ঢাকা,মঙ্গলবার 30 October 2018, ১৫ কার্তিক ১৪২৫, ১৯ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকার : জামায়াতের প্রকৃত অবস্থান

সম্প্রতি বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য জামায়াত সার্কেল ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে বলে মনে হয়। বলাবাহুল্য, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে আওয়ামী দুঃশাসনের এই লগ্নে সর্বত্র, হাটে-মাঠে-ঘাটে, টকশো’তে, পত্র-পত্রিকার আলোচনা-সমালোচনা, ক্ষমতাসীনদের অন্দর মহলসহ সভা-সমাবেশে জামায়াত-শিবির অনেকের নিত্যচর্চার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। জামায়াতকে কেউ স্মরণ করেন ভয়ে আবার স্মরণ করেন উৎসাহ-উদ্দীপনার উৎস হিসেবে রাজপথের সাহসী যোদ্ধার ভূমিকা পাবার আশায়। জামায়াত-শিবির কর্মীদের অনেকেই নিঃস্বার্থ ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক বলে মনে করেন। আবার সরকার ও তার বশংবদ, যারা তাদের উপর সবচেয়ে বেশি জুলুম করেছে তারা, তাদের ভয়ে অস্থির। তারা মনে করে যে, জামায়াত তাদের উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ওঁৎ পেতে বসে আছে। এদের ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য তারা যে কোনও সুযোগ গ্রহণ করবে। মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে তারা ভেবেছিলেন যে, জামায়াত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু যখন দেখলেন, না শেষ হয়নি তখন জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। নীতি ও আদর্শহীন অনেক দল ও গোষ্ঠী এই কাজে তাদের শরীক হয়েছেন। আবার দেশপ্রেমিক মহলের বৃহত্তর অংশ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে জামায়াতের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন। তারা মনে করছেন যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিধ্বংসী যে খেলা শুরু করেছে তার অবসান এবং সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি পূরণের সম্ভাব্য আন্দোলনে এককভাবে অন্যান্য দল সামাল দিতে পারবে না, জামায়াত প্রয়োজন। এই অবস্থায় বিবিসির সাথে জামায়াত মহাসচিবের সাক্ষাৎকারটি সময় উপযোগী প্রমাণিত হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে ডা. শফিক যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলো হচ্ছে:
১) আমরা হারিয়ে যাইনি, সময়ের হিসাব করেই আগাচ্ছি।
২) জামায়াতে ইসলামী থেমে যাওয়ার দল নয়, দমে যাবার দল নয়।
৩) জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শ বাস্তবায়নে আপোসহীনভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
৪) নিবন্ধন এবং প্রতীক দু’টাই যদি আমরা না পাই তারপরও জামায়াতে ইসলামী সক্রিয়ভাবে এবং প্রত্যক্ষভাবেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকবে ইনশাআল্লাহ।
৫) ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবো। কিন্তু আমাদের কর্মসূচির পদ্ধতি হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ।
৬) আমরা এখনই জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নেয়ার স্বপ্ন দেখি না। কিন্তু নির্যাতিত মানবতা মুক্তি পাক সেই স্বপ্ন আমরা দেখি।
৭) শিকি শতাব্দীর ভেতরেই এদেশে বড় ধরনের একটা পরিবর্তন হবে, ইনশাআল্লাহ।
ডা. শফিকের কথার মধ্যে কোন মারপ্যাচ নেই, অত্যন্ত সোজাসাফটা। তিনি পজিশন-অপজিশন সকলের কাছেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে মনে হয়। আসলে কপট চরিত্র নিয়ে জামায়াত রাজনীতি করে না। যারা মনে করেন মিথ্যা বলা বা প্রতারণা ছাড়া রাজনীতি হয় না, জামায়াত তাদের দলভুক্ত নয়। জামায়াত প্রমাণ করেছে যে, সততা দিয়েও সার্থকভাবে রাজনীতি করা যায়, মন্ত্রণালয়ও চালানো যায়। তাদের দু’জন মন্ত্রী পাঁচ বছর ধরে তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলপ্রীতি, পরিবারপ্রীতি তাদের স্পর্শ করতে পারেনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জন্ম ১৯৭৯ সালে। জন্মের পূর্বে তারা ইসলামী গণতান্ত্রিক লীগ বা আইডিএল নামীয় একটি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এই বছরের প্রথম দিকে সংসদ নির্বাচনে আইডিএলের হয়ে ১৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত ৭৬টি আসনে নিজ নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১০টি আসনে জয়ী হয় এবং পার্লামেন্টারী পার্টি হিসেবে স্বীকৃতির যোগ্যতা লাভ করে। এই বছর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত স্বীকৃতিও লাভ করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ২২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮টি আসনে জয়লাভ করে এবং এই বছর কোনও প্রকার মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করে বিনা স্বার্থে সরকার গঠনে বিএনপিকে সমর্থন দেয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদে জামায়াতের এমপির সংখ্যা ছিল ৩ এবং ২০০১ সালে তা আবার ১৭তে উন্নীত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের দু’জন এমপি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে জামায়াতের নেটওয়ার্ক রয়েছে। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ৩০৯ উপজেলায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৯২ হাজার ১২৯ ভোট পেয়েছে। জাতীয় সংসদের এমপি, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এমনকি সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও জামায়াতের প্রতিনিধিরা কাজ করেছেন, মানুষের সেবা করেছেন। মানুষ তাদের চেনে, চাঁদাবাজিতে তারা নেই, তারা ঘুষ খান না, অনৈতিক কাজে তারা নেই এবং এসব অন্যায় কাজে কারা আছেন দেশের মানুষ জানেন। কিন্তু তথাপিও জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের শেষ নেই।
এই দলটি ক্ষমতালিপ্সু কিংবা বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা লাভের আশায় বা নেশায় রাজনীতি করে না। শুধু এই উপমহাদেশে নয় সারা বিশ্বে নির্ভেজাল তৌহিদপন্থী একটি দল হিসেবে জামায়াত সুপরিচিত। বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবজাতির কল্যাণ সাধনের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত দ্বীন কায়েমের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন সাফল্য অর্জন করাই জামায়াতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য তারা নেতা-কর্মীদের ব্যাপক শিক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন এবং কুরআন সুন্নাহ ইসলামী আইন ও তার ভিত্তিতে আকীদা বিশ্বাস ও চরিত্র গঠনে দলটি অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি এই দলের সামগ্রিক কর্মকা-ের একটি অংশ মাত্র। বাংলাদেশ সরকারও এ সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন। ইসলামী বিশ্বাস এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব পরিহার না করার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে এবং এই দলটির ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চলছে। তাকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য মিথ্যা ও বানোয়াট মানবতা বিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত করে এই দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিচার করা হয়েছে এবং হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একাধিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে এবং পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। জাতিসংঘ, মানবাধিকার কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশন, ইইউ পার্লামেন্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটি, বৃটিশ পার্লামেন্টসহ সকল আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই বিচারের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে এই বিচার রাজনৈতিক এবং আইন ও বিচারের আন্তর্জাতিক সকল মানদ-ের পরিপন্থী। তারা এই বিচারকে মানসম্মত করার জন্যে বেশ কিছু সুপারিশমালাও সরকারের কাছে পেশ করেছেন। কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেননি। ফলে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু সরকার প্রতিবাদের সকল পথ তাদের জন্য রুদ্ধ করে দিয়েছেন। তাদের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণ মিছিল এবং মানববন্ধন করে প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। সরকার বিক্ষোভরত জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের দেখামাত্র গুলীর নির্দেশ দিয়েছেন। এই গুলীতে ও নির্যাতনে এ যাবত জামায়াত-শিবিরের পাঁচ শর্তাধিক নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। এই নির্দেশ ও গুলী করে মানুষ হত্যার ঘটনা ইতঃপূর্বে আর কখনো ঘটেনি। পুরো বিচার প্রক্রিয়াটাই এখানে প্রশ্নবিদ্ধ এবং এই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কারণেই জামায়াত শিবিরের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে অস্ত্র দিয়ে দমন করতে গিয়ে সরকারই সন্ত্রাস করছেন এবং তার দায় জামায়াতের ওপর চাপাচ্ছেন। জামায়াত ও সারাবিশ্ব এর বিরোধিতা করছে।
জামায়াতকে ২০ দলীয় জোট থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য এখন তাকে নন্দঘোষ বানানোর সকল পন্থা কাজে লাগানো হচ্ছে। পত্রিকাগুলো, বিদেশী সংস্থা এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আর্ন্তজাতিক মহলের বাংলাদেশ সংক্রান্ত মন্তব্য ও পরামর্শসমূহকে বিকৃত করে প্রচার করছে। বলা হচ্ছে তারা বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের দৃষ্টিতে জামায়াত বিএনপি জোটে থাকার কারণেই বিএনপি দেশের জন্য কিছু করতে পারছে না। দলটি খুবই ভালো এবং তারা দেশ ও জাতিকে অনেক কিছুই দিতে পারে। বিএনপি নেত্রীকে যখন অত্যন্ত অপমানকরভাবে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলো, তার ছেলেদের উপর নির্মম অত্যাচার চলল, এমনকি মৃত আত্মীয়াকে দেখার ব্যাপারেও একে-অপরের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হলো না, বিএনপির দফতরকে কারাগার বানানো হলো, বন্ধ করে দেয়া হলো, বিএনপি নেতাদের গ্রেফতারের জন্য মই বেয়ে দোতলায় উঠে অফিস তছনছ করে ডাকাতির আসামীর ন্যায় তাদের থানায় নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হলো, তাদের সকল নাগরিক ও গণতান্ত্রিক এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলো, তখন এসব সুহৃদরা কোথায় ছিলেন- আমি জানি না। তবে এসব ঘটনা ইতিহাসে কালো অক্ষরে লেখা থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। ২০ দলীয় জোট একটি নির্বাচনী জোট। এই জোটে থাকা না থাকাটা শরিক দলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আবার যারা বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার কথা বলেন, তারা হয়তো জানেন না যে, ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর কোনটিই কারুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই জোটে অংশ নেয়নি। আবার কারুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দিয়ে এই জোটে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেয়নি। জামায়াত পরনির্ভরশীল কোনও দলও নয়। জামায়াতকে নিয়ে বর্তমানে যে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে এই বিতর্ক আদর্শিক ও রাজনৈতিক। ইসলামের বিরুদ্ধে ইসলাম বিদ্বেষীদের দ্বন্দ্বের একটি অধ্যায় মাত্র। এখানে তারা সকল প্রকার মিথ্যাচারকে ব্যবহার করছে। এতে অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যাগুমের ঘটনা ঘটছে। ঈমানদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিন্তু তাদের ঈমানী শক্তি দুর্বল হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন সরকারের ধারাবাহিক সকল অপকর্মের উপর থেকে দেশ-বিদেশের মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে হয়তো এ যাবত সংখ্যালঘুদের ওপর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা হবে, তাদের বাড়িঘর, দোকানপাট লুট করা হবে, অগ্নিসংযোগ করা হবে । মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হবেন। এর দোষ চাপানো হবে জামায়াত-শিবিরের ওপর। এদেশে কারা লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণে পারদর্শী দেশবাসী সে সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন। বিভিন্নস্থানে এসব অপকর্ম ও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের দায়ে এর আগে যারা ধরা পড়েছেন, পুলিশে হস্তান্তরিত হয়েছেন তাদের সিংহভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। জামায়াতের কেউ নন। কিন্তু দোষটা দেয়া হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের ওপর। সংখ্যালঘু সংস্থাগুলো এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরাও একথা স্বীকার করেছেন যে, জামায়াত তাদের ওপর অত্যাচার করছে না। কিন্তু গোয়েবলস-এর নাতিপুতিদের নিয়ে গঠিত আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে বার বার এর প্রতিবাদ করা হয়েছে। তারা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
জামায়াতের মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান পরিষ্কার বলেছেন যে, সংখ্যালঘুরা আওয়ামী সরকারের নোংরা রাজনৈতিক খেলার নির্মম শিকার। তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কমিশন গঠন করে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানোর পাশাপাশি গত ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তায় সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। আসলে সরকার ভোটারবিহীন নির্বাচনে ‘জয়ী’ হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে যে ছক তৈরি করেছেন তা বাস্তবায়নের পথে যাতে কোনও রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে না পারে এবং আন্দোলন দানা বেঁধে না উঠে তা নিশ্চিত করার জন্যই নিজের অপকর্ম বিরোধীদের ঘাড়ে চাপিয়ে ব্যাপক হারে মামলা দিয়ে আন্দোলন ঠেকাতে চাচ্ছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় জামায়াত এখন তাদের পথের কাঁটা, এই কাঁটা দূর করাই তাদের জামায়াত বিরোধিতার মূল কারণ। আরেকটি কারণ হচ্ছে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি জামায়াতের নিষ্ঠা ও অঙ্গীকার। তাদের এই অঙ্গীকার শাসক গোষ্ঠী ও ভারত কারোরই পছন্দনীয় নয়।
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার শাহাজাহান ওমর বীরোত্তম কিছুদিন আগে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে যথার্থই বলেছেন “আওয়ামী লীগ এবং মিডিয়া জামায়াতের বিরুদ্ধে লেগেছে, কারণ জামায়াতই একমাত্র সুসংগঠিত দল যে ভারতীয় প্রভূত্ব কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। আমি অনুভব করি যে, আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে এই দলের টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি। ভারত আমাদের সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, লেখক এবং সেনাবাহিনীর কিছু লোককে কিনতে পারলেও জামায়াতকে কিনতে পারেনি।” ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের ভাষায়-
‘জামায়াত শিবির মার খাচ্ছে, কিন্তু অস্ত্র হাতে নেয়নি, বুলেটের জবাব তারা ইট-পাটকেল দিয়ে দিচ্ছে।’ কথাগুলো অসত্য নয়।
আমার বিশ্বাস, যদি আমাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা জামায়াতকে নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে সরকারি দলের লাগামহীন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, হত্যা, গুম, ঘুষ রিসওয়াত, অনৈতিক কর্মকান্ড- এবং  সীমাহীন লোভ-লালসার বিরুদ্ধে কথা বলতেন এবং তাদের ঘৃণা করতেন তাহলে দেশ অনেক এগিয়ে যেতে পারতো। হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়া অনেক সহজ হতো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ