ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মহাসড়কে ইমা গাড়ী বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ

ফেনী সংবাদদাতা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশের ২৭ কিলোমিটার এলাকায় হিউম্যান হলার (ইমা) গাড়ী বন্ধ থাকায় যাত্রীরা অবর্ণনীয় দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একইসাথে পরিবহন চালক-শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ে ফেনী বাজারেও ব্যবসা-বানিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
চালক-মালিক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট থেকে মহাসড়কের ফেনী অংশে ইমা গাড়ী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইওয়ে পুলিশ। এতে শহরগামী স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবি ও ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনের দূর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রোগীদের নিয়েও বেকায়দায় পড়েন স্বজনরা। ইমা বন্ধ থাকায় চালক শর্শদীর হাবিবুর রহমানের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। সন্তানের স্কুলের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
লেমুয়ার বাসিন্দা চাকুরীজীবী মাইন উদ্দিন জানান, তার অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে নিয়ে প্রায় ফেনীতে ডাক্তার দেখাতে হয়। তিনি স্বাভাবিক হাঁটতে খুবই কষ্ট হয়। বর্তমানে ইমা বন্ধ থাকায় ফেনীতে ডাক্তারের কাছে নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন গোবিন্দপুর থেকে ফেনী আসা-যাওয়া করেন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার আঁখি। তিনি জানান, প্রতিদিন কলেজে যাওয়া-আসায় ৬ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। কিন্তু ইমা চালু থাকলে হাঁটা লাগতো না।
শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, ইমা গাড়ী অজ্ঞাত কারণে বন্ধ করে দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। মহাসড়কে ইমা বন্ধ থাকায় ফেনী বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে দাবি জানিয়েছি।
ইমা মালিক সমিতির লেমুয়া অংশের সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, মহাসড়ক সহ তৎসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে দুইশটি ইমা গাড়ী বন্ধ রয়েছে। এ পেশায় জড়িত চালক-হেলপাররা অভাব-অনটনে দিনযাপন করছে। আমাদের পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা নেই। ঋণের টাকায় গাড়ী কিনেছি এখন কিস্তিও দিতে পারছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছি। আত্মীয়-স্বজন থেকে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে। গাড়ীর ফিটনেস, রুট পারমিট ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও চলতে না দেয়া দু:খজনক।
ফেনীতে ইমা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বি.কম। তিনি বলেন, বারৈয়ারহাট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কে ইমা গাড়ী চলাচল করছে। তিনি জেলার একাধিক ফোরামে এ বিষয়টি উপস্থাপন করছেন। তিনি বিষয়টি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করছেন। ইমা বন্ধ থাকায় ক্রেতা আসতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও চরম মন্দাভাব বলে জানান।
ফেনী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম নবী জানান, হাইওয়ে পুলিশ কারন ছাড়াই ইমা গাড়ী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমার জানামতে এ ব্যাপারে সরকারি বা আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
এ ব্যাপারে জানতে কথা হয় হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল আউয়ালের সাথে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের কোনো আদেশ বা সরকারি পরিপত্র দেখাতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাইওয়ে পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কে ইমা চলাচল বন্ধে হাইকোর্ট বা সরকারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা পরিপত্র জারি করেনি।
মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, ইমা বন্ধ থাকলে প্রয়োজনে গ্রীন টাউন সার্ভিস মহাসড়ক এলাকায় চালু করা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত; ২৪ আগস্ট মহাসড়কের লেমুয়ার ভাঙ্গার তাকিয়া রেষ্ট হাউজের পাশে হাইওয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শ্যামলী পরিবহনের চাপা পড়ে সিএনজি অটোরিক্সার ৬ যাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ লোকজন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করলে বেশ সমালোচিত হয়। এর ক’দিন পরই মহাসড়কে গাড়ী বন্ধ করে দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ