ঢাকা, শনিবার 27 October 2018, ১২ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির উপর সন্ত্রাসী হামলা

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা: বিক্রমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মাসুদ খানের উপর সন্ত্রাসী হামলার মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিভাগ। গত রবিবার (২১ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ আমলী আদালত-৬ এর বিচারক মাসুদ খানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পিবিআইকে পুন:তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার পরে লৌহজং থানা পুলিশ মামলাটির দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ৩০৭ ও ৩২৫ বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এমন লোকজনকে সাক্ষী হিসাবে দেখান যারা ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেননা।
এ নিয়ে মামলার বাদী মাসুদ খান আদালতে না-রাজী দরখাস্ত দিলে আমলী আদালত-৬ এর বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে পুন:তদন্তের নির্দেশ দেন। মাসুদ খানের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন তাঁর আইনজীবি এ্যাডভোকেট লাবলু মোল্লা, সেতু ইসলাম, ব.ম. শামীম।
উল্লেখ্য গত ৬ জুন বিক্রমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মাসুদ খানের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়। ওই দিন দুপুরে বিক্রমপুর প্রেসক্লাব ভবনের নীচ তলায় এ হামলা হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় একটি মিষ্টির দোকানে আবারো তার উপর হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করে হামলাকারীরা।
হামলার কারণ  গত ৪ জুন সোমবার লৌহজংয়ের হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সংবাদটি পরের দিন ৫ জুন মঙ্গলবার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেখানে লৌহজং থানা আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নাম না থাকায় তাঁর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়। এ নিয়ে ৫ জুন মঙ্গলবার তারা হলদিয়া বাজারে ব্যাপক হট্ট্রগোল করে। পরের দিন ৬ জুন বুধবার দুপুর ১টার দিকে সাংবাদিক মাসুদ খান বিক্রমপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিতল ভবন থেকে নেমে নীচ তলায় আসলে মিন্টু বেপারী, অপু ঘোষ, শীবু শীল, স্বপনসহ আনুমানিক ১০-১২ জন লোক সাংবাদিকের উপর হামলা চালায় ও তাকে মারধর করে।
এ সময় সাংবাদিক দৌড়ে হলদিয়া বাজারের একটি মিষ্টির দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা ওই মিষ্টির দোকানে গিয়ে তাকে আবারো আক্রমন করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে লাটিসোটা ও হাতুরী দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। হামলাকারীরা মাসুদ খানের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীরা পূর্ব পরিকল্পিত হামলার অংশ হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন না করার কারণে বিক্রমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুদ খানকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হলো মর্মে একটি ব্যানারও টাঙ্গিয়ে দেয় হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও বাজার দোকানদার মানিক লক্ষন ও মনির হোসেন সহ কতিপয় ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে।
এ ঘটনার পরের দিন সিনিয়র এ সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ সাংবাদিক সমাজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশিল সমাজে নিন্দার ঝড় উঠে। তারা ৭ জুন বিকেলে মানব বন্ধন করে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানায় ও সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের বিচারদাবী করে। এর সমর্থনে অ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমও ওই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সন্ত্রাসী হামলার সঠিক বিচারদাবী করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ