ঢাকা, রোববার 28 October 2018, ১৩ কার্তিক ১৪২৫, ১৭ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অবগুণ্ঠন উন্মোচন ॥ আসিফ আরসালান

মাসুদা ভাট্টিকে ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার
আমি জানি, সারাদেশের নজর এখন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠানরত ঐক্যফ্রন্টের জনসভার দিকে। আমি নিজেও সেই জনসভার খবর নিচ্ছি প্রতিনিয়ত। অন লাইন পোর্টালে  খবর দেখলাম যে চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় নেমেছিলো মানুষের ঢল। চট্টগ্রামের জনসভাকে বানচাল করার জন্য সরকারি তরফে অনেক ফন্দিফিকির করা হয়। প্রথমেই জনসভার পারমিশন নিয়ে ঘাপলা। অবশেষে পারমিশন দেওয়া হয় মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে, তাও আবার লালদিঘি ময়দানে নয়, কাজির  দেউড়িতে, নাসিমন ভবনের সামনে, যেটা বিএনপির অফিস। সামনের রাস্তাটি সরু। তাও আবার এই রাস্তার এক পাশে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ২৫টি শর্ত। সভাতো হয়েছে ২৭ অক্টোবর, শনিবার। কিন্তু আগের দিন থেকেই সিলেটের মতো চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। পুলিশ বলেছে যে, মঞ্চের দৈর্ঘ্য যেন কোনোভাবেই ১৮ ফুটের বেশি না হয়। এমনকি গতরাত ১২টা পর্যন্ত মঞ্চ তৈরিই করতে দেয়নি তারা। কোনো ডেকোরেটরই আসতে চায়নি। সবাইকে হুমকিসহ মানা করে দেওয়া হয়েছে।”
 স্থানীয় একজন বিএনপি নেতার মতে, “এক ডেকোরেটর ঝুঁকি নিয়ে মঞ্চ তৈরি করতে আসলেও তাকে মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রেখেছে। শেষে পুলিশকে অনেক অনুনয়ের পর ছোট্ট একটি মঞ্চ তৈরি করতে পেরেছে তারা।” ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, চট্টগ্রামের বড় এবং মাঝারি যে হোটেলগুলোতে ঢাকার নেতৃবৃন্দের থাকার জন্য যে বুকিং দেওয়া হয়েছিল সেই সব বুকিং পুলিশী হুমকির মুখে বাতিল করা হয়। এসব নেতারা যে কোথায় থাকবেন সেটি একটি বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার কণ্ঠেও একই অভিযোগের সুর। তিনি বলেন, ‘‘নানা শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশ করতে দেওয়াকে পুলিশ ‘পুনর্মিলনী’র মতো করে ফেলেছে। বিকাল পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে বলেছে। এমনিতেই সরু রাস্তা, তার ওপর পুলিশ বলছে এর একপাশ ব্যবহার করে অন্যপাশে যানবাহন চলতে দিতে হবে।’’ তারপরও সমাবেশ সফল হবে, এমন আশা জানিয়ে মান্না বলেন, ‘‘এখন সরকার বাধা দিয়ে আসলে কিছু করতে পারবে না। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এতো বেশি মানুষ আসছে যে, তাদের বাধা দিয়ে আর ঠেকিয়ে রাখতে পারছে না তারা। এখানেও শান্তিপূর্ণভাবে সফল সমাবেশ হবে।”
 এই ধরনের অসংখ্য বাধানিষেধ সত্ত্বেও লাখো লোকের সমাবেশ ঘটেছে কাজির দেউড়িতে। সমাবেশে নেতাদের বক্তৃতার অংশ বিশেষ এখানে তুলে  দেওয়া এবং সে সম্পর্কে আলোচনা করা সম্ভব হলো না। কারণ সন্ধ্যার মধ্যেই এই লেখাটি প্রেসে দিতে হবে। তাই  এই প্রসঙ্গটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা সম্ভব না হওয়ায় আমরা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও মাসুদা ভাট্টির বিষয়ে লিখছি।
॥দুই॥
তিলকে তাল করা। একটি বাংলা বাগধারা। সেই তিলকে তাল করেছে সরাসরি আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী ঘরানা। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও মাসুদা ভাট্টির বিষয়টি ছিল অতি ক্ষুদ্র। তারা দুজনেই বিষয়টি ঝবঃঃষব করতে পারতেন। বস্তুত সেটল্ করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল। ঐ রাতেই তিনি মাসুদা ভাট্টিকে ফোন করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন।  প্রতিপক্ষের দাবি ছিল তাকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। তিনি সেটা করতেও রাজি ছিলেন। ৭১ টিভির ঐ অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক মিথিলা ফারজানার কাছে তিনি একটি চিঠিও লিখেছিলেন। চিঠিতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মাসুদাকে তিনি বলেছেন যে তাকে যদি টিভিতে আবার নেওয়া হয় তাহলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করবেন।
কিন্তু সেই সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ১৬ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে শতকরা ১০০ ভাগ রাজনৈতিক রূপ পেয়ে যায়। আওয়ামী লীগ ইস্যুটিকে পলিটিক্যালি টেক আপ করে। সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীসহ  আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠন ইস্যুটিকে লুফে নেয়। তারা এটিকে বিএনপি ও নব গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করে। ফলে যা ঘটবার তাই ঘটছে। মাসুদার মামলায় ৫ মাসের জামিন পাওয়ার ৫ ঘন্টা পর  ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গ্রেফতার হয়ে গেলেন।  সুতরাং অবধারিতভাবে সামনে এসে গেল অনেক প্রশ্ন।
যে সব প্রশ্ন ওঠার কোনো প্রয়োজন ছিল না সে সব প্রশ্ন এখন উঠতে শুরু করেছে। যারা মাসুদার কেইস নিয়ে সংঘবব্ধভাবে মাঠে নেমেছেন তাদের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠছে। অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, আমি অবাক হয়েছি সেখানে সমাজের কিছু রথী মহারথীর নাম দেখে। কোটা আন্দোলনের সময় রাজপথে নারী দৈহিকভাবে লাঞ্ছিত হলে, সড়ক আন্দোলনের সময় স্কুলের মেয়েদের গায়ে হাত তুললে, বা সরকারী দলের নেতারা নারীদের চরম আপত্তিকর কথা বললে উনারা প্রতিবাদ করেন না। অনেক সময় হাতে পায়ে ধরে কোন বিবৃতিতেও তাদের স্বাক্ষর পাওয়া যায় না। অথচ শুধু এই একটা বিষয়ে উনারা এমন সরব হয়ে উঠলেন কেন? ব্যারিস্টার মইনুল অন্য পক্ষের বলে? তিনি ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত আছেন বলে? প্রশ্ন উঠেছে, বগুড়ায় যখন যুবলীগ নেতা তুফান এক সাথে মা এবং মেয়েকে ন্যাড়া করে শহরে ঘোরায় তখন কোথায় ছিলেন এসব ব্যক্তি এবং এসব নারীবাদী? ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মুখে কটূক্তি করলে নারীর অপমান  হয়, আর যুবলীগ নেতা যখন মা মেয়েকে ন্যাড়া করে তখন নারীত্বের অপমান হয় না?
কোটা আন্দোলনের সময় যে মেয়েটিকে ছাত্রলীগ অপমান করলো, যার শরীরে হাত দিল , এমনকি তার স্তনেও হাত দিল, তখন এসব প্রতিবাদীরা কোথায় ছিলেন? সেই মেয়েটিকে থানায় নিয়ে গিয়ে যখন আরও যৌন হেনস্থা করা হলো তখন এরা কোথায় ছিলেন?  প্রতিবাদের জন্য তখন এরা ডাকলেও আসেননি। একই গাছে পান সুপারি, একই গাছে চুন- তা কি কখনো হয়? সুতরাং বেচারা মাসুদা ভাট্টি নিজ থেকেই দলীয় রাজনীতির খপ্পরে স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছেন। সুতরাং এখন উভয়পক্ষেই নতুন নতুন কথা উঠছে।
যে টিভিতে ‘মইনুল-মাসুদা ভাট্টি’ অপ্রীতিকর বিতর্ক হয়েছে সেই টিভির টকশোতে ডা. সাখাওয়াত শায়ন্ত বলেন, নারী নেত্রী-বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিকদের কয়েকজন নারী সাংবাদিকের মানহানির অভিযোগে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ক্ষমা চাইতে বলছেন। নারীর সম্মান রক্ষায় তারা উদগ্রীব। অথচ শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বই মেলাসহ বিভিন্ন যায়গায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে বহু নারী, ছাত্রী নির্যাতিত হয়েছে; সচিত্র সে খবর মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে; অথচ তখন এরা নীরব ছিলেন; প্রতিবাদ করেননি। এদের কাছে কী ঐ সব-নারীর সম্মানহানী অমর্যাদকর মনে হয়নি? 
৭১ টেলিভিশন এবং সেই সুবাদে আওয়ামী ঘরানা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান এবং মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর টকশো বিতর্কের কথা। মাসুদার বিরুদ্ধে মইনুল যে ভাষা ব্যবহার করেছেন সেটি ছাপার অক্ষরে লেখা যায়। কিন্তু শামীম ওসমান সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে যে কুৎসিৎ ভাষা প্রয়োগ করেছিলেন সেটি লেখার অযোগ্য বলে আমি আর উল্লেখ করলাম না। লজ্জায় অপমানে সেদিন সেলিনা আইভী টকশো ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেদিন কোথায় ছিলেন নারীর সম্মান রক্ষার এই সব যোদ্ধা ? আওয়ামী লীগ হলে সাত খুন মাফ, আর আওয়ামী বিরোধী হলে ফুলের  আঘাতও নারীর সম্মান হানি করে। এক যাত্রায় কি দ্ইু ফল হয়? তসলিমা নাসরিনকে বুড়ি বেশ্যা বলার পরেও প্রতিবাদ হয়নি কেন? জাতীয় সংসদের মতো দেশে ক্ষমতার সর্বোচ্চ  প্রতিষ্ঠানের ফ্লোরে যখন কোনো নারী সদস্যের মুখে ‘চুদুর বুদুর’ শব্দ দুটি উচ্চারিত হয় তখন  এসব  নারীবাদীরা কোথায় থাকেন?
॥তিন॥
মাসুদাকে নিয়ে যে ঝড় সৃষ্টি করা হয়েছে সেটি যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হচ্ছে সিনিয়র মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কথায়। তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ব্যারিস্টার মইনুল বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজনীতি করেন। ব্যারিস্টার মইনুল ২০০৫ সালে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের অনুষ্ঠানে গিয়ে সেই দলের ও কর্মীদের প্রশংসা করেছিলেন।
যে লোক ’৭১ এর খুনি, লুণ্ঠনকারী, ধর্ষকদের প্রশংসা করতে পারে, ’৭৫ এর খুনিদের সঙ্গে রাজনৈতিক আঁতাত করতে পারে, সে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহীন।’ সুতরাং ইস্যুটি এখানে মাসুদা নয়, ইস্যুটি  ১০০ ভাগ রাজনৈতিক।
এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। রিজভী বলেছেন, ‘ সরকারের ‘উচ্চ মহলের’ নির্দেশেই ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিজভী বলেন, রাতে কোর্ট বসিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এটা সকলের কাছে পরিষ্কার। কারণ গতকাল (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী যখন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, মইনুল হোসেন একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আরো মামলা করেন, বাকিটা আমরা দেখছি।
এই ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হল, তাকে গ্রেপ্তার করা হল। তার এই গ্রেপ্তার বেআইনি। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে আমরা তার মুক্তি দাবি করছি।’ বলেছেন রিজভী আহমেদ।
আর শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ৫ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এটা মানতেই হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই গ্রেফতার। অথচ যে কারণে তাকে গ্রেফতার করা হলো সেই কারণ আদালত আমলে নিয়ে তাকে পাঁচ মাসের জামিন দিয়েছিল’।
এর মধ্যে দৃশ্যপটে এসেছেন তসলিমা নাসরিন। মাসুদা ভাট্টির ব্যাপারে তসলিমা নাসরিনের  অভিযোগ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে গেছে। তাই তার অভিযোগের পুনরাবৃত্তি এখানে আমি করলাম না। তাই বলে কেউ ভাববেন না যে তসলিমাকে আমরা সমর্থন করছি। কিন্তু তসলিমা মাসুদা ভাট্টির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সেই সব অভিযোগের জবাব দিচ্ছেন না কেন মাসুদা? যে যুক্তির ওপর ভিত্তি করে মাসুদা প্রথমে ব্রিটিশ রাজনৈতিক আশ্রয় বা এ্যাসাইলাম পান এবং যে এ্যাসাইলামের পর তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান সেই যুক্তি বা ঘটনা যে ডাহা মিথ্যা  সেটি কিভাবে অস্বীকার করবেন মাসুদা? তসলিমার প্রতিটি বইয়ে লিপিবদ্ধ আছে কে তার বইয়ের পাবলিশার। তসলিমার একটি বইও পাবলিশ করেননি মাসুদা। তাহলে তিনি কিভাবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে বললেন যে তিনি যেহেতু তসলিমার বই প্রকাশ করেছেন তাই তিনি বাংলাদেশে গেলে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে? এত বড় ডাহা মিথ্যা কথা বলে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েছেন। মিথ্যাচার  যদি তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকে তাহলে তার চরিত্র  (নৈতিক চরিত্র নয়) প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে কিভাবে?
॥চার॥
মাসুদা বলেছেন, বল তার কোর্ট থেকে বেরিয়ে গেছে। সত্যিই তার হাতে আর বলটি নাই। তাই এখন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো আইনগত প্রশ্ন উঠে এসেছে। এগুলো হলোঃ
(১) একটা অভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা হয় না। বিশেষ করে বাদী নিজে সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করার পরে একই অভিযোগে অন্যদের মামলা দায়েরের কোন যুক্তি থাকতে পারে না। আদালত আগে দায়ের করা মামলাগুলো জুডিশিয়াল নোটিশে নিতে পারতো। না নিলে, নিজে অন্তত মামলা আমলে নেয়ার আগে তদন্তের আদেশ দিতে পারতো সিআরপিসি সেকশন ২০২ অনুসারে।
(২) মামলা আমলে নিলেও গ্রেফতারী পরোয়ানা না দিয়ে আসামীকে হাজির হওয়ার জন্য সমন দিতে পারতো আদালত। মানহানির মতো খুব লঘু একটি ফৌজদারী অপরাধে একবারে গ্রেফতারী পরোয়ানা দেয়ার নজীর আদৌ আছে কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে।
(৩) পেনাল কোডের ৫০০ ধারার অধীন মানহানি মামলা একটি জামিনযোগ্য অপরাধ। এমন একটি অপরাধে জামিন মঞ্জুর হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক হতো। এসব বিবেচনায় নিলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিচার স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না মনে হতে পারে যে কারোর।”
(৪) ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন যে দলীয় রাজনীতি এবং সেই সুবাদে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার সেটি তার প্রথম দিনের কারাবাস জীবন থেকেই বোঝা যায়। পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবর মোতাবেক তাকে ৪০ ব্যক্তির সাথে একঘরে মেঝের ওপর থাকতে দেওয়া হয়েছে। তাকে কেন ডিভিশন দেওয়া হয়নি? তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হন। বছরের পর বছর ধরে দৈনিক ইত্তেফাকের মতো একটি প্রাচীন এবং নামকরা কাগজের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন তিনি। বর্তমানেও তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ নেশনের’ সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি। এত ক্রিডেনশিয়াল থাকা সত্ত্বেও তাকে ৪০ জনের সাথে মেঝেতে শুয়ে থাকতে হলো। প্রতিশোধপরায়ণতার বড় নজীর এর চেয়ে আর কি হতে পারে? 
আমি আগেই বলেছি, বল আর মাসুদার কোর্টে নেই। বিষয়টি যখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে তখন সব মীমাংসা আদালতেই হবে। ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি আদালতে মইনুল হোসেনের পক্ষে দাঁড়াবেন। মইনুলের পক্ষে দাঁড়াবেন তার মামা এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। প্রয়োজন হলে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সমস্ত জাঁদরেল আইনজীবী মইনুলের পক্ষে লড়বেন। মাসুদা এখনও বুঝতে পারেননি যে, ৭১ টেলিভিশন তাকে দিয়ে ভিমরুলের চাকে ঢিল মারিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন মাসুদাকে নিয়ে অনেক কথা লেখা হচ্ছে। অনেক অজানা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমি একজন রুচিশীল মানুষ। আমি সতর্কভাবে ঐসব তথ্য পরিহার করেছি। কিন্তু আদালতের মুখ কি চেপে রাখা যায়? একজন নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হোক, সেটাই আমি চাই। কিন্তু মইনুলের বিরুদ্ধে একটি নয়, দুটি নয়, ১০টি মামলা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি তো একটিই। ঐ একটি শব্দ। তার জন্য ১০ টি মামলা?
 ধিকি ধিকি আগুনে বাতাস দেওয়ার লোকের অভাব নাই। কিন্তু নারীকে সম্মান এবং মর্যাদা দেওয়ায় আমি বিশ্বাসী। তাই তাকে অনুরোধ করছি, আপনি দুই ক্ষমতাবান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের রশি টানটানির খোরাক হবেন না। কেউ জিতবে না। মাঝখানে রশিটি ছিঁড়ে যাবে। এখনো সময় আছে, এই খেলা থেকে আপনি বেরিয়ে আসুন। দাবার ঘঁটি আর হবেন না।
Email: asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ