ঢাকা,বুধবার 31 October 2018, ১৬ কার্তিক ১৪২৫, ২০ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খাসোগিকে হত্যার নির্দেশদাতাদেরও বিচার দাবি বাগদত্তা হেতিসের

শোক সভায় বক্তব্য প্রদানকালে হেতিস চেঙ্গিস

৩০ অক্টোবর, আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট, মিডিল ইস্ট মনিটর : ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক জামাল খাসোগির লাশ ফেরত চেয়েছেন তার বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। খাসোগির লাশের তথ্য প্রকাশের জন্য তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে দাবি জানান। আর খাসোগির হত্যাকারীদের পাশাপাশি হত্যার নির্দেশদাতাদেরও শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। গত সোমবার লন্ডনে খাসোগির আয়োজনে শোকসভায় আবেগঘন বক্তব্যে এসব কথা বলেন হেতিস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।

তুর্কি বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছানির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর সৌদি জানায়, কনস্যুলেটের মধ্যেই গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাদের দাবিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলবশত তার মৃত্যু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা মিডলইস্ট মনিটর ও আল শার্ক ফোরাম জামাল খাসোগিকে নিয়ে সোমবার লন্ডনে একটি শোকসভার আয়োজন করে। ওই সভায়ই বক্তব্য দেন তার বাগদত্তা হেতিস। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তার (খাসোগির) লাশ কোথায় আছে সৌদি আরব তা জানে। তাদের আমার দাবির জবাব দেওয়া উচিত। এটা শুধু একজন বাগদত্তার দাবিই নয়, এটা একটি মানবিক ও ইসলামি দাবিও’।

হেতিস চেঙ্গিস তুরস্কের বাইরে এই প্রথম কথা বললেন। খাসোগির হত্যাকা- যাতে ধামাচাপা না পড়ে সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি। হেতিস বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। যারা আমার প্রিয় জামালকে হত্যা করেছে শুধু তারাই নয়, যারা এর সংগঠন করেছে ও যারা নিন্দেশ দিয়েছে, সবার বিচার চাই। এটা শুধু আমারই দাবি নয়। লাখ লাখ মানুষ এই দাবি করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমি রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা দেখতে চাই’।

চারমাস আগে তুরস্কের শিক্ষক হেতিসের সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন করেন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার সময় হেতিসকে বাইরে রেখে যান খাসোগি। সেই কথা মনে করে হেতিস বলেন, ‘আমি যদি জানতাম কী ঘটতে যাচ্ছে, তাহলে আমি নিজেই কনস্যুলেটে ঢুকতাম। যদি আমি শুধু জানতাম সেখানে রক্তপিপাসু লোকজন আছে, কনস্যুলেটের মধ্যে শয়তান লোকগুলো আমার জামালের জন্য অপেক্ষা করছে, তাকে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য যা করা দরকার তার সবই আমি করতাম।’

হেতিস বলেন, খাসোগির মৃত্যুতে তার জীবনে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বক্তব্যে খাসোগিকে সৌদি আরবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য হওয়া ‘শহীদ’ বলেও অভিহিত করেন তিনি। খাসোগি হত্যাকাণ্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে হেতিস বলেন, ‘সারাবিশ্বের মানুষ আমার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমি অনেক দেশের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট।’ তিনি আরও বলেন, ‘ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সত্য উন্মোচন করা আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত। আমার বাগদত্তার হত্যাকা- ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া তার উচিত হবে না। অর্থ যাতে আমাদের বিবেককে কলঙ্কিত করতে না পারে আর আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে যেন আপস করতে না হয়।’

সৌদীর রাসায়নিক অস্ত্র তথ্য ফাঁস করতে চেয়েছিল : যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে সৌদি আরব যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য ছিল সাংবাদিক জামাল খাসোগির কাছে। সেই তথ্য তিনি বিশ্বের দরবারে ফাঁস করতে চেয়েছিলেন। খাসোগির ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু গত শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসকে এ কথা জানিয়েছেন।খাসোগির ওই বন্ধু সংবাদমাধ্যমকে জানান, খুন হওয়ার এক সপ্তাহ আগে খাসোগির সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। তাকে (খাসোগি) উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। আমি যখন তাকে বললাম তুমি চিন্তিত কেন, সে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল না; কিন্তু পরে বলল যে, সে সৌদি আরব যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার প্রমাণ পেতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্পর্শকাতর এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে খাসোগিকে খুন করা হতে পারে।সম্প্রতি ইরান দাবি করেছিল, ইয়েমেনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে সৌদি। ইরানের দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত বিষাক্ত সাদা ফসফরাস ইয়েমেন যুদ্ধে সেনা ও সাধারণ নাগরিকের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, যে কোনোভাবেই রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হোক না কেন, তা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ বে আইনি। উল্লেখ্য, ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি দূতাবাসে খাশোগিকে নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়। এ পর্যন্ত তার লাশ কোথায় সেটাও জানা যায়নি। সৌদি আরব ‘ গোয়েন্দাদের’ ওপর দোষ চাপিয়ে দেশটির প্রভাবশালী যুবরাজকে রেহাই দিতে চাইছে। এ ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সৌদি প্রসিকিউটর তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ৭৫ মিনিট সেই বৈঠক চললেও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ