্যমে। সে সময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস উসমান।
আইইইই উইমেন ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপ সামিট (আই.এল.এস)এর দ্বিতীয় দিন শুরু হয়  সকাল সাড়ে ৮টায় ডব্লিউআইইএজি  আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের হাইলাইটস প্রদর্শনের মাধ্যমে। এরপর কি-নোট প্রদান করেন রোকেয়া আফজাল রহমান , প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ফেডারেশন অব উইমেন এন্ট্রাপ্রেনরস , এগনেস ইরওয়ান্তি , সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মাল্টিকম গ্লোবাল মেডিয়াটা কোম্পানি এবং সেলিমা আহমেদ, প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি । কি-নোট প্রদান সেশনের পর নারীদের পেশাগত জীবনে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিল্প ও ব্যাবসায় নারীদের সংযুক্তি বিষয়ক সেশনে দেশি ও বিদেশি বিশিষ্টজনেরা তাদের বক্তব্য প্রদান করেন। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে পৃথক সেশনের আয়োজন করা হয়।
এরপর যোগাযোগ ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয় যেখানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক জাফর ইকবাল, মুন্নী সাহা এবং মুনীর হাসান। প্যানেল সেশনের পর অনুপ্রেরণা এবং নতুন আবিষ্কৃত প্রযুক্তি নিয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং পাশাপাশি ‘হিউম্যানিটেরিয়ান এক্টিভিটি’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয় ।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী সময়ে কি-নোট প্রদান করেন মালিকা মেঘহানি, পোস্ট ডক্টরিয়াল স্কলার,ফিউচার আরবান মোবিলিটি, সিঙ্গাপুর- এমআইটি এলায়েন্স ফর রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি, ড. নিয়া কুরনাইস কো-অরডিনেটর, ইলেক্ট্রনিক কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, আইইইই রেজিওন-১০, ড. সুমা এমএস, অধ্যাপক মেডিক্যাল ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগ, বিএমএস কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, বেঙ্গালুর, ভারত এবং ড. এসভিএনএল লালিতা, অধ্যাপক ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগ, কেএলইুএফ ভারত।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ,টেলি যোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন আবুল কালাম আজাদ, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং প্রফেসর ড. কনক কান্তি বড়ুয়া, ভাইস চ্যান্সেলর, বিএসএমএমইউ। 
-মাহবুব শরীফ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ